কোরবানির কাঁচা চামড়া বেচাকেনায় নৈরাজ্য ঠেকানোর উদ্যোগ নেই

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২২, ০১:৫৭

চট্টগ্রামে গত কয়েক বছর যাবত কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া বিক্রি ও সংরক্ষণ নিয়ে নৈরাজ্য চলছে। জেলায় অনেক চামড়া বিক্রি করতে ও সংরক্ষণ করতে না পারায় নষ্ট হয়ে যায়। গ্রামের কোরবানি দাতারা চামড়া বিক্রির জন্য ক্রেতা পায় না। ফলে অনেকেই বিক্রি করতে না পেরে খালে ফেলে দেয় বা গর্ত করে মাটির নিচে পুঁতে ফেলে। এতে মূল্যবান এই জাতীয় সম্পদ নষ্ট হয়ে যায়। সরকারিভাবেও কোরবানির কাঁচা চামড়া বেচাকেনা ও সংরক্ষণে তদারকি করা হয় না।

গত ২০১৬ সাল থেকে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া বিক্রিতে ধস নেমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মন্দা ও স্থানীয় বাজারে নানা সমস্যার কারণে রপ্তানিজাত চামড়া নিয়ে একধরনের নৈরাজ্য চলছে। ট্যানারি মালিক, আড়তদার ও মৌসুমি চামড়া বিক্রেতাদের সমন্বয়হীনতা বেশি মুনাফা লাভের কারসাজিতে কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না কোরবানি দাতারা। একটি কাঁচা চামড়া ১০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকার বেশি বিক্রি হয় না। আবার গ্রামে কাঁচা চামড়া কেনার লোকও মিলে না। মৌসুমি বেপারিরা বিক্রি করতে পারলে টাকা দেওয়া হবে বলে চামড়া নিয়ে যায়।

আগে বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানার লোকজন কোরবানি দাতাদের কাছ থেকে চামড়া সংগ্রহ করতেন। পরে তারা এসব চামড়া আড়তদারদের কাছে বিক্রি করতেন। কেউ কেউ আবার লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করে পরে বিক্রি করতেন। তারাও চামড়া ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করতে না পারায় এখন চামড়া সংগ্রহ করেন না। প্রতি বছর দেখা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারে মন্দার কথা বলে কোরবানির কাঁচা চামড়ার দর নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। প্রতি বর্গফুট হিসাবে চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হলেও কোরবানি দাতাদের কাছ থেকে সেই নিয়মে চামড়া কেনা হয় না। গড়ে প্রতিটি চামড়া কেনা হয়। কিন্তু এসব চামড়া মৌসুমি বেপারি ও আড়তদাররা ট্যানারির কাছে বর্গফুট হিসেবে বিক্রি করেন। পশু থেকে চামড়া পৃথক করার দক্ষ লোকের অভাবে প্রচুর কাঁচা চামড়া অবিক্রীত রয়ে যায়। কাটা-ছেঁড়া চামড়া বিক্রি হয় না।

সম্প্রতি শিল্প মন্ত্রণালয় কোরবানির কাঁচা চামড়া সংরক্ষণ ও বেচাকেনায় সমন্বয় করতে সার্কুলার জারি করেছেন। কিন্তু এতে প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ এখনো চোখে পড়েনি। চট্টগ্রামের আতুরার ডিপো, ডবলমুরিং, চাক্তাই এলাকায় প্রায় দেড় শতাধিক কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী রয়েছে। মৌসুমি বেপারিরা বিভিন্ন স্থান থেকে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করে আড়তদারদের কাছে বিক্রি করেন। কিন্তু প্রতি বছর অভিযোগ উঠে আড়তদার ব্যবসায়ীরা সরকার নির্ধারিত মূল্যে চামড়া কিনে না। এতে মৌসুমি বেপারিরা লোকসানে পড়ে। জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কাঁচা চামড়া আড়তদার সমবায় সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ মুসলিম উদ্দিন বলেন, মৌসুমি বেপারিরা কাঁচা চামড়ার বাজার নষ্ট করছে। তারা চামড়া সংরক্ষণ করতে জানে না। চামড়ার দর না জেনে চামড়া কিনে থাকে। আর ট্যানারি মালিকদের কাছেও আমরা ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করতে পারি না। নগদে কিনে বাকিতে বিক্রি করতে হয়। অথচ কোরবানির চামড়া সংগ্রহ করতে ট্যানারি মালিকরা সরকারিভাবে ব্যাংকসুবিধা পেয়ে থাকেন। আমাদের ঋণ দেয় না কোনো ব্যাংক।’

ইত্তেফাক/ইআ