প্রানোৎসারিত গল্প-আড্ডা, নাচ-গান-কবিতা, সম্মাননা, খাওয়া-দাওয়ার আনন্দ মুখর উচ্ছ্বাস উচ্ছলতায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বিলাতের লন্ডন শহরে বসে উদযাপন করলেন তাদের ভার্সিটির ৫০ বছর পূর্তি উৎসব। নানা ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারীদের দেওয়া হলো সম্মাননাও।
গত ২৫ জুন রিজেন্টলেক বেঙ্কুইটিং হলে আয়োজন করা হয় দিনব্যাপী এই মিলনমেলার। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম ব্যাচ থেকে শুরু করে ৪৬তম ব্যাচের সাবেক ছাত্রছাত্রীরা রংবেরঙের বেলুন উড়িয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন। শতশত রঙ্গিন বেলুনে বর্ণময় হয়ে ওঠে উজ্জ্বল নীলাকাশ। আয়োজকরা লাল গোলাপ দিয়ে বরন করেন বন্ধুদের।
সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটির আহবায়ক জহির মুহাম্মদ উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব পারভেজ মল্লিকের সঞ্চালনায় শুরু হয় স্মৃতিচারণ-আলোচনা। ক্যাম্পাসের অম্ল-মধুর-মজার স্মৃতিচারণে তারা যেন ফিরে যান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ ক্যাম্পাসে।উৎসবে প্রধান অতিথি ছিলেন টাওয়ার হ্যামলেটের মেয়র লুৎফর রহমান। জনপ্রিয় এই মেয়রের উপস্থিতি উৎসবে ভিন্ন মাত্রা এনে দেয়। উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে মেয়র লুৎফর রহমানকে সুবর্ণজয়ন্তী উৎসবের স্মারক উপহার দেয়া হয়। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন এবং সাবেক ডেপুটি মেয়র অহিদ আহমেদ।
সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননা দেয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম ব্যাচের ছাত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ খিজিরকে। এছাড়াও বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয় আইঅন টিভির কর্ণধার আতাউল্লাহ ফারুক এবং ইফতি আহমেদকে। স্পন্সরদের হাতে উৎসবের স্মারক তুলে দেন মো. ইকবাল হোসেন, আশরাফুন্নেসা রোজী, সৈয়দ শাহিন আহমেদ, আসমা শাহ, আব্দুর রহমান মিঠু, সিনা আকন্দ, হাবিবে আলম চৌধুরী, ওয়াকারুল আমিন রনি, সিকান্দার আলী সিকো, আনিসুর রহমান, ড. আসমা পারভিন মুক্তা, চৌধুরী নিয়াজ মাহমুদ লিঙ্কন।
দুপুরে ছিল বাঙালী খাবার।পরে আবারো শুরু হয় টানা আড্ডা। বিকেলে সাংস্কৃতিক সম্পাদক মাহবুবা নাজরিনা জেবিন এবং ড. সাবের শাহ্র প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় শুরু হয় জমজমাট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রথমেই আলিম আল রাজী গানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। এরপর লন্ডনের ক্ষুদে সেনসেশন আরওয়া রশিদ দেশের গান এবং লালনের গান গেয়ে অতিথিদের মুগ্ধ করেন। তার কচি কণ্ঠের গাওয়া “বাড়ীর পাশে আরশিনগর” গানটি সবাইকে নিয়ে যায় জাবিয়ানদের আরশিনগর জাহাঙ্গীরনগরে।এরপর মঞ্চে আসেন ক্লোজআপ তারকা রাশেদ উদ্দিন। রাশেদ তার মায়বি কণ্ঠের জাদুতে আবিষ্ট করে রাখেন সবাইকে। তার গানে দর্শকরা একাধারে নেচেছেন আবার “মা” গান শুনে অনেকে কেঁদেছেন। এনি জামান, মাহবুবা নাজরিনা জেবিন, রুমানা তুলি এবং জাকিয়া তাসনিম এর দলীয় নৃত্য ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ।
এরপর মঞ্চ মাতাতে আসেন শারমিন দিপু। দিপুর জমজমাট পরিবেশনা সবাইকে নাচতে বাধ্য করে। মঞ্চ থেকে নেমে এসে সবার সাথে নাচে যোগ দেন দিপু। চলতে থাকে সমবেত ভাবে গান আর নাচ। সবশেষে মঞ্চে আসেন লন্ডনের জেমস খ্যাত রাজ হাসান। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্ছে পরিণত হয় “চল বদলে যাই”, মীরাবাঈ গানের মূর্ছনায়। রাজের পরিবেশনার মাধ্যমে শেষ হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
এরপর উপদেষ্টা মো. শহীদুল ইসলাম এর পরিচালনায় শুরু হয় আগত আপু এবং ভাবিদের অংশগ্রহণে “মিউজিক্যাল পিলো পাসিং”। টানটান উত্তেজনার মধ্যদিয়ে প্রায় অর্ধশত অংশগ্রহণকারীর মধ্যে তুমুল প্রতিযোগিতার মাধ্যমে টানা দ্বিতীয়বারের মতো অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হন মুন্নি রহমান। অংশগ্রহণকারী সেরা পাঁচজনকে পুরস্কৃত করা হয়।
এরপর উপস্থিত শিশু এবং রেফেল ড্র-এর মাধ্যমে ১০ জন বিজয়ীর হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। এভাবেই হাসি আনন্দের মধ্যদিয়ে শেষ হয় মিলন মেলা।
উৎসবে পরিবারসহ আরও অংশগ্রহণ করেন মো. সিদ্দিক, ডক্টর মাধু আচার্য, কামাল মুস্তাফা, একেএম রাকিবুদ্দিন শাহিন, রুবিনা আক্তার রেখা, মো. নজরুল ইসলাম, নাসিমা সুলতানা চৌধুরী, হুমায়ুন কবির, মো. আসাদ উল্লাহ, ইন্দ্রজিত সাহা, সুফিয়া কমর বেবি, মো. নুর হাসান মামুন টুটুল, আশরাফুল আলম, মো. নিয়াজ উদ্দিন বাবু, মতিয়ার রহমান, মো. আখতার আজাদ পাপ্পু, ড. শাকিল আহমেদ, হাফিজা আক্তার, মনির মোহাম্মদ জামান, সাঈদ উদ্দিন আহমেদ, মুকিত শামস জয়, মো. আলমগীর হোসেন বিদ্যুৎ, ড. নজরুল ইসলাম বিদ্যুৎ, ফারহানা ইয়াসমিন চমন, মোরশেদ ঠাকুর, হোসনে তৌহিদ পাভেল, কামরুল হাসান মঞ্জু, মো. শফিউল আজম সুমন, সৈয়দ ইফতেখার ইফতি, মুসফিকুর রহমান ভুঁইয়া জেম, আহমেদ হাসান,কাজী মহিবুল ইসলাম লিমন, আজিজুল করীম লিপু, সাবিহা সুলতানা, সোনিয়া করীম, ড. মিজানুর রহমান জামী, বুলবুল আহমেদ, সজীব ভুঁইয়া, মাহবুবা আক্তার দীপা, নাজমুস সাকিব, মো. শফিকুজ্জামান চৌধুরী জাভেদ, মো. রায়হানুর রহমান, রানা নাজিমুদ্দিন, আহসানুল চৌধুরী নাহিয়ান, আলী মোহাম্মদ, মো. সাইদ হোসেন তুষার, তানজিম মাহবুব, মো. হাসান অয়ন সহ আরও অনেকে।

বিশ্বের সেরা দশ শহরে কানাডার ৩ শহর