বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২, ১ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

চালকের সহকারীরাই চালান পণ্যবাহী ট্রাক

ড্রাইভিং শিখতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২২, ০৭:০০

বাংলাদেশে পন্যবাহী ট্রাক এবং কাভার্ড ভ্যান দুর্ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে দুর্ঘটনা এবং মৃত্যুও বাড়ছে। কিন্তু এ ধরনের গাড়ি দুর্ঘটনার কারণ কী? সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যেসব গাড়ি এ পর্যন্ত দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে সেগুলোর অধিকাংশই চালাচ্ছিলেন চালকের সহাকরীরা। দুর্ঘটনার সময় মূল চালক হয় পেছনে ঘুমিয়েছিলেন কিংবা সহকারীর আসনে বসে ছিলেন।

কাভার্ড ভ্যান পরিবহনের কয়েক জন মালিকের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, চালকদের খামখেয়ালিপনার জন্য অনেক মালিক পথে বসেছেন। গন্তব্য থেকে রওয়ানা দেওয়ার সময় চালক ঠিকই গাড়ি চালিয়ে বের হন। কিন্তু পথের কোনো এক জায়গায় চালক তার স্টিয়ারিংটা দিয়ে দিচ্ছেন সহকারীকে। এক্ষেত্রে চালকের সঙ্গে সহকারীর একটি অলিখিত চুক্তি থাকে। সে চুক্তি অনুযায়ী চালক তার সহকারীকে ড্রাইভিং শেখান। সাধারণত এসব গাড়িতে দুর্ঘটনার হার বেশি। গতকাল নরসিংদীতে কাভার্ড ভ্যান দুর্ঘটনা ঘটেছে সেটি চালাচ্ছিলেন চালকের সহকারী। এ দুর্ঘটনায় পাঁচ জন মারা গেছেন।

পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত একজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, একটি কাভার্ড ভ্যানে প্রতিমাসে ড্রাইভারের বেতন ধরা হয় ১৫ হাজার টাকা। আর সহকারীর বেতন ১০ হাজার টাকা। এর বাইরে নানা দিক থেকে তাদের আয় আছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে চালকের সহকারীরা ড্রাইভিং শেখার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে। এক্ষেত্রে সে ড্রাইভারকে নানাভাবে প্রলুব্ধ করে। নিজের বেতন মাসশেষে ড্রাইভারের হাতে তুলে দিয়ে সে নেমে পড়ে ড্রাইভিং শেখায়। কোনো প্রকার অভিজ্ঞতা ছাড়াই গাড়ি চালানোর কারণে প্রায়শই এসব গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। 

ঐ ব্যবসায়ী জানান, সহকারীরা গাড়ির স্টিয়ারিং পেলে অনেক দ্রুতগতিতে গাড়ি চালায়। এতে মালিকদের অনেক ক্ষতি হয়। কারণ পণ্যবাহী ট্রাকগুলোতে জ্বালানি সাশ্রয় করতে হলে একটি নির্দিষ্ট গতিতে তা চালাতে হয়। ঐ গতির ওপরে উঠলেই তাতে তেল বেশি খরচ হয়।

পণ্যবাহী পরিবহনগুলো দুর্ঘটনার আরেক কারণ হচ্ছে মহাসড়কের নির্দিষ্ট জায়গায় চালকদের আড্ডাবাজি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিভিন্ন মহাসড়কের পাশে চালকদের জন্য নানা খাবার হোটেল গড়ে উঠেছে। চালকদের আড্ডার জন্য এটি মোক্ষম জায়গা। সেসব খাবার হোটেলে রংঙিন টেলিভিশন ব্যবস্হা রাখা হয়েছে। খাবারের জন্য যাত্রাবিরতিকালে চালকরা এসব টেলিভিশনে ছায়াছবির প্রেমে পড়েন। পুরো সিনেমা শেষ না করে তারা উঠতে চান না। যেহেতু সকালের আগে গাড়ি নিয়ে রাজধানী পার হতে হবে সেজন্য চালক পড়িমরি করে গাড়ি নিয়ে রওয়ানা দেন। এতে সড়কে দুর্ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে বিভিন্ন পরিবহন মালিক তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন।

সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি এবং ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির সদস্য মো. রুস্তম আলী খান বলেছেন, ওপরের বিষয়গুলো সত্যি। তবে তিনি বলেছেন, বর্তমানে পণ্যবাহী পরিবহন চালানোর জন্য সহকারী পাওয়া যাচ্ছে না। সড়ক পরিবহন আইনে সহকারীদেরও শাস্তির বিধান থাকায় অনেকে পেশা ছেড়ে চলে গিয়েছেন। 

তিনি বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনার জন্য পণ্য পরিবহনের গাড়িগুলো যে এককভাবে দায়ী তা নয়। অনেক সময় মহাসড়কের অনিবন্ধিত গাড়িগুলোর বেপরোয়া চালানোর ফলেও দুর্ঘটনা ঘটছে। তার মতে, কাভার্ড ভ্যানগুলোর চালকরা যে দক্ষ, তা আমরা বলছি না। তবে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। 

ইত্তেফাক/জেডএইচডি