বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসা 

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২২, ০২:০০

বন্যায় বিষধর পোকামাকড় যেমন— সাপ, ব্যাঙ ইত্যাদি তাদের আবাস হারিয়ে উঁচু জায়গা খুঁজতে থাকে আর ঢুকে পড়ে মানুষের আবাসস্থলে। তখনই ঘটে সাপে কামড়ানোর ঘটনা। বিষধর সাপের কামড়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মৃত্যুর মূল কারণ সচেতনতার অভাব। ওঝা বা বেদের মাধ্যমে অবৈজ্ঞানিক উপায়ে চিকিৎসা করা, রোগীকে হাসপাতালে আনতে দেরি করা এবং বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে চিকিৎসা না করানোর ফলে অনেক প্রাণ অকালে ঝরে যায়।

সাধারণত মে থেকে অক্টোবর মাসে, অর্থাৎ এই বর্ষাকালে সাপের উপদ্রব বাড়ে। কার্বলিক অ্যাসিডের বোতলের ছিপি খুলে ঘরের কোণে রাখলে ঘরে সাপ ঢুকবে না। ঘরের চারপাশে পানি এলে বেড়া বা দেওয়ালের ধার ঘেঁষে ওষুধ ছিটাতে হবে। এতে ব্যাঙ ও বিভিন্ন রকম বিষাক্ত পোকামাকড় ঘরে ঢুকতে পারবে না।

সাপ হাতে বা পায়ে কামড়ালে আমরা সাধারণত আক্রান্ত অংশের ওপরে রশি বা গামছা দিয়ে টাইট করে বেঁধে রাখি। এটা একেবারেই ভুল প্রাথমিক চিকিৎসা। আলতোভাবে বাঁধা যেতে পারে বা ১০ মিনিট পর পর কয়েক মিনিটের জন্য বাঁধন খুলে দেওয়া যেতে পারে। সবচেয়ে ভালো ব্যবস্থা হলো আক্রান্ত হাতের বা পায়ের দুপাশে বাঁশের বা কাঠের ফালি দিয়ে তার ওপর আলতো করে বাঁধা, যেন নড়াচড়া কম হয়। এমনভাবে বাঁধতে হবে, যেন আক্রান্ত অঙ্গ ও কাপড়ের মাঝে কষ্ট করে একটি আঙুল ঢোকানো যায়। একটানা শক্ত করে বেঁধে রাখলে দীর্ঘক্ষণ রক্ত চলাচল বন্ধ থাকায় পচন ধরতে পারে। চিরতরে হারাতে হতে পারে হাত-পা। যে কোনো সাপে কাটা রোগীকে হাসপাতালে নিতে হবে। কারণ সাপটি বিষধর ছিল কি না, কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারবে না, রোগীকে পর্যবেক্ষণে রাখতে হয়। ডাক্তার যদি বিষক্রিয়ার কোনো লক্ষণ দেখেন, তাহলে এন্টিভেনাম ইঞ্জেকশন প্রয়োগ করে থাকেন।

  • সাপে কাটলে আরো যা করবেন

সাপে কাটলে আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ স্থানে বসে থাকুন। আক্রান্ত অঙ্গ নাড়াচাড়া করবেন না। আক্রান্ত স্থানে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করলে, রক্তক্ষরণ হলে, চোখের পাতা পড়ে গেলে, ঘাড় শক্ত রাখতে না পারলে, হাত-পা অবশ হয়ে এলে ও শ্বাসকষ্ট হলে একটুও দেরি না করে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। সাধারণত নির্বিষ সাপের কামড়ে আক্রান্ত স্থানে সামান্য ব্যথা, ফুলে যাওয়া বা অল্প ক্ষত সৃষ্টি হয়ে থাকে।

  • যা মোটেও করা যাবে না

আক্রান্ত স্থান কাটা, দড়ি দিয়ে খুব শক্ত করে বাঁধা, আক্রান্ত স্হান থেকে মুখের সাহায্যে রক্ত বা বিষ টেনে বের করার চেষ্টা করা, আক্রান্ত স্থানে গোবর, শিমের বিচি, আলকাতরা, ভেষজ ওষুধ বা কোনো ধরনের রাসায়নিক লাগানো, অ্যান্টিহিস্টামিন ইনজেকশন প্রয়োগ করা, কার্বলিক অ্যাসিড-জাতীয় রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে দংশিত জায়গা পোড়ানো, গাছ-গাছড়ার রস দিয়ে প্রলেপ দেওয়া ইত্যাদি। 

লেখক: প্লাস্টিক সার্জন, সহযোগী অধ্যাপক, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল

ইত্তেফাক/ইআ