বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট ২০২২, ৩ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বিদেশের বিভিন্ন দূতাবাসে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উদযাপন

আপডেট : ২৭ জুন ২০২২, ০০:১৫

বহুল প্রতীক্ষিত কোটি মানুষের স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার (২৫ জুন) সকাল পৌনে ১২টায় মাওয়া পয়েন্টে টোল পরিশোধের পর ১২টায় উদ্বোধনী ফলক ও ম্যুরাল-১ উন্মোচনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করেন তিনি। সারাদেশের পাশাপাশি বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উদযাপন করেছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত দূতাবাসগুলো।

নয়াদিল্লি, ভারত

নয়া দিল্লিস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশনে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উদযাপন করা হয়েছে। অত্যন্ত উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে ভারতের নয়া দিল্লিস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশন ঐতিহাসিক পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উদযাপন করেছে। শনিবার (২৫ জুন) স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় হাই কমিশন প্রাঙ্গণে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

রোম, ইতালি

ইতালিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস পদ্মা সেতু উদ্বোধনের ঐতিহাসিক মুহূর্ত উদযাপন করেছে। পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের সঙ্গে সংগতি রেখে বাংলাদেশ দূতাবাস, রোম স্থানীয় সময় সকাল পৌনে ৬টায় দূতাবাস প্রাঙ্গণে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

উৎসবমুখর ও আনন্দঘন এ অনুষ্ঠানে ইতালিতে বসবাসরত প্রবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, নারী নেতৃবৃন্দ, মিডিয়াকর্মীসহ দূতাবাসের সব কর্মকর্তা-কর্মচারিগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত সবাই প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সরাসরি সম্প্রচার উপভোগ করেন। অনুষ্ঠান শেষে পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে নির্মিত গান (থিম সং) এক উৎসবের আমেজ তৈরি করে।

ওয়াশিংটন ডিসি, যুক্তরাষ্ট্র

ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে জাতির দীর্ঘ প্রতিক্ষিত স্বপ্নের পদ্মা সেতুর জাকজমকপূর্ণ উদ্বোধন উদযাপন করেছে। এ উপলক্ষে শুক্রবার রাতে দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে বাংলাদেশে পদ্মা সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

আলোচনায় অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. সহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডেপুটি চীফ অব মিশন ফেরদৌসী শাহরিয়ার। বিশেষ অতিথি হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট জুনাইদ কামাল আহমেদ এবং নর্থ ক্যারোলিনা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. এবিএম নাসির। 

এছাড়া শনিবার (২৫ জুন) ওয়াশিংটন ডিসির অদূরে ভার্জিনিয়ার ভিয়েনা শহরে বঙবন্ধু ফাউন্ডেশন বৃহত্তর ওয়াশিংটন ডিসি জাকজমকভাবে উদযাপন করেছে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্ভোধনী অনুষ্ঠান। কোরআন থেকে তিলওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। তারপর জাতিয়  সংগীত পরিবেশন করা হয়। আলোচনা অনুষ্ঠানে বৃহত্তর ওয়াশিংটন ডিসি বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি আলাউদ্দিন আহমেদর সভাপত্বিতে ও সাধারণ সম্পাদক খালেদা আক্তারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গঁবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি ড. খন্দকার মনসুর। বিশেষ অথিতি ও প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বনামধন্য সাংবাদিক, বিশিষ্ট কবি,সাহিত্যিক ভয়েস অব আমেরিকা বাংলা বিভাগের হেড অব নিউজ আনিস আহমেদ, এবং যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বিসিসিডিআই বাংলা স্কুলের প্রিন্সিপাল শামিম চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়া করিম, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বৃহত্তর ওয়াশিংটন যুবলীগের সভাপতি দেওয়ান আরশাদ আলী বিজয়, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের আইন বিষয়ক সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুজ্জামান স্বপন, বৃহত্তর ওয়াশিংটন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বৃহত্তর ওয়াশিংটন ডিসি বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের ট্রেজারার জাহিদ হোসেন। বৃহত্তর ওয়াশিংটন ডিসি বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সরকার, যুগ্ম সম্পাদক হাসনাত সানি।

