বিভিন্ন স্থানে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। দুই দিন পর ঈদ। শেষ মুহূর্তে বাজারে ক্রেতাদের ভিড় বেশি লক্ষ করা গেছে। খামারি ও ব্যবসায়ীরা গরু নিয়ে হাটবাজারে আসছেন। তবে এখনো গরুর দাম চড়া বলে কয়েকটি এলাকার ক্রেতারা জানিয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে খামারি ও পাইকাররা কোরবানির পশু নিয়ে এসব হাটে আসছেন। ছোট-বড় বিভিন্ন আকৃতির পশু থাকলেও ক্রেতাদের দৃষ্টি ছোট ও মাঝারি পশুর দিকেই। জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানিয়েছে রোগাক্রান্ত ও স্টেরয়েডযুক্ত পশু শনাক্তে হাটগুলোতে ভেটেরিনারি মেডিক্যাল টিম কাজ করছে। জেলায় প্রায় ১০০ স্থানে পশুর হাট বসেছে। এর মধ্যে জেলা সদরে রয়েছে ৯টি হাট। প্রতিটি হাটেই দেশীয় গরুর পাশিপাশি মহিষ, ছাগলসহ পর্যাপ্ত সংখ্যক কোরবানির পশু রয়েছে।
ভোলা (দক্ষিণ) প্রতিনিধি জানান, কোরবানির পশুর হাট জমে উঠেছে। তবে বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার গরু-ছাগলের দাম একটু বেশি। ভোলার বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা যায়, বিপুল সংখ্যক গরু আনা হচ্ছে। হাটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। জেলায় এবার কোরবানিতে ৯৭ হাজার ৫০০ পশুর চাহিদার বিপরীতে ১ লাখ তিন হাজার পশু রয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ইন্দ্রজিত কুমার মণ্ডল জানান, ভোলায় এবার পর্যাপ্ত পরিমাণ কোরবানির পশু আছে। জেলায় এবার কোরবানিতে ৯৭ হাজার ৫০০ পশুর চাহিদার বিপরীতে ১ লাখ ৩ হাজার পশু রয়েছে। জেলায় মোট ২১টি ভেটেরিনারি টিম মাঠে সর্বদা কাজ করে যাচ্ছে।
রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, রায়গঞ্জের আটটি কোরবানির পশুর হাটে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর বেচাকেনা। বৃহস্পতিবার উপজেলার ধানগড়া হাইস্কুল মাঠে গিয়ে দেখা যায় গরু, ছাগল, মহিষ বেচকেনার ধুম পড়েছে। কোরবানির পশু কিনতে আসা রায়গঞ্জ পৌরশহরের রণতিথা মহল্লার হাসানুজ্জামান সুলতান বলেন, গরুর দাম গত বছরের চেয়ে বেশি। গরু বিক্রেতা ওসমান আলী বলেন, এবার গরুর দাম বেশি দেখা গেলেও আমাদের লোকসান হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তৃপ্তিকণা মণ্ডল জানান, প্রতিটি হাটে নিরাপত্তা ব্যবস্হা জোরদার করা হয়েছে এবং হাটে জাল টাকা প্রতিরোধ ব্যবস্হা নেওয়া হয়েছে।
ডোমার (নীলফামারী) সংবাদদাতা জানান, কোরবানির পশুর হাটগুলোতে ইজারাদারদের ইচ্ছানুযায়ী টোল আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। হাটে টানানো হয়নি পশু কেনা বেচার টোল প্রদানের সাইনবোর্ড। অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও লিখিত অভিযোগ করেছে বসুনিয়া হাট এলাকার স্থানীয়রা। বোড়াগাড়ী হাট ইজারাদার সাইদার রহমান বলেন, শুধু ঈদ উপলক্ষে ২০০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মো. রমিজ আলমের কাছে পশু কেনাবেচার হাটগুলোতে অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তসাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্হা গ্রহণ করা হবে।
নাজিরপুর (পিরোজপুর) সংবাদদাতা জানান, বিভিন্ন হাটে বিপুল সংখ্যক পশু এলেও ক্রেতা কম দেখা গেছে। দামও বেশি বলে অনেকে জানান। সরোজমিনে দীঘিরজান,গাওখালী,মাটিভাঙ্গা হাট ঘুরে দেখা গেছে, বিপুল সংখ্যক বিক্রেতা তাদের গরু ছাগল নিয়ে হাটে এসেছেন। তবে ক্রেতার সংখ্যা কম থাকায় বেচাকেনা তেমন নেই। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তরিকুল ইসলাম বলেন, বাজারে দেশীয় গরুর চাহিদা বেশি রয়েছে। আশা করছি, খামারি ও কৃষকরা লাভবান হবেন।
