ইসলাম পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার ধর্ম। এখানে অপবিত্রতা ও অপরিচ্ছন্নতার কোনো স্থান নেই। স্বাস্থ্য বিজ্ঞান এবং সকল ধর্মেই পরিচ্ছন্নতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যারা পরিচ্ছন্ন জীবনযাপন করেন আল্লাহ তাদেরকে ভালোবাসেন। সুরা বাকারার ২২২ নম্বর আয়াতে ইরশাদ হয়েছে—‘অবশ্যই আল্লাহ তাওবাকারী এবং পরিচ্ছন্নতা অর্জনকারীকে পছন্দ করেন।’ হাদিস শরিফে পবিত্রতা-পরিচ্ছন্নতাকে ইমানের অঙ্গ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বুখারির এক বর্ণনায় এসেছে, নবি করিম (স.) বলেন, ‘পবিত্রতা ইমানের অঙ্গ।’ অপর এক হাদিসে নবি পাক (স.) ইরশাদ করেন, ‘পবিত্রতা-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অর্ধেক।’
শহর অঞ্চলে প্রাথমিক পর্যায়ে বর্জ্য পলিথিনে পুরে রাখতে হবে, রক্ত পানি দিয়ে ধুয়ে কোরবানির স্থলে জীবাণুনাশক ছিটিয়ে দিতে হবে। গ্রামাঞ্চলে অবশ্য কোরবানির বর্জ্য মাটিতে পুঁতে রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। তাই তাই রাস্তার পাশে বা খালি জায়গায় তা ফেলে না রেখে মাটিতে পুতে রাখা কর্তব্য। মানুষের চলাচলের রাস্তায় কোরবানির পশু জবাই করা উচিত নয়; নির্দিষ্ট নিরাপদ স্থানেই জবাই করা কর্তব্য।
কোরবানির পশুর উচ্ছিষ্ট বর্জ্য বাতাসে মিশে বাতাসকে দূষিত করে এবং রোগ-ব্যাধির বিস্তার ঘটায়। এজন্য কোরবানির পর কোরবানিদাতার প্রথম কাজ হচ্ছে বর্জ্য অপসারণ করা। এটা তার ইমানি দায়িত্ব। কোরবানি দেওয়া যেমন সাওয়াবের কাজ, তেমনি কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করাও একটি পুণ্যের কাজ। আবু দাউদ শরিফের এক বর্ণনায় এসেছে, নবি করিম (স.) বলেন- ‘রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো সদকাস্বরূপ।’
কোরবানিদাতা যদি কোরবানির বর্জ্য অপসারণ না করেন, এর দ্বারা যদি পরিবেশ নষ্ট হয় এবং মানুষের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয় বা মানুষ অসুস্থ হয়, তাহলে তা হবে বিশ্ব নবির সুন্নাত বিরোধী কাজ। যা গোনাহের শামিল। বুখারি মুসলিমের এক বর্ণনায় এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা (রাযি.) বর্ণনা করেন, রসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘সে ব্যক্তি জান্নাতে যাবে না, যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ নয়।’
লেখক: বাংলাদেশ বেতারের উপস্থাপক ও ধর্মীয় আলোচক