স্টকহোম, সুইডেন

উৎসবমুখর পরিবেশে স্টকহোমে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উদযাপন করা হলো। এ উপলক্ষে দূতাবাস প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রদূত মেহদী হাসান। 

এদিন অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠ করা হয়। পরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ, এ উপলক্ষে নির্মিত থিম সং ও বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

টোকিও, জাপান

যথাযথ মর্যাদা ও উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উদযাপন করেছে টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। বাংলাদেশের জনগণের স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধনের ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণকে স্মরণীয় করে রাখতে দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু হলে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর রাষ্ট্রদূত জনাব শাহাবুদ্দিন আহমদ। জাপানে বসবাসরত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী, দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যগণ আনন্দঘন এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

হ্যানয়, ভিয়েতনাম

ভিয়েতনামের হ্যানয়স্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগেও যথাযথ মর্যাদা ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্যদিয়ে ‘স্বপ্নের পদ্মা সেতুর’ শুভ উদ্বোধন উদযাপন করা হয়েছে। শনিবার (২৫ জুন) ‘পদ্মা সেতুর’ শুভ উদ্বোধন উদযাপন অনুষ্ঠানের শুরুতে, এ উপলক্ষে প্রদত্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর পৃথক বাণী পাঠ করে শোনানো ছাড়াও উদ্বোধন অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। 

‘পদ্মা সেতুর’ উদ্বোধন উদযাপন অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় ভিয়েতনামে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ তার বক্তৃতার শুরুতেই ‘শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। যার নেতৃত্ব ও দিক নির্দেশনায় অর্জিত হয় আমাদের মহান স্বাধীনতা।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে স্মরণীয় করে রাখতে দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশীরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

উৎসাহ -উদ্দীপনায় পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের ঐতিহাসিক মুহূর্তের সরাসরি স্বাক্ষী হলেন সিঙ্গাপুর প্রবাসীরা

বিপুল উৎসাহ -উদ্দীপনায় পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের ঐতিহাসিক মুহূর্তের সরাসরি স্বাক্ষী হলেন সিঙ্গাপুর প্রবাসীরা। আজ এই ঐতিহাসিক ঘটনার স্বাক্ষী হতে সিঙ্গাপুরস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে ছিলো বিশেষ আয়োজন। সকালের এই আয়োজনে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ঘাটে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটির সরাসরি সম্প্রচার বড় পর্দায় প্রদর্শনের ব্যবস্থা করে হাইকমিশন। 

সকাল থেকেই সিঙ্গাপুরে বসবাসরত বাংলাদেশী কমিউনিটির সদস্যদের সরব উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে ওঠে হাইকমিশনের অডিটোরিয়াম। সরাসরি সম্প্রচারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আবেগঘন ভাষণের সময় মুহূর্মুহু হাততালি আর শ্লোগানে তারা অভিনন্দিত করেন এই মহতী অর্জনের প্রধান কুশীলবকে। 

সম্প্রচার শেষে মিশনে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কোভিড মহামারীসহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতাকে উপেক্ষা করে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মত একটি মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়নের সাফল্যকে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা বলে আখ্যায়িত করেন আলোচকেরা।  এদেশে নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর হাইকমিশনার মো. তৌহিদুল ইসলাম এনডিসি তার বক্তব্যের শুরুতেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়ণে নির্মিত এই সেতু বাংলাদেশের প্রান্তিক অঞ্চলসমূহকেও চলমান উন্নয়ন অগ্রযাথায় শরীক হতে সাহায্য করবে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের 'সোনার বাংলা' বিনির্মানে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে দলমত নির্বিশেষে ক্ষুদ্র স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে একযোগে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানান।


