বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২, ১ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

অসহনীয় লোডশেডিংয়ে বাড়ছে চার্জার ফ্যানের চাহিদা 

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২২, ১৯:০১

রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে সম্প্রতি ‘অসহনীয় লোডশেডিং’ বাড়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে দিনে ১২/১৩ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ থাকছে না। একেকবার টানা ৩/৪ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হচ্ছে লোডশেডিং। এতে প্রচণ্ড গরমে জনজীবনে নেমে এসেছে অস্বস্তি। গরম থেকে রক্ষা পেতে অনেকেই স্বল্পমূল্যের ছোট ছোট চার্জার ফ্যান কিনছেন। ক্রেতা-বিক্রেতা বলছেন, তীব্র গরম থেকে রক্ষা পেতে আপাত এই চার্জার ফ্যানই ভরসা। তবে, কোনো কোনো ক্রেতা বলছেন, চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অনেক দোকানি চার্জার ফ্যানের দামও বাড়িয়ে দিয়েছেন। তবু, বাধ্য হয়ে কিনতে হচ্ছে। 

ঢাকার শ্যামপুরের স্থায়ী বাসিন্দা দুলাল মিয়া। তিনি ব্যবসা করেন। তার স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে পরিবারে। মেয়ে দুজন পড়েন কলেজে। এক সপ্তাহ আগেও তার এলাকায় বিদ্যুৎ যেতো না। এখন রাত-দিন মিলে দুই-তিন বার বিদ্যুৎ থাকে না। তাই তিনি এসেছেন চার্জার ফ্যান কিনতে স্থানীয় একটি ইলেকট্রনিক পণ্যের দোকানে। তিনি বলেন, ‘আগে সপ্তাহেও বিদ্যুৎ যায়নি। এখন যাচ্ছে ২৪ ঘণ্টায় দুই-তিনবার। মেয়েরা অনেক রাত পর্যন্ত পড়ে। তাই ওদের জন্য ফ্যান কিনতে আসছি।’

চার্জার ফ্যান হাতে ক্রেতা-বিক্রেতা। ছবি: ইত্তেফাক

ঢাকার উত্তরা আজমপুর কাঁচাবাজার এলাকার বাসিন্দা শাহ্ আলম। চাকরি করেন পোশাক কারখানায়। তিনি স্থানীয় ইলেকট্রনিক পণ্যের দোকানে এসেছেন চার্জার ফ্যান কিনতে। শাহ্ আলম বলেন, ‘আমাদের এলাকায় আগে বিদ্যুৎ দু’একদিন পরে পরে যেত অল্প সময়ের জন্য। এখন দিনে ১-২ দুবার যায়। দিনে তো অফিসে থাকি। সন্ধ্যার পর বাসায় ফিরলে কারেন্ট গেলে প্রচণ্ড গরম লাগে। সব মিলে যতক্ষণ বাসায় থাকি, ঘণ্টাখানেক বিদ্যুৎ থাকে না। তবুও ছোট্ট একটা চার্জার ফ্যান কিনতে আসলাম। এই ফ্যানের একটু দাম বেশি। তবুও কিনবো।’ 

ঢাকার গ্রিন রোডের বাসিন্দা আলেয়া খাতুন। তার এক ছেলে-এক মেয়ে। স্বামী ব্যবসায়ী। তিনিও তার ছোট্ট ছেলে-মেয়ের জন্য চার্জার ফ্যান কিনতে এসেছেন দোকানে। তিনি বলেন, ‘৩-৪ দিন যাবত বিদ্যুৎ এখন একটু বেশি যায়। তবে, ক্ষণিকের জন্য। এই ধরুন, আধাঘণ্টা ৪০ মিনিট বিদ্যুৎ থাকে না। তেমন সমস্যা এখনো হচ্ছে না। তবে শুনতাছি সামনে এই সমস্যা বাড়বো। তাই চার্জার লাইট, ফ্যান কিনতে এসেছি। দাম একটু কম হলে ভালো হতো। এই সুযোগে দোকানিরা দাম বাড়াইলো কি না, বুঝতাছি না।’

