ইত্তেফাক অনলাইনে সংবাদ প্রকাশের পর ৯০ বছর বয়সী সেই চানাচুর বিক্রেতা নজরুল ইসলাম পেলেন পাকা ঘর। প্রতি মাসে পাবেন নগদ টাকাও। এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের প্রতিনিধি হিসাবে ব্যাংকের রংপুর শাখার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট শাহাদাত হোসেন ও সিনিয়র অফিসার মমিনুল ইসলাম ঘর নির্মাণের শুভ উদ্বোধন করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাকা ঘরের ভিত্তি স্থাপন হওয়ায় আনন্দের বন্যা বইছে নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী মজিরন বেগমের পরিবারে। এ দিকে স্বপ্নের পদ্ম সেতুর উদ্বোধনের দিনেই চানাচুর বিক্রেতার বাড়িতে পাকা ঘর নির্মাণের শুভ উদ্বোধন হয়। এই দিনটিকে স্মরণীয় দিন হিসাবে মনে রাখবেন নজরুল ইসলামসহ স্থানীয়রা।
নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী মজিরন বেগম বলেন, ‘ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার স্যার আমাদের মতো গরীব মানুষকে নগদ অর্থ ও পাকা ঘর দেওয়ায় আমরা আজীবন চিরকৃজ্ঞ। আল্লাহ যেন তাকে সবসময় ভালোভাবে রাখেন। তারপরেও আমরা যতদিন বেঁচে থাকবো, তত দিন এই মানুষটির জন্য দোয়া করবো।’
উল্লেখ্য, গত ১২ জুন ইত্তেফাক অনলাইনে ‘৯০ বছর বয়সেও চানাচুর বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন নজরুল ইসলাম’ শিরোনামে একটি নিউজ প্রকাশিত হয়। এটি এক্সিম ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নজরে আসে। তখন তিনি ওই রিপোর্টি গুরুত্বসহকারে পড়েন। এরপর তিনি রংপুর শাখার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট শাহাদাত হোসেনকে চানাচুর বিক্রেতার খোঁজ-খবর নিতে বলেন। গত (১৪ জুন) বিকালে নজরুল ইসলামের বাড়িতে যান এক্সিম ব্যাংকের রংপুর শাখার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট শাহাদাত হোসেন ও সিনিয়র অফিসার মমিনুল ইসলাম।
নজরুল ইসলামের বাড়ি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের সীমান্তঘেঁষা খলিশাকোঠাল গ্রামে। তিনি ওই এলাকার মৃত কাচু শেখের ছেলে। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে। তারা ব্যস্ত নিজেদের সংসার নিয়ে। নেই কোনো আবাদি জমি। গ্রামের সবাই বিদ্যুৎসেবা পেয়ে থাকলেও অর্থের অভাবে বিদ্যুৎসেবা থেকে বঞ্চিত এই বৃদ্ধ। বছরের পর বছর কুপির আলো দিয়ে অনেকটা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
শাহাদাত হোসেন ও মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এক্সিম ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান মহোদয়ের নিজস্ব অর্থায়নে চানাচুর বিক্রেতা নজরুল ইসলামকে পাকা দেওয়া হচ্ছে। আশা করি ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যে পাকা ঘর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে।’
