মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা: মহাসড়ক অবরোধ করে জেলেদের বিক্ষোভ

আপডেট : ০৯ জুন ২০১৯, ১৬:০৩

সীতাকুণ্ডে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সাগরে মাছ ধরার সরকারি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবিতে জেলেরা মহাসড়ক দুই ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। আজ রবিবার দুপুর ১টায় চট্টগ্রাম জেলার ডিসির সঙ্গে বৈঠক বসেছে।

আজ রবিবার সকাল ১১টায় সলিম ইউনিয়নস্থ ফৌজদারহাট এলাকায় প্রায় ৪০টি জেলে পাড়ার কয়েক হাজার নারী-পুরুষ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক আবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায় দুই ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে ঈদ শেষে কর্মস্থলে যাওয়া বিভিন্ন যানবাহনের হাজার হাজার মানুষ আটকা পড়েন। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিল্টন রায় ও মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. দেলওয়ার হেসেনের অনুরোধে দুপুর ১২টায় জেলেরা অবরোধ তুলে নিলে যারবাহন চলাচল শুরু হয়।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, মাছ ধরার সরকারি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে পূর্ব ঘোষিত আল্টিমেটাম অনুযায়ী চট্টগ্রাম নগরী থেকে শুরু করে সীতাকুণ্ড উপজেলা পর্যন্ত ৪০টি জেলে পল্লীর লোকজন সকাল থেকে রাস্তার এক পাশে জড়ো হন। পুলিশ এসে তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং সকাল ১০টার দিকে তারা মহাসড়কের দুই পাশে অবস্থান নেন।

আন্দোলনকারী উত্তর চট্টলা উপকূলীয় মৎস্যজীবী জলদাস সমবায় কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি লিটন দাস বলেন, গত ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন সমুদ্র সব ধরনের মাছ আহরণে সরকার নিষেধাজ্ঞা জারি করে। কিন্তু জেলে পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চট্টগ্রামের প্রায় ৫০ হাজার পরিবারের জীবন জীবিকা ধারনের জন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়নি। অথচ তারা মাছ ধরে দৈনিক যা আয় করে তা দিয়ে জেলেরা সংসার চালায়। এখন আড়াই মাস ধরে যদি মাছ ধরা বন্ধ থাকে, তাহলে এতগুলো পরিবার চলবে কিভাবে? তাই সরকারের কাছে অনরোধ জানিয়ে কোনো সাড়া না পেয়ে বাধ্য হয়ে রাস্তায় অবস্থান নেন।সরকার কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না করলে এবং মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করলে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে বলে জেলে নেতারা জানান। 

আরও পড়ুন: গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিলেন নসরুল হামিদ

এর আগে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে মৎস্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে জেলেরা মানববন্ধন করেন। গত ১ জুন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে উত্তর চট্টলা উপকূলীয় মৎস্যজীবী জলদাস সমবায় কল্যাণ ফেডারেশন সংবাদ সম্মেলনও করেন। তারা আরও বলেন, তাদের দাবি পূরণ না হলে তারা আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন। তবে জেলা প্রশাসকের বৈঠকের অনুমতি পাওয়ায় তারা অবরোধ তুলে নেন।এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ডিসির সঙ্গে কি সিদ্ধান্ত হয় তা জানা যায়নি। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিল্টন রায় বলেন, জেলেরা তাদের নিজস্ব কিছু দাবিতে ঘণ্টা খানেকের মতো সড়ক অবরোধ করেন। আমরা তাদেরকে বুঝিয়ে এবং দাবি দাওয়ার বিষয়ে আজকেই ডিসির সঙ্গে বৈঠকের ব্যবস্থা করে দেওয়ায় তারা অবরোধ তুলে নেন।

ইত্তেফাক/কেকে