শুক্রবার, ১৯ আগস্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

মির্জাপুরে ক্ষতিপূরণ না দিয়েই উচ্ছেদের অভিযোগ ৩৩ পরিবারের

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২২, ০৯:৪৭

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে গোড়াই শিল্পাঞ্চলে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে জমি অধিগ্রহণ হলেও ৩৩ পরিবার ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে না বলে অভিযোগ ওঠেছে। ক্ষতিপূরণ না পেয়ে তারা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। উচ্ছেদ আতঙ্কে অনিশ্চিয়তার মধ্যে দিন যাপন করছে দরিদ্র পরিবারগুলো। 

গোড়াই মমিননগর এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে সাত্তার, তাহের মিয়া, জিয়ারুল, হাসেম, আরিফা বেগম, আছমা বেগম, হাসিনা বেগম, মালেক ও আলহাজ্ব মিয়াসহ পরিবারগুলোর অন্য সদস্যরা জানান, মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই শিল্পাঞ্চলের মমিননগর মৌজায় ৩০৯ নম্বর ক্ষতিয়ানের সাবেক দাগ নম্বর ৩০৪৫ এবং বর্তমান দাগ নম্বর ২৩৭২ এ জমি কিনে যুগ যুগ ধরে তারা বসবাস করে আসছেন। বসবাসকারী সবাই অতি দরিদ্র এবং দিনমজুর। তাদের নামে দলিল, খাজনা, খারিজসহ বৈধ কাগজপত্র রয়েছে বলে জানান। তারা বলেন, ‘ভিটেমাটিই আমাদের শেষ সম্বল। এটা হারালে পরিবার পরিজন নিয়ে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবো তার কোনো ঠিকানা নেই।’

এদিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্র জানায়, এলাকার বেকারদের জন্য অধিক কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ৪৯ দশমিক ৩৫ একর জমির উপর বিসিক শিল্প পার্ক (শিল্প নগরী) স্থাপনের জন্য ২০১৬ সালে জমি অধিগ্রহণ শুরু করে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এলএ শাখা এবং বিসিক শিল্প মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে জমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং বেশ কিছু জমির মালিককে ক্ষতিপূরণ দেওয়া শুরু হয়েছে। নানা অযুহাতে ৩৩ পরিবারকে কোনো প্রকার ক্ষতিপূরণ না দিয়ে উচ্ছেদ করে দিচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেছেন। 

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্র আরও জানায়, ক্ষতিপূরণ চেয়ে তারা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর এনায়েত হোসেন মন্টুর সুপারিশ নিয়ে জেলা প্রশাসক ও এডিসি বরাবর আবেদন করেছেন। প্রশাসন থেকে তাদের জমি ও ভিটেমাটি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য বার বার নোটিশ দেওয়ায় তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগ করেন। 

এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘গোড়াই মমিননগর এলাকায় শিল্পনগরী হচ্ছে। সরকারি খাস জমিতে যারা দীর্ঘ দিন বসবাস করছেন, তাদের অনুরোধ করা হয়েছে জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য। জেলা প্রশাসক মহোদয় তাদের বসবাসের জন্য দেওহাটা এলাকায় সরকারি খাস জমি এবং নগদ পাঁচ হাজার করে টাকা দেওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারপরও তারা জমি ছেড়ে যাচ্ছেন না। সরকারি নির্দেশনায় এখন আমাদের উচ্ছেদ করা ছাড়া কোনো উপায় নেই।’

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় গোড়াই শিল্পাঞ্চলের মমিননগর এলাকায় বিসিক শিল্পপার্ক নির্মাণ হচ্ছে। ২০১৬ সাল থেকে ওই এলাকায় জমি অধিগ্রহণসহ মাটি ভরাটের কাজ চলছে। এটির নির্মাণকাজ শেষ হলে এলাকায় নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। যাদের বৈধ কাগজপত্র রয়েছে, তারা ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন। যারা ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে না, তাদের জমি নিয়ে সমস্যা রয়েছে এবং তাদের বৈধ কাগজপত্র নেই। যেহেতু পরিবারগুলো দরিদ্র এজন্য প্রশাসন ও শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে তাদের পুনর্বাসনের জন্য কিছু প্রণোদনা দিয়ে সরিয়ে নেওয়ার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর এনায়েত হোসেন মন্টু বলেন, ‘গোড়াই মমিননগর মৌজায় শিল্পনগরী স্থাপন এলাকায় যারা বসবাস করেছেন, তাদের ক্ষতিপূরণের জন্য একাধিকবার তালিকা করা হয়েছে। অসহায় পরিবারগুলো যাতে ক্ষতিপূরণ পায় সেজন্য জেলা প্রশাসকসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট আমি জোর দাবি জানিয়েছি।’ফাক/মাহি 

ইত্তেফাক/মাহি