শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

দুর্গম সীমান্তে সৈনিক ও বন্যাদুর্গতদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করলেন বিজিবির ডিজি

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২২, ২১:০৪

ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে এবার দুর্গম সীমান্তে বিজিবির বিওপিতে (বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট) ঈদ উদযাপন করলেন বিজিবির মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদ।

সুনামগঞ্জ শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে বিশ্বম্বর থানাধীন ডুলুরা গ্রামে বিজিবির ডুলুরা বিওপিতে উপস্থিত হন ডিজি। ডুলুরা গ্রামটি ধোপাজান নদীর তীরে। নদীর বিপরীত পাশে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্ত। নদীর তীরে দাঁড়িয়ে আছে মেঘালয়ের পাহাড়। পাহাড় আর নদী দিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্ত টেনে দিয়েছে। জুনে মেঘালয় থেকে যে পাহাড়ি ঢল নামে, তা এই ধোপাজান নদী দিয়ে প্রবেশ করে। ধোপাজান নদী সুনামগঞ্জের কিছুদূর যাওয়ার পর তা সুরমা নদী নামধারণ করেছে। পাহাড়ি ঢল নামার সময় এই এলাকার সব এলাকা তলিয়ে যায়। ডুলুরা বিওপিতেও কোমর পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল।

সৈনিকদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করলেন বিজিবির ডিজি

তবে বন্যার এক মাস পর রবিবার ঈদের দিন ডুলুরা বিওপিতে গিয়ে দেখা যায়, ধোপাজান নদীর পানি শুকিয়ে গেছে। মাঝে মধ্যেই নদীতে চর উঁকি দিচ্ছে।

ডলুরা বিওপির একদিকে ধোপাজান নদী, অন্যদিকে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্ত। তাই ডুলুরা বিওপি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দুর্গম। ডুলুরা বিওপিতে বিজিবির ২৬ জন সদস্য ডিউটি করেন। নদী এলাকা বলে স্পিড বোট ও ট্রলারে করে তাদের টহল ডিউটি চালাতে হয়। বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদ ঈদের দিন বিজিবি সুনামগঞ্জ ব্যাটালিয়ন সদর ও বন্যাদুর্গত দুর্গম সীমান্তবর্তী ডুলুরা বিওপি পরিদর্শন করেন।

ত্রাণ তুলে দিচ্ছেন বিজিবির ডিজি।

পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের আনন্দ উৎসর্গ করে দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত সুরক্ষার সুমহান দায়িত্বে নিয়োজিত বিজিবি সদস্যদের মনোবল দৃঢ়করণ এবং তাদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা ও কুশলাদি বিনিময়ের জন্য বিজিবি মহাপরিচালক ঈদের দিনে সুনামগঞ্জের দুর্গম সীমান্তবর্তী ডুলুরা বিওপির সদস্যদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করেন। এমন একটি বিশেষ দিনে মহাপরিচালককে কাছে পেয়ে দুর্গম সীমান্তে দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পরিদর্শনকালে বিজিবি মহাপরিচালক সেখানে নিয়োজিত সব বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা ও কুশলাদি বিনিময় করেন। দুর্গম সীমান্তে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দক্ষতা ও সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি বিজিবি সদস্যদের ধন্যবাদ ও আন্তরিক অভিনন্দন জানান। একইসঙ্গে তাদেরকে দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা, সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে পবিত্র দায়িত্ব পালনের জন্য বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন।

এরপর বিজিবি মহাপরিচালক পূর্ব ডুলুরা গ্রামের ৫০০টি অসহায় পরিবারের সঙ্গে ঈদের উপহার সামগ্রী হিসেবে গরুর মাংস, পোলাও চাল, সেমাই, চিনি, কিসমিস, বাদাম ও মসলা এবং ত্রাণসামগ্রী হিসেবে চাল, ডাল, তেল, লবণ এবং বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করেন।

ত্রাণ তুলে দিচ্ছেন বিজিবির ডিজি।

এরপরে বিজিবি মহাপরিচালক সুনামগঞ্জ ব্যাটালিয়ন সদরে সকল সদস্যের সঙ্গে প্রীতিভোজে অংশগ্রহণ করেন।

এ সময় বিজিবি সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন ও প্রশিক্ষণ) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এম এম খাইরুল কবীর, সরাইল রিজিওনের রিজিওন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, সিলেট সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল জি এইচ এম সেলিম হাসান এবং সুনামগঞ্জ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মাহবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

ইত্তেফাক/ইউবি