সৌদি আরবে আনন্দ উৎসবে পদ্মা সেতু উদ্বোধন উদযাপন

দূতাবাসের কর্মকর্তারা ও উপস্থিত প্রবাসীগণ জয় বাংলা বাংলার জয় গান গাইছেন
সৌদি আরবের রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে নানা আয়োজনে প্রবাসীদের নিয়ে আনন্দ উৎসবে স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে গতকাল দূতাবাসে “পদ্মা সেতু- উন্নয়নের অভিযাত্রায় বাংলাদেশ” শীর্ষক এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এছাড়া দূতাবাসের অডিটোরিয়ামে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়। রিয়াদের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার প্রবাসীরা এতে যোগ দেন। এ উপলক্ষ্যে দুদিনব্যাপি দূতাবাস ভবনকে লাল সবুজ আলোয় সজ্জিত করা হয়।

পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বিপিএম(বার) বলেন, পদ্মা সেতু শুধুমাত্র একটি ইস্পাত, কংক্রিটের সেতু নয় বরং পদ্মা সেতু বাঙ্গালীর অহংকার, পদ্মা সেতু আমাদের গর্ব, আমাদের আত্মবিশ্বাস, মর্যাদা, দক্ষতা এবং সক্ষমতার প্রতীক। এজন্য আজ এ সেতু উদ্বোধন উপলক্ষ্যে দেশের পাশাপাশি বিদেশের সকল মিশনসমূহেও আজকের এ বিশেষ দিনটি উদযাপন করা হচ্ছে। ইতিহাসের পাতায় এ দিনটি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ যেমন সমার্থক, তেমনি উন্নত বাংলাদেশ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ  দুটি নাম ও সমার্থক।
 
রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, জাতির পিতার সোনার বাংলা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল, সাহসী ও দুরদর্শী নেতৃত্বের কারণে আজ স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণ সম্ভব হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শুধু এই পদ্মা সেতু নির্মাণের স্বপ্ন দেখেননি, তিনি পুরো জাতির মাঝে সেই স্বপ্নের বীজ রোপিত করেছেন। আজ সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন হয়েছে তাই বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সৌদি প্রবাসীদের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানান রাষ্ট্রদূত। 
রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় প্রত্যয়, অসম সাহস ও প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাস এর কারণে আজ এই পদ্মা সেতু নির্মিত হয়েছে। আজ থেকে বাংলাদেশের দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চলের ১৯টি জেলার সাথে সারা বাংলাদেশের যোগাযোগের এক নতুন দিগন্ত উম্মোচিত হল, যা এই অঞ্চলের মানুষের জীবনমান বদলে দিবে। এই অঞ্চলের মানুষের ব্যবসা বাণিজ্য, পর্যটনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উম্মোচিত হলো আজ। 

রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতির মিথ্যে অভিযোগ ও বিশ্বব্যাংকের ঋণ বন্ধ করে দেয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের নিজের অর্থে এই সেতু করার ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রীর সে দুরদর্শী সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক ও সময়োপযোগী ছিল তা নিশ্চয়ই এখন সবাই উপলব্দি করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, জাতির পিতা আমাদের বাংলাদেশ উপহার দিয়েছেন আর তাঁর সুযোগ্য কন্যা এই বাংলাদেশকে একটি সোনার বাংলায় উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। শুধুমাত্র পদ্মা সেতুই নয় এছাড়াও মেট্রো রেল, কর্ণফুলী টানেল, পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উচ্চ আয়ের দেশে বাংলাদেশকে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে তিনি কাজ করে চলেছেন। রাষ্ট্রদূত এ সময় প্রবাসীদের বৈধ পথে দেশে রেমিট্যান্স প্রেরণ করে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার আহবান জানান। 

এসময় সৌদি আরবের সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি বিষয়ে কিং সউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর এম এ ওয়াদুদ, রপ্তানী আয় বৃদ্ধি বিষয়ে ব্যবসায়ী এম এ জলিল, প্রবাসীদের রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে ব্যবসায়ী এম আর মাহবুব, পদ্মা সেতু এর অর্থনৈতিক পর্যালোচনা বিষয়ে দূতাবাসের ইকোনমিক কাউন্সেলর মুর্তুজা জুলকার নাঈন নোমান ও দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন বিষয়ে মিশন উপপ্রধান আবুল হাসান মৃধা বক্তব্য প্রদান করেন। এসময় পদ্মা সেতু নিয়ে তথ্যচিত্র ও থিম সং পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন দূতাবাসের প্রথম সচিব (প্রেস) মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম। আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। প্রবাসীরা আনন্দ উৎসবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। 


