শুক্রবার, ১৯ আগস্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

পদ্মা সেতু চালুর পর শিমুলিয়ায় জমজমাট রেস্তোরাঁ

আপডেট : ২৭ জুন ২০২২, ১৬:৪৩

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার বাসিন্দাদের স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন করা হলো দুদিন আগে ২৫ জুন। পরদিন রোববার (২৬ জুন) সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে সেতুটি। প্রথম দিনই দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ভ্রমণপিপাসুরা ভিড় জমিয়েছেন সেতু প্রান্তে। সেতুজুড়ে শুধু মানুষের উচ্ছ্বাস। কাউকে মোটরসাইকেল নিয়ে, কাউকে প্রাইভেটকার নিয়ে আবার গণপরিবহন থামিয়েও সেতুর ওপর আনন্দ-উল্লাস করতে দেখা গেছে। এদিকে, পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে কপাল খুলেছে মাওয়া ঘাটের রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীদের। গত ২ দিনে আয় যেন জ্যামিতিক হারে বেড়েছে।     

মাওয়া ঘাটের রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, যদিও ঘাট প্রায় বন্ধ কিন্তু তাদের ব্যবসায়ে একটুও ভাটা পড়েনি। বরং দুদিন যাবত বেড়েছে বেচাকেনা। তবে, এখন মাত্রই যেহেতু সেতু চালু হয়েছে, বলা যাচ্ছে না কতদিন এমন জমজমাট থাকবে। আশা করা যাচ্ছে, সেতুকে কেন্দ্র করে চারদিক বিভিন্ন পর্যটন স্পট গড়ে উঠছে, এতে তাদের ব্যবসা বাড়বে বৈকি কমবে না। 

ঘাট তো তেমন চলছে না, দূরের যাত্রীরাও নেই এখন ঘাটে। যাত্রী না থাকলে তো বেচাবিক্রি কমে যাওয়ার কথা। এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যবসায়ীরা বলেন, ঘাট চালু থাকতে যাত্রীরা খেতেন ঠিকই, কিন্তু ভ্রমণকারীরা না এলে আমাদের ব্যবসা জমে না। স্টাফদেরও বেতন দিতে পারতাম না। এখন আমাদের এখানে নতুন নতুন রেস্তোরাঁও হচ্ছে। বিশেষ করে ইলিশপ্রেমীদের খাবারের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে চেষ্টা করছি খাবারে ভিন্নতা আনতে। 

কথা হয় পদ্মা সেতু ভ্রমণকারী আনিকার সঙ্গে। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তিনি সেতু ঘুরতে এসেছেন তার বোন ও ভগ্নিপতির সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে আসছি সেতু ঘুরে দেখতে। নেমেছি সেতুতে। তবে, বিধিনিষেধ থাকায় গাড়ি দিয়েই ঘুরেছি পুরো সেতু। এখন আসছি শিমুলিয়া ঘাটে খেতে। এখানে আরও আসছি কিন্তু এখন মনে হচ্ছে খাবারের দাম একটু বেশি। সমাগম অনেক বেশি। যাই হোক, সেতু দেখে মন জুড়িয়ে গেছে।’

ভিন্ন ভিন্ন আকর্ষণীয় নামে রেস্তোরাঁ

ব্যবসায়ী বাদল মিয়া (৪৫)। থাকেন ফরিদপুরের ভাঙ্গায়। তিনি তার একজন বন্ধুকে নিয়ে এসেছেন পদ্মা সেতু দেখতে। তারা দুই বার সেতু পার হয়েছেন। ঘুরেফিরে এখন ক্লান্ত। ক্ষুধাও লেগেছে। তাই শিমুলিয়ার রেস্তোরাঁয় এসেছেন।  তিনি বলেন, ‘আমি আর আমার ছোটবেলার বন্ধু একসঙ্গে এসেছি সেতু দেখতে। পরিবারের কাউকে আনিনি। তাদের আবার নিয়ে আসবো। বন্ধুর সঙ্গে ঘুরে মনে হচ্ছে শৈশবে ফিরে গেছি। পদ্মা সেতু এত সুন্দর। না দেখলে পুরাই মিস। ক্ষুধা লাগছে প্রচুর। মাঝারি সাইজের একটি ইলিশ কিনে ভাজতে দিছি। সাড়ে ৯০০ টাকা নিয়েছে ইলিশের দাম। তবে, শখের দামই হাজার টাকা।’

বাবার সঙ্গে মোটরসাইকেলের আরোহী হয়ে এসেছে ৯ বছর বয়সী মিনহাজ। সে পদ্মা সেতু দেখেছে আজ। ছবিও তুলেছে। বাড়িতে গিয়ে মা ও বন্ধুদের ছবি দেখাবে সে। মিনহাজ বলে, ‘বাবা নিয়ে আসতে চায় না। আমি জোর করে ধরে নিয়ে আসছি বাবাকে। সেতুর দুই পাড়ই দেখেছি ঘুরে ঘুরে। অনেক সুন্দর সেতু। বাসায় গিয়ে মাকে আগে ছবি দেখাবো, তারপর বন্ধুদের। খিচুড়ি-ইলিশ খেয়েছি। খুজ মজা।’

শিমুলিয়া ঘাটের একটি রেস্তোরাঁর ম্যানেজার জানি হোসেন বলেন, ‘পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় এখন রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা চলে আমাদের রেস্তোরাঁ। ভ্রমণকারীরা সেতু ঘুরে এসে আমাদের শিমুলিয়া ঘাটেই খান। এখানকার খাবার অনেক সুস্বাদু।’ 

খাবারের দাম একটু বেশি বলে জানিয়েছেন অনেক ভ্রমণকারী। এ বিষয়ে  জানি হোসেন বলেন, ‘আমরা কখনোই বেশি দাম রাখি না। কারণ, ব্যবসা একদিনের জন্য নয়। তবে, বাজারে মাছের দাম কম-বেশি হওয়ায় মাঝেমধ্যে একটু দাম বাড়ে-কমে। ৩ সিফটে প্রায় শত স্টাফ কাজ করেন আমাদের রেস্তোরাঁয়। সব মিলে ভালো আছি আমরা।’

রাত যত বেশি হচ্ছে, রেস্তোরাঁগুলোতে খাবারপ্রেমীরা তত বাড়ছে

এখন তো ঘাট প্রায় বন্ধ, ব্যবসা তো কমে যাওয়ার কথা, বাড়লো কিভাবে, এমন প্রশ্নের জবাবে  জানি হোসেন বলেন, ‘যাত্রীরা না থাকায় একটু যাত্রী নির্ভর ব্যবসা কমেছে। তবে, সেতু চালু হওয়ায় অনেক পর্যটক পাচ্ছি আমরা। আশা করি, সামনে আরও বাড়বে।’ 

আরেকজন রেস্তোরাঁ ম্যানেজার আলম মিয়া। কাস্টমারদের সঙ্গে ব্যস্ত তিনি। কথা বলার যেন সময় নেই। তিনি বলেন, ‘ব্যবসা ভালো হচ্ছে। অনেক লোকজন সেতু দেখতে আসছে। এখন প্রতিদিন ঘুরতে আসা লোকজনের সংখ্যা বাড়বে। আর ভালো খাবার খেতে হলে আমাদের এই দিকেই মানুষ আসবে। কাস্টমারদের পছন্দ অনুযায়ী খাবার তৈরি করি আমরা।’

ইত্তেফাক/মাহি