মোহাম্মদপুরের বাবর রোডে সরকারি চাকরির সুবাদে থাকেন নূরুল ইসলাম। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা। তিনি স্ত্রীর জন্য একটি চার্জার ফ্যান কিনেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের ঢাকা বাবর রোড তেমন বিদ্যুৎ যায় না। ২৪ ঘণ্টায় একবার যায়। বা দুবার গেলেও ১৫-২০ মিনিট থাকে। তবে, আমার গ্রামের বাড়ি প্রচুর বিদ্যুৎ যায়। গেলে আর আসতে চায় না। ৪/৫ বারও যায়। সমস্যাটা এখন বাড়ছে ধীরে ধীরে। স্ত্রীর জন্য একটি চার্জার ফ্যান কিনে নিয়ে যাচ্ছি। সে আবার গরম সহ্য করতে পারে না।’

মাদারীপুরের শিবচরের বাসিন্দা কুলসুম। গৃহিণী। তিনি বলেন, ‘বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ আছে, কিন্তু বাবারে বিদ্যুৎ তো থাকে না। প্রায়দিনই সেই সন্ধ্যায় যায়, রাইত কইরা আহে। আর দুপুরে গরম বাড়লে কারেন্ট যায় বেশি। অনেক সমস্যা।’ 

লোডশেডিং ও গরমে চার্জার ফ্যানের খোঁজে ক্রেতারা

ঢাকার শ্যামলির ইলেকট্রিক পণ্যের দোকানদার আবদুর রহমান বলেন, ‘গত একসপ্তাহ ধরে চার্জার ফ্যান বিক্রি তিনগুণ বেড়েছে। তবে, আমরা দাম বাড়াইনি। এই ফ্যানের দাম এমনেই একটু বেশি। ক্রেতারা এখন নর্মাল ফ্যানের চেয়ে চার্জার ফ্যান বেশি কেনেন। গরমের দিনে সবসময়ই এই ফ্যানের বেচাবিক্রি বাড়ে।’

ঢাকার গ্রিন রোডের ইলেকট্রিক পণ্যের দোকানদার সামাদ মিয়া বলেন, ‘গরমে সবসময়ই চার্জার ফ্যানের বিক্রি বাড়ে। তবে, গত এক সপ্তাহে বেশি বিক্রি হয়েছে। অনেকে অগ্রিম অর্ডার দিয়ে গেছেন। তাদের সাপ্লাই দিতে হবে। মাঝারি সাইজের এই ফ্যান আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা। ছোট ফ্যানও ১ হাজার ৮০০ টাকা। ২ হাজার টাকার নিচে না। তবে, দাম বাড়েনি।’

ঢাকার নিউমার্কেটের হোলসেল দোকানদার তারা মিয়া বলেন, ‘গত ৪-৫ দিন ধরে এই ফ্যানের অর্ডার বেশি। ছোট ফ্যান তুলনামূলক দাম কম, বিক্রিও বেশি। গরম বাড়লে মানুষ চার্জার ফ্যান বেশি কেনে। দুই/তিন ডাবল বিক্রি হচ্ছে এই ফ্যান। এই পণ্য মানুষ কেনার পেছনে কারণ আছে, বিদ্যুৎ গেলেও এই ফ্যান চলে।’ তিনি চার্জার ফ্যানের দাম বাড়া-কমা নিয়ে বলেন, ‘আমরা বাইরে থেকে এসব পণ্য বেশি ইমপোর্ট করি। আনা-নেওয়ার ও ভ্যাট খরচের ওপর নির্ভর করে এর দাম কমে-বাড়ে। আমাদের হাত নেই।’

/ইত্তেফাক অনলাইন/এনই/