ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিত্সকসহ জনবল সংকটের কারণে চিকিত্সাসেবা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন চিকিত্সা নিতে আসা রোগীরা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নিত করা হলেও শুধু প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, চিকিত্সকসহ জনবল সংকটের কারণে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা বিভিন্ন এলাকার রোগীরা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শর্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হওয়ার পর থেকেই কার্ডিওলজি, শিশুরোগ, সার্জারি, চক্ষুবিদ্যা, গাইনি, স্কিন এলডিডি, অর্থোপেডিক, মেডিসিন, সার্জারি, ইএনটি ও অ্যানেসথেশিয়া—এই ১১টি পদের বিপরীতে ১১ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকার কথা। কিন্তু শুধু অ্যানেসথেশিয়া পদে একজন চিকিৎসক থাকলেও শূন্য রয়েছেন ১০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ।
একইভাবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ১৬ জন মেডিক্যাল অফিসারের পদ থাকলেও কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৯ জন, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের সাত জনের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন পাঁচ জন, ৩০ জন নার্সের স্থলে কর্মরত আছেন ২৫ জন, ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ সর্বমোট ৯৩ জন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর স্থলে কর্মরত আছেন ৬৮ জন, ১৯ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর স্থলে কর্মরত আছেন ১০ জন। এতে সর্বমোট ১৮৬টি পদের মধ্যে ১০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সাত জন মেডিক্যাল অফিসারসহ ৫৭টি পদেই শূন্য রয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সহকারী অধ্যাপক অমর চাঁদ গুপ্ত অপু বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে সাতজন চিকিৎসক যোগদান করেছেন। আগামী দিনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পদায়নের জন্য চেষ্টা চলছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মশিউর রহমান বলেন, বর্তমানে যে সংখ্যক জনবল রয়েছে তা দিয়েই রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। অপারেশন থিয়েটারে আরো কিছু যন্ত্রপাতির প্রয়োজন রয়েছে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পাওয়া গেলেই অপারেশন কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এছাড়া ফুলবাড়ীসহ পার্শ্ববর্তী চার উপজেলার কিছু অংশের জনগণের চিকিৎসাসেবা এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করা হলেও এর জন্য বাড়তি ওষুধ কিংবা অন্যান্য সরঞ্জামাদি বরাদ্দ দেওয়া হয় না।
