ঈশ্বরদীর চরাঞ্চলে বাদাম তোলায় ব্যস্ত কৃষক

আপডেট : ২৯ জুন ২০২২, ০৫:৩০

ঈশ্বরদীর পদ্মার চর জুড়ে বাদাম চাষ হয়েছে। বর্তমানে কৃষকরা বাদাম তোলা, শুকানো ও বিক্রির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। চলতি মৌসুমে গত বছরের তুলনায় ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় খুশি তারা। 

সরেজমিনে জানা যায়, সাঁড়া ইউনিয়নের চরাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি বাদামের চাষ হয়েছে। এই ইউনিয়নের ইসলাম পাড়া, মোল্লাপাড়া চর, শেখেরচক, আরামবাড়িয়া ও সাঁড়া গ্রামের চর জুড়ে বেশি বাদাম চাষ হয়েছে। এছাড়া লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের কামালপুর, দাদাপুর, ডিগ্রিরচর ও লক্ষ্মীকুণ্ডা চরেও ব্যাপকভাবে বাদামের চাষ হয়েছে।

কৃষকরা জানান, বিঘাপ্রতি বাদাম চাষে খরচ হয়েছে ১৫-১৬ হাজার টাকা। আর উৎপাদন হয়েছে ১০-১২ মণ বাদাম। বর্তমানে প্রতি বিঘার বাদাম বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ হাজার টাকায়। ইসলামপাড়া গ্রামের সরোয়ার জানান, ১০ বিঘা জমিতে বাদামের চাষ করেছি। খরচ বাদে প্রতি বিঘায় লাভ হয়েছে ১৫-১৭ হাজার টাকা পর্যন্ত। আগামী দিনে এ চরে আরও বেশি বাদাম চাষ হবে। 

লক্ষ্মীকুণ্ডার দাদাপুর চরের কৃষক লুৎফর বলেন, যৌথভাবে ১০ জন কৃষক ৩০ একর জমিতে বাদাম আবাদ করেছি। ফলন হবে প্রায় ৯০০ মণ। দাম প্রায় ৩০ লাখ টাকা। চাষাবাদে ১৩ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় লাভও বেশি হবে।

শেখের চক গ্রামের কৃষক আমজাদ হোসেন বলেন, এক সময় আমার বাপ-দাদার ভিটা ছিল এ চরে। নদী সব কেড়ে নিয়েছে। ধু ধু এ বালুচরে ১০ বছর আগেও কোনো ফসল হতো না। এখন চরের মাঠে তাকালে শুধু সবুজের সমারোহ। চরজুড়ে বাদাম আর বাদাম। অনাবাদি বালুচরে চাষিরা বাদাম চাষ করে ব্যাপক লাভবান হচ্ছেন। 

দিনমজুর রত্না খাতুন বলেন, এক মণ বাদাম তুলে ৪০০ টাকা পাই। প্রতিদিন এক থেকে দেড় মণ পর্যন্ত বাদাম তোলা যায়। 

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিতা সরকার বলেন, পদ্মার তীরবর্তী সাঁড়া ইউনিয়ন ও লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নে এবার বাদামের ভালো ফলন হয়েছে। কৃষকরা লাভবান হয়েছেন। এখানে বিনা ও বারী জাতের বাদামের চাষাবাদ বেশি হয়।

ইত্তেফাক/এমএএম