আমাদের দেশে প্রতি বছর কোরবানির ঈদের সময় লাখ লাখ গরু, ছাগল, মহিষ জবেহ করা হয়। কোরবানির ঈদের সময় জবেহকৃত গরু, মহিষ, ছাগল এর মাংস নিয়ে এদের চামড়া, শিং, হাড়, ভুঁড়ি, কান ফেলে দেওয়া হয়। এগুলো ফেলে দিলে পচে নষ্ট হয়ে যায়। অথচ গরু, মহিষের চামড়া, ভুঁড়ি, শিং, হাড়ের অনেক মূল্য রয়েছে।
প্রথমত, গরুর চামড়া প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশে রপ্তানি করা হয়। বাংলাদেশের অন্যতম রপ্তানিজাত পণ্যের মধ্যে চামড়া শীর্ষে রয়েছে। তাছাড়া পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গরুর ভুঁড়ি রপ্তানি হচ্ছে।
জানা যায় হংকং, চীন, ভিয়েতনাম, কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে গরুর ভুঁড়ির বেশ কদর রয়েছে। যেসব দেশে গরুর ভুঁড়ি রপ্তানি হচ্ছে।
গরুর শিং দিয়ে বিদেশে বিভিন্ন ধরনের পণ্য তৈরি হয়ে থাকে। গরুর হাড় দিয়ে বিদেশে সারসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য উৎপন্ন করে থাকে। গরুর কান দিয়ে গাম তৈরি করা হয়। আমাদের দেশের অপ্রচলিত পণ্যের মধ্যে গরুর শিং, ভুঁড়ি, কান, লেজসহ বিভিন্ন অংশ বিদেশে রপ্তানি হয়ে আসছে। অনেক উত্সাহী রপ্তানিকারক এসব পণ্য রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছেন। সারা বছর ধরে আমাদের দেশের রপ্তানিকারকরা এসব উচ্ছিষ্ট জিনিসগুলো সংগ্রহ করে রপ্তানি করে থাকেন।
কোরবানির সময় ব্যাপক ভিত্তিতে গরুর এসব উচ্ছিষ্টগুলো সংগ্রহ করার সুযোগ থাকে। যারা এসব পণ্যের রপ্তানিকারক তারা যদি দেশব্যাপী লোক নিয়োগ করেন গরুর উচ্ছিষ্টগুলো সংগ্রহ করার জন্য, তবে রপ্তানিকারকরা বেশ লাভবান হবেন। গরুর উচ্ছিষ্টগুলো আর নষ্ট হবে না।
এ ব্যাপারে একজন রপ্তানিকারকের সঙ্গে আলাপ করলে জানান, গরুর যে উচ্ছিষ্টগুলো বের হয় সেগুলোর বিশ্ববাজারে বেশ চাহিদা রয়েছে। আমরা গুটি কয়েক রপ্তানিকারক সীমিত আকারে এসব পণ্য রপ্তানি করছি। তবে এসব পণ্য রপ্তানি করতে গিয়ে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিশেষ করে এসব পণ্যের মানসম্মত সংরক্ষণাগার না থাকায় পণ্যগুলো অনেক সময় পচে নষ্ট হয়ে যায়। বিমানে পরিবহনেও অনেক সময় বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হয়ে থাকে। জাহাজে পরিবহনে দীর্ঘ সময় লাগাতে অনেক সময় পণ্যের মান নষ্ট হয়ে যায়। এসব পণ্য বিদেশে পাঠানোর ব্যাপারে সহজ ব্যবস্থা নিতে হবে।
দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে এসব জিনিস সংগ্রহ করা কষ্টকর ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। বর্তমানে গরুর উচ্ছিষ্টগুলো মূল্যবান সম্পদে পরিণত হচ্ছে। ধীরে ধীরে এগুলো নিয়ে ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে উঠছে। আমরা যদি এই শিল্পকে কাজে লাগাতে পারি তবে এ দেশে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। অপ্রচলিত পণ্যের প্রসার ঘটবে। রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাবে।
