পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ঘিরে দুই পাড়ে গতকাল শনিবার লাখো মানুষের ঢল নামে। তারা পদ্মা সেতু একনজর দেখার জন্য নদীর দুই পাড়ে এসে ভিড় জমায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেতু উদ্বোধনের পর সেতুতে হাজারো মানুষের ঢল নামে। সাধারণ জনতা বেষ্টনী টপকে সেতুতে উঠে পড়ে। দলে দলে মানুষ হেঁটে সেতুতে ঘুরে বেড়ায়। নিজেকে ক্যামেরাবন্দি করে। অবশ্য এ সময় তাদের বাধা দেননি সেতুতে দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
দুপুরে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে কয়েক জন দর্শনার্থীর সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, ইতিহাসের সাক্ষী হতে পদ্মা সেতুর ওপর সেলফি তুলতে এসেছি। রাইসুল নামে এক যুবক বলেন, ‘পদ্মা সেতু আমাদের অহংকার। দীর্ঘদিন ধরে স্বপ্ন ছিল পদ্মা সেতুতে ওঠার। আজ সে স্বপ্ন পূরণ হলো।’ সিরাজ হাওলাদার বলেন, ‘আসলেই পদ্মা সেতু আমার জন্য অনেক কষ্টের অবসান ঘটাল। এতদিন আমার বাড়ি যেতে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হতো। পদ্মা সেতু হওয়ায় আমার ও আমার মতো দক্ষিণবঙ্গের মানুষের চিরদিনের জন্য কষ্ট দূর হলো।’
যাদের জমি কিংবা আবাসস্থলে গড়ে উঠেছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু প্রকল্প তাদের জন্য সেতুর মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তে নাগরিক মৌলিক সব সুযোগ-সুবিধাসংবলিত পরিকল্পিতভাবে সাতটি পুনর্বাসনকেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের কুমারভোগ ৩ নম্বর পুনর্বাসনকেন্দ্রের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. শাহ আলী বলেন, ‘সরকার আমাদের জমি নিলেও, উন্নত জীবনের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। আজ পদ্মা সেতু উদ্বোধন হয়েছে। আমরা অনেক খুশি।’ কুমারভোগ ৩ নম্বর পুনর্বাসনকেন্দ্রের আরেক বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘পদ্মা সেতু হওয়ায় আমাদের আর নদীভাঙন আতঙ্ক নেই।’ পুনর্বাসনকেন্দ্রের বাসিন্দা রাশিদা বেগম বলেন, ‘আগের চেয়ে এখন অনেক ভালো আছি। ’
