ট্যানারি মালিকদের কাছে বকেয়া ৪ কোটি টাকা রয়েছে। এরই মধ্যে লবণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ঈদে চামড়ার ব্যবসা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন সৈয়দপুরের ব্যবসায়ীরা। এখন লবণযুক্ত চামড়ার বদলে কাঁচা চামড়া রপ্তানির প্রক্রিয়া শুরু করার দাবি জানিয়েছেন তারা। একইসঙ্গে ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে ব্যবসার তদারকির দায়িত্ব চেম্বার অফ কমার্সের ওপর দেওয়ার আহ্বান জানান।
ব্যবসায়ী সূত্র মতে, বিগত পাঁচ-৬ বছরে ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে প্রায় ৪ কোটি টাকা বকেয়া পড়ে রয়েছে। এসব বকেয়া টাকা তুলতে না পেরে অনেকেই বাবা-দাদার ব্যবসা ছেড়ে দিচ্ছেন। এখন হাতেগোনা ১৫ থেকে ১৬ জন ব্যবসায়ী এ পেশার সঙ্গে জড়িত আছেন। চামড়া ব্যবসায়ী সরফরাজ মুন্না বলেন, ‘সরকারকর্তৃক নির্ধারিত মূল্যে ট্যানারি মালিকরা চামড়ার দাম দেয় না। লবণযুক্ত মালামাল হওয়ায় উপায়হীন হয়ে তাদের কাছে ধরনা দিতে হয়। বলতে গেলে একরকম জিম্মি হয়ে ব্যবসা করতে হয়। তাছাড়া এবার লবণের দামও বেড়েছে। গত বছর ৭০ কেজি ওজনের লবণের বস্তার দাম ছিল ৬৫০ টাকা। এবারে তা কিনতে হবে ১ হাজার ৬০ টাকায়। তাই ছাগলের চামড়া সংরক্ষণ করতে গেলে এবারে ব্যবসায়ীরা নিশ্চিত পুঁজি হারাবে।’
সৈয়দপুর চামড়া ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি ও মেসার্স আল আমিন ট্রেডার্সের মালিক মো. আজিজুল হক বলেন, আজ থেকে ৮-১০ বছর আগে সৈয়দপুর থেকে কোরবানি ঈদে ১০ কোটি টাকার চামড়া রপ্তানি হতো। ট্যানারি মালিকের কাছে আটকে থাকা পুঁজি ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের দৌরাত্মে্য তা বর্তমানে এক থেকে দেড় কোটিতে নেমে এসেছে। অপরদিকে, বকেয়া টাকা আদায় না হলেও ব্যবসায়ীদের নেওয়া ব্যাংক ঋণের টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে নীলফামারী চেম্বার অফ কমার্সের নির্বাহী সদস্য মো. ‘সিদ্দিকুল আলম বলেন, এখনো উত্তরাঞ্চলের চামড়ার বড় ব্যবসার কেন্দ্র হচ্ছে নীলফামারীর সৈয়দপুর। কিন্তু ট্যানারি মালিকদের কাছে থাকা বকেয়া টাকা তুলতে না পেয়ে ঈদে চামড়া কেনা নিয়ে ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে রয়েছেন। তিনি আরো বলেন, ‘আগে কাঁচা চামড়া যেভাবে সবাই রপ্তানি করতে পারতেন, সেভাবেই করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’
