চট্টগ্রামে আড়তদারদের সিন্ডিকেট করে কোরবানির পশুর চামড়া ক্রয়

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২২, ০১:৫০

গত কয়েক বছর যাবৎ চট্টগ্রামে সিন্ডিকেট করে কোরবানির পশুর চামড়া বেচাকেনা হচ্ছে। আড়তদার পাইকারি ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে চামড়া ন্যায্য মূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। কোরবানির পশুর চামড়া বেচাকেনায় কয়েক দফায় হাতবদল হয়ে থাকে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-নির্ধারিত দরে চামড়া কেনে না আড়তদার পাইকারি ব্যবসায়ীরা। তারা গড় মূল্যে চামড়া কিনে বর্গফুট হিসাবে বিক্রি করেন। ফলে চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে প্রশাসনের তদারকি প্রয়োজন বলে মনে করছেন বাজার-সংশ্লিষ্টরা।

মৌসুমি চামড়ার ব্যাপারীদের অভিযোগ, চট্টগ্রামে প্রায় ৫০/৬০ জন আড়তদার রয়েছেন। তারা সিন্ডিকেট করে একই দরে কাঁচা চামড়া কিনে থাকেন। এতে মৌসুমি ব্যাপারীরা চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়েন। আবার আড়তদাররা জেলার বিভিন্ন জায়গায় এলাকাভিত্তিক লোক নিয়োগ করে কোরবানিদাতাদের কাছ থেকে সরাসরি কম দামে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করে থাকেন।

আড়তদারদের হিসাবমতে, চট্টগ্রামে প্রায় ৭ লাখের মতো কোরবানির পশু জবাই করা হয়। এর মধ্যে সাড়ে ৩ লাখ থেকে ৪ লাখ পর্যন্ত কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করেন চট্টগ্রামের আড়তদার পাইকারি ব্যবসায়ীরা। কোরবানির দিন দেড় লাখের ওপরে সংগ্রহ হয় না। মৌসুমি ব্যাপারীরা জেলার বিভিন্ন স্থানে লবণ দিয়ে মজুত করে রাখেন। পরবর্তী সময়ে এসব চামড়া আড়তদার বা ট্যানারির কাছে বিক্রি করেন। লবণযুক্ত করে কাঁচা চামড়া প্রায় তিন মাস পর্যন্ত রাখা যায়। পরবর্তী সময়ে ট্যানারির কাছে বিক্রি না করলে নষ্ট হয়ে যায়। এখন আবহাওয়া গরম হওয়ায় দ্রুত লবণযুক্ত না করলে নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

চট্টগ্রামে আগে দেড় শতাধিক আড়তদার চামড়া ব্যবসায়ী ছিলেন। বর্তমানে স্থায়ী আড়তদার আছেন ৪০-৫০ জন। আর ২০-৩০ জন মৌসুমি আড়তদার রয়েছেন। তারা শুধু কোরবানির সময় কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করে লবণযুক্ত করেন। এছাড়া চট্টগ্রামে একসময় ১৮-২০টি ট্যানারি চালু ছিল। বর্তমানে একটি মাত্র ট্যানারি রয়েছে। তারা সীমিত পরিমাণে চামড়া ক্রয় করে থাকেন। ফলে চট্টগ্রামে ট্যানারি না থাকায় ঢাকার ট্যানারির ওপর নির্ভরশীল থাকতে হয় চট্টগ্রামের চামড়ার বাজার। এতে ঢাকার ট্যানারিগুলোও চট্টগ্রামে ট্যানারি না থাকার সুযোগ নিয়ে থাকেন। কারণ এক পর্যায়ে তাদের কাছেই চামড়া বিক্রি করতে হয়।

ইত্তেফাক/এএইচপি