ঈশ্বরদীতে নজর কেড়েছে গোলাপি মহিষ

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২২, ১৮:০৮

পাবনার ঈশ্বরদীতে কোরবানির জন্য ক্রেতাদের নজর কেড়েছে গোলাপি রঙের মহিষ। পৌর এলাকার অরণকোলাহাট সংলগ্ন বেশ কয়েকটি খামারে এবার গোলাপি মহিষ পালন করা হয়েছে। দুর-দূরান্ত থেকে এসব মহিষ কিনতে ক্রেতারা খামারে আসছেন। অনলাইনেও অনেকে গোলাপি মহিষ কিনে নিচ্ছেন। 

গোলাপি রঙের মহিষ দেখতে খামারে প্রতিদিন শত শত মানুষ ভিড় করছেন। অরণকোলা খামারগুলোতে প্রায় তিন-চার বছর ধরে গোলাপি রঙের মহিষ পালন করা হলেও এবারই প্রথম কোরবানির জন্য বিক্রি করা হচ্ছে।

অরণকোলার আলো ডেইরি ফার্মের মালিক মাহাবুবুল আলম আলো জানান, তার খামারে দুটি গোলাপি রঙের মহিষ রয়েছে। এবার কোরবানিতে এগুলো তিনি বিক্রি করবেন। প্রতিদিনই ক্রেতারা আসছেন দরদাম করছেন। অনেকেই গোলাপি মহিষ দেখতে আসছেন।  

গোলাপী রঙের মহিষ।

মামা কৃষি ফার্মের মালিক শামীম হোসেন জানান, সাড়ে তিন বছর আগে তিনি অরণকোলা হাট থেকে গোলাপি রঙের দুটি মহিষের বাছুর ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে কিনেছিলেন। মহিষ দুটি সাড়ে ৯ লাখ টাকায় তিনি বিক্রি করেছেন। এ মহিষ কালো মহিষের মতোই শান্ত প্রকৃতির। খাদ্যাভ্যাসে কোনো পরিবর্তন নেই। শরীরের রঙ গোলাপি হওয়ায় ক্রেতাদের কাছে এ মহিষের কদর বেশি।

অরণকোলা ওয়ান স্টপ ক্যাটল র‌্যান্স ডেইরি ফার্মের মালিক গোলাম কিবরিয়া সোহান জানান, সাড়ে তিন বছর ধরে তিনি গোলাপি রঙের মহিষ পালন করছেন। কয়েকটি মহিষ বিক্রি হয়েছে। আরও দুটি মহিষ আছে। এ দুটির দরদাম চলছে। ১৪ মণ ওজনের মহিষটি ৫ লাখ টাকা দাম হয়েছে। আরেকটির দাম চার লাখ টাকা বলেছে।

গোলাপী রঙের মহিষ।

জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র ঈশ্বরদীর উপপরিচালক ডা. কাজী আশরাফুল ইসলাম জানান, সাধারণত বার্মা, থাইল্যান্ড ও ইন্ডিয়া থেকে এ ধরনের মহিষ এদেশে আনা হয়। শখের বশে অনেকেই পালন করছেন। গোলাপি মহিষ বাণিজ্যিকভাবে এখনো পালন শুরু হয়নি। গায়ের রঙ গোলাপি হওয়ায় এ মহিষের কদর বেশি মনে হচ্ছে।

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহিষ উন্নয়ন প্রকল্পের (দ্বিতীয় পর্যায়ের) পরামর্শক (কনসালটেন্ট) অধ্যাপক ওমর ফারুক জানান, গোলাপি বা সাদা রঙের মহিষ বার্মা এলাকায় বেশি দেখা যায়। এগুলো কক্সবাজারের টেকনাফ হয়ে এদেশে আসে। গায়ের রঙ গোলাপি হওয়ায় এগুলো দেখতে বেশ সুন্দর। তাই কোরবানির ঈদে ক্রেতাদের কাছে এগুলোর চাহিদা বেশি মনে হচ্ছে। এসব মহিষের মাংস বেশ সুস্বাদু। 

ইত্তেফাক/ইউবি