দিনাজপুর গোর-এ শহীদ ময়দানে ঈদ জামাত সকাল সাড়ে ৮টায়

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২২, ১৫:৪২

করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় দুই বছর পর দিনাজপুরের গোর-এ শহীদ বড় ময়দানে পবিত্র ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকাল রবিবার সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে এই ঈদের জামাত।

ঈদের জামাতে ইমামতি করবেন মাওলানা শামসুল ইসলাম কাসেমী। ২২ একর আয়তন বিশিষ্ট এই ঈদগাহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে বেশ কয়েকদিন ধরেই চলছে ব্যস্ততা।

শনিবার বড়মাঠে গিয়ে দেখা যায়, ইতিমধ্যেই মিনার ধোয়ামোছা ও সংস্কারকাজ সম্পন্ন হয়েছে। মিনারের পেছনে অজুখানা ও শৌচাগার স্থাপনের কাজ শেষ। মাঠটি রোলার দিয়ে উঁচু নিচু সমান করার পর চলছে কাতারের দাগ দেওয়ার কাজ। মাঠের চারপাশে ১৯টি প্রবেশপথ তৈরি করা হচ্ছে। মাঝখানে বসানো হয়েছে উঁচু ওয়াচ টাওয়ার। দিনাজপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র তৈয়ব আলী দুলাল জানান, বেশ কয়েকদিন ধরেই চলছে এসব কাজ।  

সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকে এই মাঠে ঈদের জামাত হয়ে আসছে। ২০১৫ সালে জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি মিনার নির্মাণের পরিকল্পনা ও অর্থায়ন করেন। ২০১৭ সালে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে সে বছর ঈদের জামাতে প্রায় ৬ লাখ মুসল্লি নামাজ আদায় করেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গোড়-এ শহীদ বড় ময়দানের আয়তন প্রায় ২২ একর। ২০১৭ সালে নির্মিত ৫২ গম্বুজের ঈদগাহ মিনার তৈরিতে খরচ হয়েছে ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। গম্বুজগুলোর দুই ধারে ৬০ ফুট করে দুটি মিনার, মাঝের দুটি মিনার ৫০ ফুট করে। ঈদগাহ মাঠের মিনারের প্রথম গম্বুজ অর্থাৎ মেহেরাবের (যেখানে ইমাম দাঁড়াবেন) উচ্চতা ৪৭ ফিট। এর সঙ্গে রয়েছে আরও ৪৯টি গম্বুজ। এছাড়া ৫১৬ ফিট লম্বায় ৩২টি আর্চ নির্মাণ করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় এত বড় ঈদগাহ মাঠ দ্বিতীয়টি নেই। পুরো মিনার সিরামিক্স দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি গম্বুজ ও মিনারে রয়েছে বৈদ্যুতিক লাইটিং। ২০১৭ সাল থেকে এখানে ঈদের নামাজ আদায় করছেন দিনাজপুর জেলাসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা-উপজেলার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।

সর্ববৃহৎ এই ঈদগাহ মিনারের উদ্যোক্তা ও পরিকল্পনাকারী এবং ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি বলেন, শোলাকিয়া একটি ঐতিহ্যবাহী মাঠ, তবে আয়তনের দিক দিয়ে দিনাজপুর ঈদগাহ মিনার চার গুণ বড়। করোনা ভাইরাসের কারণে পরপর দুই বছর দিনাজপুরের গোর-এ শহীদ ময়দানে হয়নি ঈদের জামাত। তবে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় এবার এই ময়দানে ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ঈদুল আজহার জামাতও অনুষ্ঠিত হবে আগামী রবিবার।  এ জন্য সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

তিনি  আশা করছেন, সাড়ে ৫ লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হবে। এটিই হবে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত।

দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক খালেদ মোহাম্মদ জাকী বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহায় মুসুল্লিদের সুষ্ঠু ও শান্তিপুর্ণভাবে নামাজ আদায়ের জন্য সকল ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঈদগাহ মাঠজুড়ে নেওয়া হচ্ছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।  

ইত্তেফাক/ইউবি