আশানুরূপ পর্যটক নেই, হতাশ কক্সবাজারের পর্যটন ব্যবসায়ীরা

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২২, ২১:৫০

কক্সবাজারে ঈদুল আজহার টানা ছুটিতে কয়েক লাখ পর্যটক ভ্রমণে আসবেন, এমন আশা করেছিলেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। সেভাবে সবকিছু গুছিয়ে প্রস্তুতিও নেওয়া নিয়েছিলেন তারা। পর্যটক আকর্ষণে ৫০-৬০ শতাংশ ছাড়ও ঘোষণা করা ছিল হোটেল ভাড়ায়। এরপরও আশানুরূপ পর্যটক উপস্থিতি মিলেনি। তাই চরম হতাশ পর্যটন ব্যবসায়ীরা। সোমবার (১১ জুলাই) এমনটিই জানিয়েছেন তারা। 

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেস্টহাউস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও হোয়াইট অর্কিড হোটেলের জিএম রিয়াদ ইফতেখার বলেন, ‘এবারের পর্যটক উপস্থিতি আমাদের চরম হতাশ করেছে। ঈদে লাখো পর্যটকের উপস্থিতি সামলাতে হিমশিম খেতে হতো পর্যটন সংশ্লিষ্টদের। কিন্তু ঈদের দ্বিতীয় দিনে আমাদের হোটেলে ৬৬টি রুমে মাত্র ২০টি রুম বুকিং রয়েছে। এমন দিনে ২৫-২৮ শতাংশ বুকিং উল্লেখ করার মতো কিছুই নয়। কারণ এখনকার বুকিং ৫০ শতাংশ ছাড়ে দেওয়া। শুধু আমরা নয়, খবর নিয়ে দেখেছি প্রায় প্রতিটি হোটেলেই চরম অবস্থা বিরাজ করছে।’

ছবি: ইত্তেফাক

কক্সবাজার ট্যুরস অপারেটর মালিক সমিতির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘কক্সবাজারে পর্যটক উপস্থিতি খুবই কম। কয়েকটি কারণেই এমনটি হচ্ছে বলে মনে হয়। ঢাকা বা আশেপাশের এলাকার যেসব মানুষ ঈদে কক্সবাজারে বেড়াতে পছন্দ করেন তারা এবার পদ্মা সেতু এলাকায় গেছেন হয়তো। পদ্মা সেতু চালুর আগে পরে ব্যাপক প্রচারণার কারণে দর্শনার্থীরা এবার পদ্মা সেতু এবং আশেপাশের এলাকাগুলোকে ঘুরার পরিকল্পনা নিয়েছেন। এছাড়া সিলেটসহ উত্তরবঙ্গের ২০ জেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে মানুষ। লাখো মানুষ এখনো বন্যাকবলিত। ঈদ বা জাতীয় দিবসে এসব অঞ্চলের মানুষ সৈকতে ভ্রমণে আসতো বেশি।’

তিনি বলেন, ‘আবার ঈদের ছুটির পরই শুরু হবে এসএসসি পরীক্ষা। পরীক্ষার্থী আছে এমন পরিবার ভ্রমণে আগ্রহী নয়। এছাড়াও বাজারে নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বগামী; কোরবানির গরু দাম পড়েছে গতবছরের তুলনায় বেশি। অর্থসংকটে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। এ কারণে হয়ত ভ্রমণের পরিকল্পনা বাদ দিয়েছে হয়তো।’

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘অতীত সময়ের অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের ধারণা ছিল পর্যটকে ভরপুর থাকবে কক্সবাজার সৈকতের বালিয়াড়ি। কিন্তু অতি স্বল্প সংখ্যক পর্যটকের দেখা পেয়েছি আমরা। হাজার দশেক যে পর্যটক এসেছেন তাদের মধ্যে এক তৃতীয়াংশ স্থানীয়। ঈদের তৃতীয় দিনও তেমন বুকিং নেই বলে জেনেছি। বৃহস্পতিবার থেকে ঈদের চতুর্থ দিন বুধবার পর্যন্ত সবমিলিয়ে ৬০-৬৫ হাজার পর্যটক অবস্থান নিশ্চিত হতে পারে।’

ছবি: ইত্তেফাক

কক্সবাজার হোটেল গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, ‘কক্সবাজারে পর্যটক অবস্থানে রয়েছে পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল, গেস্টহাউস ও কটেজ। যেখানে প্রতি রাতে ১ লাখ ২০-৩০ হাজার পর্যটক অবস্থান করতে পারে। গত রমজানের ঈদে সপ্তাহের বেশি ছুটিতে সৈকত ভ্রমণে এসেছিলেন ১১ লাখের বেশি পর্যটক। তখন হোটেল, মোটেল, রেস্তোরাঁ, দোকানপাট ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোয় ব্যবসা হয়েছিল ৫০০-৬০০ কোটি টাকার বেশি। এবার কোরবানির ঈদের ছুটিও টানা থাকায় অন্তত কয়েক লাখ পর্যটকের সমাগম আশা করেছিলাম। কিন্তু সে আশার সিকি পরিমাণও হয়নি। যা পর্যটনশিল্প সংশ্লিষ্টদের হতাশ করেছে।’

কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেস্টহাউস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ বলেন, ‘কক্সবাজারে তারকা হোটেল আছে ডজনাধিক। এগুলোতে হাজার দশেক পর্যটক অবস্থান করতে পারে। লাখো পর্যটকের বাকিরা গেস্ট হাউজ ও অন্য হোটেলে থাকেন। সে হিসেবে ভ্রমণে আসা পর্যটকের অধিকাংশ মধ্যবিত্ত শ্রেণি। সবার অর্থনৈতিক সংকটাবস্থা রয়েছে। তাই ঈদুল আজহার ছুটিতে ৬০-৬৫ হাজারের বেশি পর্যটক পাচ্ছে না কক্সবাজার।’

ছবি: ইত্তেফাক

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের (টুয়াক) কক্সবাজারের সভাপতি আনোয়ার কামাল বলেন, ‘ঈদেও পর্যটকের তেমন সাড়া নেই। কক্সবাজারের মতো, তিন পার্বত্য জেলা বান্দরবান, রাঙামাটি এবং খাগড়াছড়িতেও পর্যটক নেই বলে জেনেছি। পদ্মা সেতু চালুর পর কুয়াকাটা সৈকত ও সুন্দরবনে পর্যটক সমাগম বাড়বে বলে আশা করা হয়েছিল। সেখানেও পর্যটক উপস্থিতি কম মানে মানুষের বেড়ানোর রসদ নেই, সেটাই প্রমাণ করে।’

হোটেল সংশ্লিষ্টদের মতে, তারকা হোটেলে কক্ষভাড়া হয়েছে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ। মাঝারি মানের হোটেলে ১০ থেকে ২৫ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়েছে। এবার ব্যবসার অবস্থা খুবই খারাপ। 

ইত্তেফাক/এএএম