কাপাসিয়ায় বনের কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি, হুমকির মুখে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য

আপডেট : ২৯ জুন ২০২২, ০৪:১৫

কাপাসিয়ার বিভিন্ন প্রত্যন্ত গ্রামে বিশাল আকারের মাটির চুল্লি বানিয়ে বনের কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করছে একটি অসাধু চক্র। স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় বিভিন্ন ধরনের বনজ ও ফলদ গাছ কেটে এসব অবৈধ চুল্লিতে দেদার পোড়ানো হচ্ছে কাঠ এবং তা থেকে তৈরি হচ্ছে কয়লা। এসব চুল্লি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ায় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বিভিন্ন সময় এদের জরিমানা ও উচ্ছেদ করলেও কিছু দিনের মধ্যেই অন্য এলাকায় গিয়ে তারা পুনরায় একই কাজ শুরু করে।

উপজেলার বারিষাব ইউনিয়নের গিয়াসপুর ও নরোত্তমপুর এবং কাপাসিয়া সদর ইউনিয়নের সূর্য নারায়ণপুর এলাকায় অবাধে চলছে কাঁচা কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরির কাজ। বারিষাব ইউনিয়নের নরোত্তমপুর গ্রামের এক ব্যক্তির জায়গা ভাড়া নিয়ে জঙ্গলের ভেতরে আটটি চুল্লি বানিয়ে দিনরাত কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। 

জানা যায়, তার কাছ থেকে মাসিক চুক্তিতে জমি ভাড়া নিয়েছেন শ্রীপুর উপজেলার বরমী এলাকার আবুল হোসেন এবং শফিকুল ইসলাম নামে দুই অসাধু ব্যবসায়ী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক যুবক জানান, তাদের এলাকায় আগেও এ ধরনের চুল্লি বসিয়ে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করতেন ব্যবসায়ীরা। পরে প্রশাসনের অভিযানে তা বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু কিছুদিন পর আবারও চুল্লি বসিয়ে কাঠ পোড়াচ্ছেন কয়লা ব্যবসায়ীরা। তাদের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় প্রভাবশালীদের ভয়ে এলাকার মানুষ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। একই ইউনিয়নের গিয়াসপুর ভেড়ারচালা এলাকায় সাতটি চুল্লিতে একইভাবে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা বানানো হচ্ছে। 

স্থানীয় বাসিন্দা মোফাজ্জল হোসেন বলেন, প্রতিদিন শত শত মণ কাঠ পোড়ানো হচ্ছে এই চুল্লিগুলোতে। এতে উৎপাদিত ধোঁয়ার গন্ধে শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়।

চুল্লির মালিক আবুল হোসেন জানান, এসব চুল্লিতে কাঠ পোড়ানোর ফলে কোন ধরনের ক্ষতি হচ্ছে কি না তার জানা নেই। তবে তিনি সংশ্লিষ্ট সব মহলকে ম্যানেজ করেই ব্যবসা করছেন বলে স্বীকার করেন। 

এ বিষয়ে কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ কে এম গোলাম মোর্শেদ খান বলেন, অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এসব চুল্লির বিরুদ্ধে অচিরেই অভিযান চালানো হবে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গাজীপুর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মমিন ভূঁইয়া জানান, এসব অবৈধ কয়লা তৈরির চুল্লি পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ। অচিরেই অভিযান চালিয়ে এসব অবৈধ কয়লার চুল্লি বন্ধ করে দেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/ইআ