জেনেভায় সুইজারল্যান্ড আওয়ামী লীগের আনন্দ উৎসব

জেনেভার স্থানীয় এক রেস্টুরেন্টে আলোচনা সভা ও কেক কেটে আনন্দ উৎসব উদযাপনের আয়োজন করে সুইজারল্যান্ড আওয়ামী লীগ

২৫শে জুন শনিবার  উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কতৃক  বাংলাদেশের গৌরব দেশের বৃহত্তম সেতু, স্বপ্নের পদ্মা সেতুর শুভ উদ্ভোধন উপলক্ষে জেনেভার স্থানীয় এক রেস্টুরেন্টে আলোচনা সভা ও কেক কেটে আনন্দ উৎসব উদযাপনের আয়োজন করে সুইজারল্যান্ড আওয়ামী লীগ।

সুইজারল্যান্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল খানের সঞ্চালনায় এবং সংগঠনের সভাপতি জমাদার নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সাবেক উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোজাম্মেল জুয়েল, পলাশ বড়ুয়া, খলিলুর রহমান, সহ-সভাপতি হারুন রশিদ, মশিউর রহমান সুমন, যুগ্ম সম্পাদক মাসুম খান দুলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আকবর আলী, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক সসীম জি. সি, পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক সুমন চাকমা, আইয়ান জুনায়েদ, মো: স্বপন প্রমুখ। 

এসময় বক্তারা বলেন, রাজধানীর সাথে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ টি জেলার  সেতুবন্ধনের হাজার বছরের স্বপ্ন আজ বাস্তবায়িত হয়েছে। সম্পূর্ন নিজস্ব অর্থায়নে, পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্ব ব্যাংকের কাছে সমস্ত দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক চক্রান্ত রুখে দিয়ে  বাংলাদেশের দীর্ঘতম পদ্মা বহুমুখী সেতু  বিশ্বের কাছে আজ বাঙালির গৌরবের ও আত্মমর্যাদার প্রতীক। জননেত্রী শেখ হাসিনার সততা, দৃঢ়তা ও সুদূরপ্রসারী চিন্তাভাবনার সুফল আজ এই পদ্মা বহুমুখী সেতু। বাঙালি জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে চির কৃতজ্ঞ। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সফলতা কামনা করে দোয়া ও মিষ্টি বিতরণ এর মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপনী ঘোষনা করা হয়।

কুনমিংয়ে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠান উদযাপন

 চীনে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠান উদযাপন

বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল কুনমিং, চীনে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠান উদযাপন করা হয়। বাংলাদেশ থেকে টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান কনস্যুলেট জেনারেল এর হলরুমে বড় স্ক্রীনে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়। কুনমিং এ বসবাসরত বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রীরা বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে অনুষ্ঠান উপভোগ করার জন্য কনস্যুলেটে জড়ো হয়। 

কনসাল জেনারেল  এ এফ এম আমিনুল ইসলাম কনস্যুলেটে অনুষ্ঠান উপভোগের জন্য আগত ছাত্র-ছাত্রীদের স্বাগত জানান এবং পদ্মা সেতু নির্মাণের বিস্তারিত তথ্য তাদের সামনে তুলে ধরেন। তিনি বলেন,  এ সেতু নির্মাণের প্রতিটি ধাপে সরকার নানাবিধ চ্যালেঞ্জের সম্মূখীন হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অসীম সাহস, দৃঢ় প্রতিজ্ঞা  ও যোগ্য নেতৃত্বে সরকার সকল বাধাবিপত্তি পেরিয়ে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করেছে। তিনি বলেন, এ সেতু নির্মাণের ফলে বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় যে নবদিগন্তের সূচনা হলো তা দেশের জনগণের জীবনমান উন্নয়নসহ বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্বল করবে।

অনুষ্ঠান শেষে আগত ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়। 

 

ইত্তেফাক/জেডএইচডি