নড়াইল সদর থানার ওসিকে প্রত্যাহার

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২২, ১২:৪২
 
গত ১৮ জুন নড়াইল সদরের মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজে কয়েক’শ পুলিশের উপস্থিতিতে অধ্যক্ষ শ্বপন কুমার বিশ্বাসকে জুতার মালা পরানো হয়। শিক্ষককে জুতার মালা পরানোর সময় থেকে পুলিশের গাড়িতে ওঠানো পর্যন্ত পুলিশি পাহারা দিচ্ছিলেন ওসি শওকত কবির।
 
এর আগের দিন ১৭ জুন ওই কলেজের একাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী নিজের ফেসবুকে ভারতের রাজনৈতিক দল বিজেপির বহিষ্কৃত মুখপাত্র নূপুর শর্মাকে নিয়ে একটি পোস্ট দেয়। এ নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হলে অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাস কলেজশিক্ষক, ওই শিক্ষার্থীর বাবা ও কলেজ পরিচালনা পরিষদের কয়েকজন সদস্যকে ডেকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনায় নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কলেজ ক্যাম্পাসে পুলিশ ডেকে শিক্ষার্থীকে তাদের কাছে সোপর্দ করা হয়। পুলিশ সদস্যরা ওই শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাস থেকে নিয়ে যেতে চাইলে উত্তেজিত ছাত্র ও বহিরাগত কয়েকজন বাধা দেন। তখন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে বিষয়টি জানানো হয়।
 
পরে শিক্ষক স্বপন কুমার বিশ্বাস এবং ওই শিক্ষার্থীকে কলেজের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে বের করা হয়। নিচতলার কলাপসিবল গেটের সামনে আনার পর তাদের গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেওয়া হয়।
 

ঘটনার পর এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সময়তো ঘটনাস্থলে এলে ঘটনা এতদূর যেতো না। ওই শিক্ষকের অবমাননা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্র ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় কারাগারে আছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এর মধ্যে শনিবার রাতে জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি।

 
 
ইত্তেফাক/এসজেড