‘এখন সুযোগ পাচ্ছি না, এটা বলার অবকাশ নেই’

আপডেট : ৩০ জুন ২০২২, ২২:০৭

অভিনেতা রাশেদ সীমান্ত খুব কম সময়ে দর্শকদের মাঝে দারুণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তার প্রতিটি নাটকে নাটকেই বিনোদনের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক বার্তা থাকে। যা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। আসছে ঈদেও তার একাধিক নাটক প্রচার হবে। নিজের নতুন নাটক, অভিনয় ভাবনাসহ ইন্ডাস্ট্রি প্রসঙ্গে তিনি কথা বললেন ইত্তেফাকের সঙ্গে।

ঈদ উপলক্ষে কোন কাজগুলো নিয়ে ব্যস্ত আছেন?
৭ পর্বের ধারাবাহিক ‘শিয়াল বাড়ি থ্রি’ এবং একক নাটক ‘ঢাকা টু বরিশাল’ ও ‘বাবার পুরস্কার’ নাটকগুলোর কাজ নিয়ে ব্যস্ততা চলছে। এবারের ঈদে নাটক ৩টি প্রচারিত হবে।

এবারের কাজগুলোতে বিশেষ কী চমক থাকছে?
আমার প্রতিটি নাটকেই কিন্তু বিনোদনের পাশাপাশি কোনো না কোনো বার্তা থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। যে অন্যায়গুলোকে আমরা প্রতিবাদ না করে প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছি বা মুখ বুঁজে সহ্য করছি। কিন্তু এটা যে অন্যায় সেটাই দেখানো হবে নাটকগুলোতে। এছাড়া ‘বাবার পুরস্কার’ নাটকটি করতে গিয়ে বেশ ভালো লেগেছে। একটি ৬ বছরের বাচ্চা ও তার বাবাকে ঘিরে গল্পটি নির্মিত হয়েছে। আশা করছি নাটকটি সবার মন ছুঁয়ে যাবে।

রাশেদ সীমান্ত

বিশেষ দিবসের নাটকের বাইরে রাশেদ সীমান্তকে দেখা যায় না কেন?
দেখুন, অভিনয় কিন্তু আমার পেশা না। যে কারণে আমি বিশেষ দিবসে শুধু বৈশাখী টিভির জন্য কাজ করি। যদিও অনেক গুণী নির্মাতার কাছ থেকে অফার পাচ্ছি, কিন্তু বিনয়ের সঙ্গে সবাইকে না করছি। আপাতত অভিনয়ে নিয়মিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। 

আপনি খুব অল্প কাজ করেই দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। যদিও অনেকে সুযোগ পান না বলে অভিযোগ করেন। সেই জায়গা থেকে আপনার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
এই জায়গাতে আমার দ্বিমত রয়েছে। এখন সুযোগ পাচ্ছি না, এটা বলার অবকাশ নেই। কারণ এখন প্রতিভা থাকলে যেকোনো উন্মুক্ত মাধ্যমে সেটা প্রমাণ করতে পারেন। তবে সুযোগ পেলে হয়তো দ্রুত নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা যায়। আর আমার বিষয়ে বলবো, আমি আসলে খুব অল্প সময়ে সবার ভালোবাসা পেয়েছি, তাই আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

আপনার নাটকগুলোতে একটি সামাজিক বার্তা দর্শকরা পেলেও দেশের বেশিরভাগ নাটকে সেটা অনুপস্থিত থাকে। আসলে আমরা সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে সরে যাচ্ছি কি-না?

দেখুন, নাটক আমাদের জীবন ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করেই কিন্তু নির্মিত হয়। কিন্তু অনেকেই ভিউয়ের কথা চিন্তা করে বা টিনেজার দর্শকের কথা মাথায় রেখে নাটকগুলো নির্মাণ করছেন। তবে লক্ষ্য করলে দেখবেন এই নাটকগুলো কিন্তু একটা শ্রেণির মানুষ দেখছে এবং দিনশেষে হারিয়ে যাচ্ছে। আমার মনে হয়, নাটকগুলো এমনভাবে নির্মিত হওয়া উচিত যেখানে একটি বার্তা থাকবে এবং ভুলত্রুটিগুলো শুধরে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। আমি নাটক করা সময় এই বিষয়টি মাথায় রাখি।

রাশেদ সীমান্ত

গত ঈদে বেশকিছু নাটকের ভিউ নিয়ে মাতামাতি লক্ষ্য করা গেলেও দর্শক প্রশংসায় ঘাটতি ছিল লক্ষ্যণীয়। বিষয়টি নিয়ে কী মন্তব্য করবেন?
সবার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, আমরা যদি বাইজিশালায় নাচ দেখে অনেকেই মজা পান, কিন্তু সেখানের কাউকে বিয়ে করতে বললে বেশিরভাগই না করবেন। আসলে দেখা আর গ্রহণ করা ভিন্ন জিনিস। দিনশেষে কোয়ালিটি সমৃদ্ধ নাটকটিই দর্শকরা গ্রহণ করেন।

নাটকে নানা ভাষার ব্যবহার নিয়ে কী বলবেন?
ওই যে বললাম, ভিউ কামানোর জন্য আমরা অনেককিছুই করছি, যেগুলো নীতি বহির্ভূত। আমরা যদি নাটকের মূল উদ্দেশ্যে দিকে তাকাই তাহলে এগুলো থাকার কথা না। হয়তো সেই দিন শিগগিরই আসবে এবং সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।

ইত্তেফাক/বিএএফ