শুক্রবার, ১৯ আগস্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

করোনার চতুর্থ ঢেউ চলছে

আপডেট : ২৭ জুন ২০২২, ১৬:৪৬

দেশে করোনার চতুর্থ ঢেউ চলছে। সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী ধারার মধ্যে গত এক দিনে দেশে ১ হাজার ৬৮০ জন কোভিড রোগী শনাক্ত হয়েছে, মৃত্যু হয়েছে দুই জনের। এদিকে রাজধানীসহ সারা দেশে ঘরে ঘরে এখন সর্দি-জ্বর। অনেকে পরীক্ষানিরীক্ষা করছেন না। এখন ডেঙ্গুর মৌসুমও। রাজধানীর অনেকে এক সঙ্গে ডেঙ্গু ও করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন, এটা বিপজ্জনক হিসেবে আখ্যায়িত করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন, ডেঙ্গু ও করোনা একসঙ্গে হলে মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে। সামনে ঈদ। খুবই সাবধানে চলতে হবে। এখন থেকে স্বাস্থ্যবিধি না মানলে দেশে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটতে পারে। শুধুমাত্র মাস্ক পরলেই নিরাপদ থাকা যায়। কিন্তু অনেকে মাস্ক পরেন না। সময়মতো টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য সরকার রাজধানীর পুরাতন পাঁচটি সরকারি হাসপাতাল প্রস্ত্তত করেছে। আর করোনা রোগীদের জন্য ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ বলেন, করোনা এখন ঘরে ঘরে। শনাক্তের হার ৫ শতাংশের ওপরে গেলেই বিপজ্জনক পর্যায়ে চলে যায়। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা অনুযায়ী শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ। তাই এটা করোনার চতুর্থ ঢেউ। গত এক দিনে শনাক্ত নতুন রোগীর মধ্যে ১ হাজার ৫১৩ জনই ঢাকা মহানগর ও জেলার বাসিন্দা। এদিকে গতকাল দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৩২ জন। এর মধ্যে ২৯ জনই ঢাকার। চলতি বছরের গতকাল পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৯৫২ জন। মারা গেছেন এক জন। বর্তমান সময়টা ডেঙ্গুর মৌসুম হওয়ায় সামনে ডেঙ্গু আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, ঘরে ঘরে সর্দি-কাশি দেখা দিয়েছে। করোনার চতুর্থ ঢেউ চলছে। আবার এখন ডেঙ্গুরও মৌসুম। করোনা ও ডেঙ্গুতে একসঙ্গে যাতে কেউ আক্রান্ত না হন, সেজন্য সবার সাবধান থাকতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। একই সঙ্গে সময়মতো টিকা গ্রহণ করতে হবে। যারা এক ডোজ টিকা নিয়েছেন, তাদের নির্ধারিত সময়ে দুই ডোজ টিকা নিতে হবে। আবার যারা দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন তাদেরও সময়মতো বুস্টার ডোজ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর বলেন, এখন ঘরে ঘরে সর্দি-জ্বর। পরীক্ষা করালে অনেকের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসবে। তাই সাবধান থাকতে হবে। করোনা শনাক্তের হার ৫ শতাংশের ওপরে গেলেই বিপজ্জনক হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু এখন শনাক্তের হার ১৫ শতাংশের ওপরে। অর্থাৎ করোনার চতুর্থ ঢেউ চলছে। তিনি বলেন, করোনা, ডেঙ্গু ও মৌসুমি সর্দি-জ্বর—এই তিনের সংমিশ্রণে বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তাই সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। নিজে বাঁচুন এবং পরিবারকে বাঁচতে দেন। আর ডেঙ্গু মোকাবিলার জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন অভিযান চালাতে হবে। এডিস মশার উৎসস্থল ধ্বংস করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. নাজমুল হক বলেন, দেশে করোনা সংক্রমণ ব্যাপক হারে বাড়ছে। আবার এখন ডেঙ্গুরও মৌসুম। সিটি করপোরেশনকে মশা নিধন করার পরামর্শ দিয়েছি। এডিস মশার উৎসস্থলও বলে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য রাজধানীর পুরাতন পাঁচটি হাসপাতালকে প্রস্ত্তত করা হয়েছে। করোনা রোগীদের আগের ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোকে নতুন করে প্রস্ত্তত করা হয়েছে। তিনি বলেন, মাস্ক পরলেই বেশির ভাগ নিরাপদ থাকা যায়। সামনে ঈদে, স্বাস্থ্যবিধি না মানলে করোনা পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ রূপ নেবে। তাই স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বিকল্প নেই। করোনা ভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের দাপট কমলে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা হাজারের নিচে নেমে আসে। ধারাবাহিকভাবে কমতে কমতে একপর্যায়ে ২৬ মার্চ তা ১০০র নিচে নেমে এসেছিল। গত ৫ মে দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা নেমেছিল চার জনে। শনাক্তের হার ১ শতাংশের নিচে ছিল বেশ কিছু দিন। তবে গত ২২ মের পর থেকে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা আবারও বাড়ছে। ১১ সপ্তাহ পর দৈনিক শনাক্ত কোভিড রোগীর সংখ্যা গত ১২ জুন আবার ১০০ ছাড়িয়ে যায়। ১২ দিনের মাথায় শুক্রবার তা দেড় হাজারের ঘরও ছাড়ায়।

ইত্তেফাক/ইআ