বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২, ১ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

দেশের উত্তরাঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

আপডেট : ২৬ জুন ২০২২, ২০:০৮

বন্যা পরিস্থিতি খানিকটা উন্নতির দিকে হলেও দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে ফের মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এতে ওই এলাকার মানুষদের জন্য দুর্ভোগ আবারও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা।

আজ রবিবার (২৬ জুন) সন্ধ্যা ৬টায় আবহাওয়া অধিদফতর এক পূর্বাভাসে জানায়, মৌসুমী বায়ুর অক্ষ বিহার, পশ্চিম বঙ্গ এবং বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে উত্তরপূর্ব দিকে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামোটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদফতরের দেওয়া আগামী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়; ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের দু'এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

এদিকে কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু বিষয়ক গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ ইত্তেফাক অনলাইনকে জানান, আজ রবিবার রাত ১০টার পর থেকে আগামীকাল সোমবার ভোর পর্যন্ত সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার ভারতীয় সীমান্তবর্তী অংশে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা প্রায় নিরানব্বুইভাগ। এসব এলাকায় ৫০ থেকে ১০০ মিলিমিটার পরিমাণ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা নির্দেশ করছে আবহাওয়া পূর্বাভাসের বিভিন্ন মডেল।
  
তিনি আরও জানান, আজ সন্ধ্যার পর থেকে আগামীকাল সোমবার ভোর পর্যন্ত সিলেট ও রংপুর বিভাগের জেলাগুলোতে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিন রাতে সিলেট ও রংপুর বিভাগের জেলাগুলোতে বৃষ্টিপাত হতে পারে। অন্যদিকে আগামী ১ সপ্তাহ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ি, কোচবিহার ও আসাম রাজ্যে ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে গত ২ দিনে তিস্তা ও যমুনা নদীর তীরবর্তী যে সকল জেলায় বন্যার পানি কিছুটা কমে গিয়েছিল তার আবারও বাড়তে পারে জুন মাসের ২৯ তারিখ থেকে।

মোস্তফা কামাল পলাশ বলেন, পূর্বাভাসের মডেল থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ধারণা করা যাচ্ছে, কুড়িগ্রাম, জামালপুর, শেরপুর জেলায় বন্যার পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ কমবে না। জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এই পরিস্থিতি চলমান থাকবে। সিলেট ও সুনামগঞ্জের বানভাসী মানুষের দুর্ভোগও কিছুটা বাড়তে পারে।

ইত্তেফাক/এসটিএম