চিড়িয়াখানায় নতুন অতিথি

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২২, ০৭:৪০

বোঝার উপায় নেই কয়েক দিন হলো তারা সুদূর দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বাংলাদেশে এসেছে। ক্লান্তিতো নেই-ই, উলটো পানি খাওয়া নিয়েও এক দফা মারামারি করল। আবার একটু পরে একপাত্রেই একসঙ্গে পানিও খেল। দক্ষিণ আফ্রিকায় বাড়ি ওদের। এদের একটি পুরুষ সিংহ, অন্যটি নারী সিংহ। তারা জাতীয় চিড়িয়াখানার নতুন অতিথি। তবে এই জুটির সঙ্গে একসঙ্গে আরো এক জোড়া সিংহ আনা হয়েছে। তাদের রাখা হয়েছে আলাদা শেডে। চার সিংহের পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে চিড়িয়াখানার জন্য আনা হয়েছে উইল্ডিবিস্ট। এদের প্রধান খাবার ঘাস। তবে তাদের চোখা সিং দেখে ভয় না পেয়ে উপায় নেই।

শান্তশিষ্ট লামাকে দেখে ভালো না লেগে উপায় নেই। প্রথম বারের মতো জাতীয় চিড়িয়াখানায় নেদারল্যান্ডস থেকে চারটা লামা আনা হয়েছে। আগে থেকেই দুইটা পেনিক্যাল ছিল চিড়িয়াখানায়। এবার আরো তিনটা পেনিক্যাল আনা হয়েছে নেদারল্যান্ডস থেকে। অন্যদিকে চিড়িয়াখানার নতুন অতিথি ক্যাঙ্গারু লজ্জা পেয়েছে কি না কে জানে, সে তার শেড থেকে একবারও বের হলো না। দিল না দেখা। জাতীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানালো, আসার পর খুব একটা শেড থেকে বের হচ্ছে না ক্যাঙ্গারু। মানিয়ে নিতে সময় নিচ্ছে। ক্যাঙ্গারুর বাড়িও নেদারল্যান্ডস। লাল রংয়ের মোট দুইটি ক্যাঙ্গারু এবার আনা হয়েছে। জানা গেছে, চিড়িয়াখানাকে নতুনভাবে সাজাতে এবং দর্শনার্থীদের কাঙ্ক্ষিত বিনোদন দেওয়ার জন্য এসব প্রাণী আনা হয়েছে।

 নেদারল্যান্ডস থেকে আনা হয়েছে এই চারটা লামা। ছবি: বাদশা

নতুন অতিথিদের মধ্যে গত ৩ জুন চার সিংহকে বুঝে নিয়েছে জাতীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। আর তিনটি পেনিক্যাল, চারটি লামা, দুটি ক্যাঙ্গারু ও তিনটি উইল্ডিবিস্টকে এখনো সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বুঝে নেওয়া হয়নি। গত ২৪ জুন এই প্রাণীগুলোকে শেডে দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী এদের ২১ দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এরমধ্যে কোনো ধরনের সমস্যা হলে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এর দায়দায়িত্ব নেবে। ২১ দিন পর প্রাণীগুলোকে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বুঝে নেবে।

চিড়িয়াখানায় আনা নতুন দুই সিংহ। ছবি: বাদশা

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চারটি ক্যাঙ্গারু সরবরাহের ব্যাপারে চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু প্লেনে দুইটি ক্যাঙ্গারু মারা গেছে। তাই এখন দুটি ক্যাঙ্গারু সরবরাহ করা হয়েছে। আর একটি পেনিক্যালের ডানা ভেঙে গেছে। যেটা সরবরাহ করা হয়নি। মোট চারটার মধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে তিনটা। জানা গেছে, প্রতিটি লামা ৩ লাখ ৭৮ হাজার টাকা, পেনিক্যাল ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা, সিংহ ৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ক্যাঙ্গারু ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা আর উইল্ডিবিস্ট ৬ লাখ টাকায় সরবরাহ করা হয়েছে।

ছবি: বাদশা

নতুন প্রাণীদের প্রসঙ্গে চিড়িয়াখানার পরিচালক (ইনচার্জ) মুজিবুর রহমান গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, দর্শনার্থীদের চাহিদার কথা ভেবেই চিড়িয়াখানায় নতুন নতুন প্রাণী আনা হচ্ছে। তবে এক দেশের পরিবেশ, আবহাওয়ার সাথে আরেক দেশের পার্থক্য থাকায় এসব প্রাণীদের খাপ খাইয়ে নিতে কিছুটা সমস্যা হয়। সময় লাগে। তাই এসব প্রাণীদের সময় দিতে হবে।

দেশের সবচেয়ে বড় এই চিড়িয়াখানা ১৯৭৪ সালে মিরপুরে ১৮৬ একর জায়গা নিয়ে গড়ে উঠেছে। বর্তমানে চিড়িয়াখানায় ১২৮ প্রজাতির ৩ হাজার ৬৫টি প্রাণী রয়েছে।

ইত্তেফাক/ইআ