কাউনিয়ায় ১১টি রেল ক্রসিং অরক্ষিত। কোনো গেট ও গেটম্যান না থাকায় এসব ক্রসিংয়ে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত কাউনিয়া রেলওয়ে জংশন স্টেশন উত্তর জনপদের একটি অন্যতম রেল যোগাযোগের মাধ্যম। জনপ্রিয় এ রেলপথে সীমান্তবর্তী দুই জেলা কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটসহ রংপুর বিভাগের আট জেলার মানুষ রাজধানী ঢাকা ছাড়াও দেশের নানা প্রান্তে যাতায়াত করেন। প্রতিদিন কাউনিয়া রেলওয়ে জংশন স্টেশন দিয়ে ১০টি আন্তঃনগর ট্রেন মিলে ২২টি ট্রেন চলাচল করছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রেল ক্রসিংগুলোর রাস্তা দিয়ে দিনরাত বিভিন্ন যানবাহন, মানুষ ও গবাদি পশু চলাচল করলেও সেগুলোতে নেই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো গেট, পাহারাদার বা গেটম্যান। ইতিমধ্যে রেল দুর্ঘটনা ঘটেছে উপজেলার থানা রেল ক্রসিং, তকিপল হাট রেলগেট, গের্দ্দ বালাপাড়া রেল ক্রসিং, খোপাতী ও তপসীডাঙ্গা রেল ক্রসিং, পাঞ্জরভাঙ্গা রেল ক্রসিং, শহীদবাগ রেল ক্রসিং, বুদ্ধির বাজারে পাউবোর বাঁধের রাস্তা রেল ক্রসিং, ধর্মেশ্বর মহেশা রেল ঘুন্টি, মৌলটারী রেল ক্রসিং, শহিদবাগের বল্লভবিষু রেল ক্রসিংয়ে। এসব অরক্ষিত রেল ক্রসিং এখন পথচারী ও গবাদি পশুর জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বুদ্ধির বাজারে পাউবোর বাঁধের রাস্তায় রেল ক্রসিং এলাকার আমিনুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি বলেন, ট্রেনচালকরা হুইসেল বাজিয়ে ট্রেন চালিয়ে ক্রসিংগুলো পার করছেন।
এ বিষয় নিয়ে কয়েক বার কাউনিয়া উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভায় দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে বিভাগের কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো লাভ হয়নি বলে জানিয়েছেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রাজ্জাক।
রংপুরের কাউনিয়া রেলওয়ে জংশন স্টেশন মাস্টার মো. আইনুল ইসলাম জানান, কাউনিয়া রেল স্টেশনের আওতায় প্রয়োজনীয় ৪২ জনবলের বিপরীতে চুক্তি ভিত্তিকসহ ২৫ জন দায়িত্ব পালন করছেন। এসব সমস্যার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত আছেন।
