বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট ২০২২, ৩ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

সিনেমায় অনুদান বন্ধের দাবি

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২২, ১৮:১৮

চলচ্চিত্র অনুদানকে সরকারের মতাদর্শের প্রচারবাহী ‘চলচ্চিত্র শাখা’ ভাবার মনোভাব থেকে বের হয়ে আসতে হবে। চলচ্চিত্র অনুদান দেয়া উচিত কেবলমাত্র তেমন সক্ষম চলচ্চিত্রকারকে যিনি চলচ্চিত্র ভাষায় নতুন কোনো নিরীক্ষা করতে পারবেন। যিনি চলচ্চিত্রের ভাষায় ও ভঙ্গিতে নতুন স্বরের দৃশ্যময়তা সৃষ্টি করতে পারবেন।

বুধবার (৬ জুলাই) বিকেলে এমন বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক ও সংগঠক বেলায়াত হোসেন মামুন।

লিখিত প্রবন্ধে আরও বলেন, চলচ্চিত্র অনুদান কেবলমাত্র চলচ্চিত্রকারদের দেয়া হোক, প্রযোজকদের নয়। তিনি বলেন, ‘বর্তমান চলচ্চিত্র অনুদান বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সংস্কৃতিতে কোনো অবদান রাখতে পারছে না। এর কারণ চলচ্চিত্র অনুদানে চলচ্চিত্রের নিরীক্ষাময়তাকে গুরুত্ব দেয়া হয় না। চলচ্চিত্র অনুদান তরুণ ও নবীন চলচ্চিত্রকারদের দেয়া উচিত এবং অবশ্যই বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রকে অনুদানের বাইরে রাখা উচিত।’

তিনি তার প্রবন্ধে, বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের জন্য এফডিসির ব্যবস্থাপনায় পৃথক প্রকল্প গ্রহণের প্রস্তাব করেন। এছাড়া তিনি আরও প্রস্তাব করেন, মুক্তিযুদ্ধনির্ভর চলচ্চিত্রের জন্য সরকারের পৃথক প্রকল্প গ্রহণের। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অনুদানের সীমিত বাজেটে মুক্তিযুদ্ধনির্ভর বা ইতিহাসনির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাণ অসম্ভব এবং এ ধরণের চেষ্টাগুলো শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।’

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পর্ষদের আয়োজনে গতকাল ৬ জুলাই, ঢাকার পরিবাগের সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রে বিকাল ৫টায় ‘অনুদান নীতিমালা সংস্কারসহ সরকারি অনুদানে চলচ্চিত্র নির্মাণ বিষয়ে মৌল ভাবনার পরিবর্তন' বিষয়ক সভায় লিখিত এই প্রস্তাব উপস্থাপন করেন চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক ও সংগঠক বেলায়াত হোসেন মামুন। এ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য চলচ্চিত্রকার মসিহউদ্দিন শাকের।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক চলচ্চিত্র নির্মাতা অদ্রি হৃদয়েশের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি চলচ্চিত্র নির্মাতা মাহবুুব হোসেন, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পর্ষদের সাংগঠনিক সম্পাদক রুমকী রুসা, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পর্ষদের অর্থ সম্পাদক খাদিজা জামানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সভায় উপস্থাপিত প্রবন্ধের পাঠ আলোচনায় চলচ্চিত্রকার মসিহউদ্দিন শাকের বলেন, ‘চলচ্চিত্র অনুদান যে বাস্তবতায় শুরু হয়েছিল আর আজ যেভাবে অনুদান দেয়া হচ্ছে এটা খুবই দুঃখজনক অবস্থা। এই অনুদানের পুরো ব্যবস্থাপনাই এখন সংস্কারের প্রয়োজন। চলচ্চিত্র অনুদান অবশ্যই চলচ্চিত্রের নতুন ভাষা সৃষ্টির জন্য তরুণ ও নবীন চলচ্চিত্রকারদের দেয়া উচিত। অনুদানের সকল অস্বচ্ছতার অবসান হওয়া উচিত। আমি আজকে প্রস্তাবিত এই প্রবন্ধের সাথে সম্পূর্ণ একমত।’


সভায় আলোচনায় অংশ নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাতা মাহবুব হোসেন বলেন, ‘চলচ্চিত্র অনুদান নিয়ে আমাদের ক্ষোভ আছে। অনুদান এখন হয়ে গেছে স্বজনপ্রীতির হাতিয়ার। রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুদান দেয়া হচ্ছে। লবিং ছাড়া অনুদান পাচ্ছে না কেউ। এই অবস্থায় এই অনুদান আমাদের দেশের কোনো কাজে আসছে না। চলচ্চিত্র অনুদানের পুরো ব্যবস্থা বদলানো এখন জরুরি হয়ে গেছে।’

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক অদ্রি হৃদয়েশ তার বক্তব্যে বলেন, ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পর্ষদ বিগত দিনগুলোতেও চলচ্চিত্র অনুদানের অস্বচ্ছতা, জবাবদিহিহীনতার বিষয়ে সোচ্চার ছিল। অনুদানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জরুরি কারণ একমাত্র সরকারি অনুদানেই তরুণ ও নবীন চলচ্চিত্রকারগণ নতুন ভাষার চলচ্চিত্র নির্মাণের নিরীক্ষা করার সুযোগ পায়। বর্তমান চলচ্চিত্রের সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে নতুন ভাষার চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য কোনো ব্যক্তিমালিকানার প্রযোজক অর্থলগ্নি করার সাহস করেন না। কিন্তু যদি চলচ্চিত্রে নতুন ভাষা ও ভঙ্গির নিরীক্ষা না হয় তাহলে আমাদের চলচ্চিত্র সংস্কৃতির কোনো বিকাশ হবে না। আমাদের চলচ্চিত্র অবিকশিত, পশ্চাদপদ রয়ে যাবে। কিন্তু আমরা তো তা চাই না।

তাই বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পর্ষদ চলচ্চিত্র অনুদানের বর্তমান নীতিমালা সংস্কার করে অনুদানের মৌল ভাবনা পরিবর্তনের এই প্রস্তাব করছে। সামনের দিনগুলোতে এই দাবিতে আমরা আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ও প্রতিবাদ অব্যাহত রাখবো। আমরা চাই সরকার এই বিষয়ে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।’

ইত্তেফাক/বিএএফ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন