সোমবার, ১৫ আগস্ট ২০২২, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বশেমুরবিপ্রবিতে সুবিধা না পেলেও শিক্ষার্থীদের ফি দিতে হবে

আপডেট : ২৭ জুন ২০২২, ১৪:৩৯

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন শিক্ষার্থী স্নাতকোত্তর পরীক্ষা শেষ করেছেন সিলেবাস, স্মার্ট আইডি কার্ড ও স্টুডেন্ট গাইডেন্স অ্যান্ড কাউন্সিলিংয়ের সুবিধা ছাড়াই। এসব সুযোগ-সুবিধা তারা না পেলেও ঠিকই গুনতে হচ্ছে সব ধরনের ফি। সে হিসাবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত প্রায় সাড়ে ১০ লাখ টাকা আদায় করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দফতর থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অন্যান্য ফির পাশাপাশি সিলেবাস বাবদ ১৫০ টাকা, স্মার্ট আইডি কার্ড বাবদ ৪০০ টাকা ও স্টুডেন্ট গাইডেন্স অ্যান্ড কাউন্সিলিং বাবদ ২০০ টাকা ফি দিতে হবে। অভিযোগ রয়েছে, এসব সুবিধার কোনোটি পায়নি ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। ইতোমধ্যে ওই শিক্ষাবর্ষের অধিকাংশ শিক্ষার্থী স্নাতকোত্তর পরীক্ষা শেষ করে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেছেন। তবুও এসমস্ত ফি দিতে হবে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সোহেলী শারমিন বলেন, ‘আমরা স্নাতকোত্তর শেষ করে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেছি। স্নাতকোত্তর চলাকালীন আমাদের সিলেবাস কিংবা স্মার্ট আইডি কার্ড কিছুই দেয়নি। তবুও এসমস্ত ফি দিতে হবে উল্লেখ করে নোটিশ জারি করা হয়েছে। এ ছাড়া, স্টুডেন্ট গাইডেন্স অ্যান্ড কাউন্সিলিং বিষয়ে আমাদের কখনো কিছু জানানো হয়নি। এর জন্যও আমাদের ফি দিতে হবে।’

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী মোহসিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন জায়গা থেকে ফোনে পিডিএফ সিলেবাস সংগ্রহ করে পরীক্ষা দিয়েছি। আমাদের স্নাতকোত্তরের কোনো আইডি কার্ড দেওয়া হয়নি। তা-ছাড়া স্টুডেন্ট গাইডেন্স অ্যান্ড কাউন্সিলিংয়ের কোনো অস্তিত্ব আমাদের সময়ে ছিল বলে জানা নেই। এ সুবিধাগুলো না দিয়েই বিশ্ববিদ্যালয় ফি নির্ধারণ করেছে। যে সুবিধাগুলো আমরা পাইনি, সেগুলোর ফি কেন দিতে হবে?’

পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘সিলেবাস, স্মার্ট আইডি কার্ড ও স্টুডেন্ট গাইডেন্স অ্যান্ড কাউন্সিলিংয়ের কোনো সুবিধা না দিয়ে আমাদের সেগুলোর ফি দিতে বলা হচ্ছে। এটি শিক্ষার্থীদের সাথে অন্যায় করা হচ্ছে।’ 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের প্রায় ১ হাজার ৪ শত জন শিক্ষার্থীকে সিলেবাস বাবদ প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার টাকা, স্মার্ট আইডি কার্ড বাবদ প্রায় ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা ও স্টুডেন্ট গাইডেন্স অ্যান্ড কাউন্সিলিং ফি বাবদ প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা গুনতে হবে। এতে শিক্ষার্থীদের সাড়ে ১০ লাখ টাকা অতিরিক্ত দিতে হবে কোনো সুযোগ-সুবিধা না পেয়েও। তবে কয়েকটি বিভাগে সিলেবাসের মূল অংশ ফটোকপি করে দেওয়া হয়েছে, যাতে ১০ থেকে ১৫ টাকা খরচ হয়েছে। 

এদিকে অভিযোগ রয়েছে, ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের প্রথম সেমিস্টার মিডটার্ম পরীক্ষা সম্পন্ন হলেও তাদের সিলেবাস ও আইডি কার্ড দেওয়া হয়নি। এছাড়া এ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরাও জানিয়েছেন, তারা স্টুডেন্ট গাইডেন্স অ্যান্ড কাউন্সিলিং সম্পর্কে অবগত নন।

এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একিউএম মাহবুব বলেন, ‘যদি কোনো শিক্ষার্থীর কোনো বিষয়ে আপত্তি থাকে, তাহলে তারা যথাযথ মাধ্যমে সেগুলো জানাবে।’

প্রসঙ্গগত, ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বশেমুরবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত বেতন-ফি কমানোর দাবিতে পাঁচবার আন্দোলনে নামেন। ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে বেতন-ফি সংগ্রহ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ ২১ মাস পরে বেতন-ফি পুনর্নির্ধারণ করে এবছরের ১৯ জুন নোটিশ জারি করা হয়। সেখানে স্নাতকোত্তর শ্রেণির তিনটি বিষয়ে সুবিধা প্রদান না করেই ফি নির্ধারণ করার অভিযোগ তোলেন ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা।

ইত্তেফাক/মাহি 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

তরুণ প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করতে হবে- পাবিপ্রবি উপাচার্য

ওয়েবমেট্রিক্স র‍্যাংকিংয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দ্বিতীয় নোবিপ্রবি 

ছাত্র প্রতিনিধি ছাড়াই জাবির উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন আজ

জাতীয় শোক দিবস পালনে সিকৃবি ছাত্রলীগের প্রস্তুতি সভা

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

ববিতে 'আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বঙ্গবন্ধু' শীর্ষক কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত    

শেকৃবিসাসের সভাপতি জোবায়ের, সম্পাদক ওলী আহম্মেদ

হামলাকারীরা শনাক্ত না হওয়ায় কর্মবিরতিতে ঢামেক ইন্টার্ন চিকিৎসকরা

সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীন বরণ