কোরবানির ঈদ সামনে রেখে কালাই উপজেলার কামার পল্লিতে ব্যস্ততা বেড়েছে। কোরবানির পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের জন্য এখন চলছে চাপাতি, দা, বঁটি, ছোরা, ছুরিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরির কাজ। ভাঁতির মাধ্যমে কয়লার আগুনে বাতাস দিয়ে লোহার খণ্ডকে দগদগে লাল করছেন। সেই আগুনে লাল হওয়া লোহার খণ্ড শরীরের সবটুকু জোর একত্র করে হাতুড়ি দিয়ে একের পর এক আঘাত করছেন কামাররা। সবারই হাত, পা, মুখ কালিতে ভরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার কামার পল্লিতে সারা বছরই কামারদের তৈরি লোহার সামগ্রীর চাহিদা থাকে। কিন্তু মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কামার শিল্পীরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। উপজেলার পুনট এলাকার কামারপট্টির নির্মল কর্মকার বলেন, গত বছর থেকে এ বছর কয়লা এবং লোহা শান দেওয়ার পাথরসহ সব কাঁচামালের দাম বেড়েছে। তবে মজুরির কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। কাঁচামালের দাম বাড়লেও তৈরি পণ্য সেই অনুপাতে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করা যাচ্ছে না। সারা বছর কম-বেশি আমাদের কাজ ছিল, এখনো তার চেয়ে একটু বেশি কাজ করতে হচ্ছে। এক কথায় কোরবানির এ সময়টায় কামার পল্লির পুরোনো সেই জৌলুস ফিরে এসেছে।
লিটন কর্মকার নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, বহু বছর ধরে এ পেশার সঙ্গে জড়িয়ে আছি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সব কিছুর দাম বেড়েছে, মানও বেড়েছে। এখন বাজারে একটি বড় দা ওজন ও আকারভেদে ৩২০ থেকে ৪৫০ টাকা, চাপাতি প্রকারভেদে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বিভিন্ন আকারের ছোরা ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। আবার বিভিন্ন সাইজের ছোট ছোরা ৩০ থেকে ১০০ টাকা, বঁটি ২০০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে বিক্রি করা হচ্ছে।
কালাই পৌরসভার ক্রেতা মো. নুরুজ্জামান বালেন, ঈদে নামাজ শেষে আমরা নিজেরাই পশু জবাই করি। তাই লৌহজাত সামগ্রী কিনতে এসেছি। গত বছরের চেয়ে এবার দাম অনেক বেশি চাচ্ছেন।
