মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

কামারখন্দে বেড়েছে পল্লী বিদ্যুতের মিটার চুরি উদ্বিগ্ন গ্রাহকরা

আপডেট : ৩০ জুন ২০২২, ০৩:৪৫

কামারখন্দে আবারও বেড়েছে পল্লী বিদ্যুতের মিটার চুরি। মাসখানেক বৈদ্যুতিক মিটার চুরি বন্ধ থাকলেও কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে চোর চক্রের সদস্যরা। জানা যায়, উপজেলার ধলেশ্বর, বারাকান্দি এবং চৌবাড়ী গ্রাম থেকে মঙ্গলবার রাতে সাতটি মিটার চুরি হয়েছে। পরবর্তী সময়ে চুরি করবে বলে আরো আটটি মিটারে টাকার দাবিতে টোকেন রেখে গেছে চোর চক্রের সদস্যরা। চুরি হওয়া সাতটি মিটারের মধ্যে তিনটি মিটার রাইস মিলের এবং চারটি মিটার করাতকলের। এর আগে গত মাসে উপজেলার দুইটি গ্রাম থেকে সেচ পাম্প ও করাতকলের আটটি মিটার চুরি হয়। সেসময় এ ঘটনায় মিটারসহ চোর চক্রের কয়েক জন সদস্যকে আটক করে পুলিশ। তবুও থামানো যাচ্ছে না মিটার চুরি। 

উপজেলার গোপালপুর বাঁশতলা গ্রামের ভুক্তভোগী গ্রাহক রুবেল হায়দার জানান, মিটার চুরি করে নেওয়ার পর চোর চক্র মিটার বাক্সে একটি টোকেন রেখে যায়। সেই টোকেনে লেখা আছে একটি বিকাশ নম্বর। সেই নম্বরে ফোন দিলে তারা অনেক টাকা দাবি করে। আমি টাকা না দিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে জানিয়েছি। 

চৌবাড়ী গ্রামের আরেক ভুক্তভোগী মিটার গ্রাহক রেজাউল করিম জানান, সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার রাইস মিলে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। মিটার এলাকায় গিয়ে দেখি আমার মিটারটি চুরি হয়েছে। তবে মিটারের খালি বক্সের ভেতর একটি নম্বর রেখে যায় চোরেরা। সেই নম্বরে ফোন করলে ১০ হাজার টাকা দাবি করে চোর চক্রের এক সদস্য। পরে ৬ হাজার টাকা বিকাশে রেখে যাওয়া বিকাশ নম্বরে পরিশোধ করে সদর উপজেলার কড্ডার মোড় এলাকা থেকে আমার মিটার উদ্ধার করি। চৌবাড়ী গ্রামের অপু চৌধুরী জানান, প্রায় ১০০ পরিবার যে পানি ব্যবহার করি সেই পানির পাম্পের মিটার চুরির চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে চোর পালিয়েছে। তবে মিটার বক্সে একটি টোকেন রেখে গেছে। টোকেনে লেখা আছে একটি মোবাইল নম্বর। সেই নম্বরে ফোন দিলে চোর চক্রের এক সদস্য জানায়, এবার চুরি করিনি কিন্তু দুই-এক দিনের ভেতরে চুরি করব অথবা মিটার ভেঙে দেব। যদি মিটার বাঁচাতে চাও তাহলে ৫ হাজার টাকা পাঠাও।

সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর কামারখন্দ সাব জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) মো. কামরুজ্জামান জানান, মঙ্গলবার রাতে মিটার চুরির ঘটনায় ছয়টি মিটার চুরির অভিযোগ পেয়েছি। হয়তো আরও অভিযোগ আসতে পারে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হচ্ছে। 

কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুল্লাহ জানান, মিটার চুরির বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এমএএম