খেলাধুলায় আরব দেশগুলোর তেমন একটা নামডাক নেই বললেই চলে। কিন্তু একজন আছেন যার লক্ষ্যই ইতিহাস বদলে নতুন করে ইতিহাস লেখার। নাম তার ওনস জাবের। টেনিসের উন্মুক্ত যুগে আরব ও উত্তর আফ্রিকার প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে উইম্বলডনের সেমিফাইনালে পা রেখেছেন এই তিউনিসিয়ান কন্যা। শুধু উইম্বলডনই নয়, গ্র্যান্ড স্ল্যাম ইতিহাসেই এটা প্রথম।
গত বছর কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিয়েছিলেন। এবার মারিও বুঝকোভার বিপক্ষে কোর্টে নেমেই হেরে বসেন প্রথম সেট। কিন্তু হাল ছাড়েননি জাবের। অতীতের পুনরাবৃত্তি না করে বরং ঘুরে দাঁড়ান দারুণভাবে। ৩-৬, ৬-১, ৬-১ গেমে জিতে প্রথমবার কোনো গ্র্যান্ড স্ল্যামের সেমিফাইনাল খেলতে যাচ্ছেন তিনি, ‘আমি খুবই, খুবই খুশি। বিশেষ করে তা এই কোর্টে করতে পেরে। কারণ এই কোর্টের প্রতি প্রচুর ভালোবাসা আছে আমার। আশা করি আমার জার্নিটা চলতে থাকবে।’
মায়ের ইচ্ছায় তিন বছর বয়সে টেনিসে হাতেখড়ি জাবেরের। তিউনিসিয়ায় যদিও টেনিস খুব একটা জনপ্রিয় নয়। অনেকেই এর নিয়ম বোঝেন না। তাই ক্যারিয়ারের শুরুতে খোঁচা, তাচ্ছিল্যতা ছিল তার নিত্যদিনের সঙ্গী। যখন গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের স্বপ্নের কথা বলতেন তখন অনেকেই হেসে উড়িয়ে দিত। কিন্তু এখন সেই স্বপ্ন পূরণের মাত্র দুই ধাপ পেছনে ২৭ বছর বয়সি জাবের। ২০১১ তে জুনিয়র ফ্রেঞ্চ ওপেন জিতে তাক লাগিয়ে দেন তিনি। তবে পেশাদার টেনিসে তার সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে সময় কিছুটা সময় লাগে। চলতি বছর অবশ্য নিঃসন্দেহে নিজের সেরা সময় কাটাচ্ছেন। উইম্বলডন শুরুর দিনই উঠেছেন র্যাংকিংয়ের দুই নম্বরে। এখন বজায় রেখেছেন সেই তকমা।
সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ হিসেবে ঘনিষ্ঠ বন্ধু তাতইয়ানা মারিয়াকে পেয়ে জাবের বলেন, ‘আমি তাকে খুব ভালোবাসি এবং তার পরিবার খুবই অসাধারণ। তার সঙ্গে খেলাটা কঠিন হবে। তবে সে অসাধারণ এক বন্ধু এবং আমি খুবই খুশি যে সে সেমিফাইনালে উঠেছে।’
মারিয়ার পথচলাটাও কম রোমাঞ্চকর নয়। ৩৪ বছর বয়সি এই জার্মান এক বছর হলো দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। এবারের উইম্বলডনে আসার আগে প্রতিটি গ্র্যান্ড স্ল্যামে তার সফর ছিল ক্ষণিকের জন্য। সর্বোচ্চ সাফল্য ২০১৫ উইম্বলডনের তৃতীয় রাউন্ডে উঠা। কিন্তু এবার রূপকথার গল্পের মতোই অবিশ্বাস্যভাবে সেমিফাইনালে পা রেখেছেন মারিয়া। শেষ চারে উঠার লড়াইয়ে ৪-৬, ৬-২, ৭-৫ গেমে হারিয়েছেন স্বদেশি ইউলে নিয়েমেরকে। নারী এককের অপর সেমিফাইনালে এলিনা রিবাকিনার মুখোমুখি হবেন সিমোনা হালেপ।
এদিকে পুরুষ এককে সেমিফাইনালে উঠেছেন বর্তমান চ্যাম্পিয়ন নোভাক জোকোভিচ। পাঁচ সেটের ম্যারাথন থ্রিলারে ইয়ান্নিক সিনারকে ৫-৭, ২-৬, ৬-৩, ৬-২, ৬-২ গেমে হারিয়ে ২১তম গ্র্যান্ড স্ল্যামের পথে আরো এক ধাপ এগোলেন তিনি। সেমিফাইনালে তার প্রতিপক্ষ টুর্নামেন্টে টিকে থাকা একমাত্র ব্রিটিশ ক্যামেরন নরি।
