শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ঈদে মসলার বাজার

দাম বেড়েছে শুকনো মরিচ ও জিরার, কমেছে এলাচের

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২২, ০৮:৪৩

কোরবানির ঈদের আগে রাজধানীর বাজারগুলোতে ঈদকেন্দ্রিক গরম মসলার দাম বাড়েনি, উলটো এলাচের দাম কমেছে। তবে শুকনো মরিচের দাম বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে কিছুটা বেড়েছে জিরার দামও। এছাড়া তেজপাতা ও ধনিয়ার দামও কিছুটা বেড়েছে।

এবার ঈদকেন্দ্রিক গরম মসলার দাম না বাড়ার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং বন্যার কারণে এবার বিক্রি অনেক কম হয়েছে। অপর দিকে গরম মসলা আমদানি হয়েছে বেশি। ফলে চাহিদার তুলনায় জোগান বেশি হওয়ায় দাম বাড়েনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাইকারিতে মানভেদে এখন এলাচের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা। এক মাস আগে এলাচের কেজি ছিল ১ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা। এ হিসাবে কেজিতে এলাচের দাম কমেছে ২০০ টাকা পর্যন্ত।

স্থিতিশীল রয়েছে লবঙ্গ ও দারুচিনির দাম। পাইকারিতে লবঙ্গের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০ থেকে ১ হাজার ৬০ টাকা। এছাড়া দারুচিনির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩১০ থেকে ৩৯০ টাকা। অপরদিকে ভারত থেকে আমদানি করা জিরার দাম কিছুটা বেড়ে এখন ৩৮৫ থেকে ৩৯০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। কিছুদিন আগে যা ছিল ৩৮০ থেকে ৩৮৫ টাকা। অর্থাৎ ভারত থেকে আমদানি করা জিরা পাইকারিতে কেজি প্রতি ৫ টাকা বেড়েছে। তবে আফগানিস্তান থেকে আমদানি করা জিরা আগের মতো ৪০০ থেকে ৪১০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

মৌলভীবাজারের ব্যবসায়ী মো. রুবেল বলেন, ঈদের আগে এবার ভারতীয় জিরা ছাড়া কোনো মসলার দাম বাড়েনি। তিনি বলেন, কোরবানির ঈদের আগে গরম মসলার বাড়তি চাহিদা থাকে। এ জন্য একটু দাম বাড়ে। তবে এবার বিক্রি খুবই কম। গত ১০-১৫ বছরের মধ্যে এবারই বিক্রি সব থেকে কম হয়েছে। আমাদের ধারণা দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এবার বিক্রি কম।

গরম মসলার না বাড়লেও শুকনো মরিচের দাম বেড়ে গেছে। দেশি শুকনো মরিচের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা, যা কিছুদিন আগে ছিল ২২০ থেকে ২৬০ টাকার মধ্যে। আর আমদানি করা শুকনো মরিচের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকায়, যা কিছুদিন আগে ছিল ৩০০ থেকে ৩৮০ টাকা। হাজীপাড়ার ব্যবসায়ী মো. আফজাল বলেন, ১০ দিন ধরে পাইকারিতে শুকনো মরিচের দাম অনেক বেড়ে গেছে। কেজিতে বেড়েছে ৫০ টাকার বেশি। তবে ঈদের আগে আর দাম বাড়বে না বলে মনে হচ্ছে। কাওরান বাজারের ব্যবসায়ী মো. রাজু বলেন, বাজারে আমদানি করা শুকনো মরিচের সরবরাহ কম। দেশি শুকনো মরিচও বাজারে কম। এ কারণে দাম একটু বেড়েছে। তবে শুকনো মরিচের এই বাড়তি দাম খুব বেশি দিন থাকবে না।

কিছুটা বেড়েছে তেজপাতা ও ধনের দাম। তেজপাতার কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, যা কিছুদিন আগে ছিল ১৫০ থেকে ১৭০ টাকার মধ্যে। আর ধনিয়া বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৭০ টাকা, যা কিছুদিন আগে ছিল ১২০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে। ঈদের আগে মসলার দামে অস্থিরতা দেখা না দেওয়ায় খুশি ক্রেতারা।

ইত্তেফাক/এমআর

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন