ছাগলের চামড়া পানিতে ফেলে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা!

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২২, ১২:১৪

কোরবানির ঈদকে ঘিরে যেমন দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে পশুর চাহিদা থাকে, তেমনি চাহিদা বাড়ে কোরবানির পশুর চামড়ারও। তবে এ বছর লবণের মূল্যবৃদ্ধি, শ্রমিকের পারিশ্রমিক বৃদ্ধি ও ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে বকেয়া টাকা না পাওয়ায় চামড়ার দাম কম হলেও অর্থাভাবে কোরবানির পশুর চামড়া কিনতে অপারগতা প্রকাশ করছেন ব্যবসায়ীরা।

ফুলবাড়ীর চামড়া ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এ বছর কোরবানির পশুর চামড়া ক্রয়ে আগ্রহ নেই তাদের। লবণের মূল্যবৃদ্ধি, শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি এবং চামড়ার বকেয়া টাকা ট্যানারি মালিকরা পরিশোধ না করায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। মৌসুমি চামড়া ক্রেতা ও খুচরা চামড়া ব্যবসায়ীরা তাদের ক্রয় করা চামড়া পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করতে গিয়ে দাম না পাওয়ায় মনের ক্ষোভে অনেকে ছোট যমুনা নদীতে ফেলে দিয়েছেন। আবার দু’একজন ব্যবসায়ী চামড়া কিনলেও তা একেবারে পানির দামে। গাভীর প্রতি পিস চামড়া ২০০ থেকে ৩০০ টাকা এবং ষাঁডড়ের প্রতি পিস চামড়া ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় কিনলেও ছাগলেরটা কেউ কেনেননি। 

চামড়া ব্যবসায়ী শমসের আলী ও রুক্ষিনী রবিদাস জানান, কোরবানির গরুর চামড়ার দাম মৌসুমি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা কমবেশি পেলেও মাঠে মরেছেন ছাগলের চামড়া নিয়ে। গ্রাম থেকে ছাগলের চামড়া আড়তে বিক্রি করতে এসে জেনেছেন আড়ৎদারেরা ছাগলের চামড়া কিনছেন না। এতে মনের ক্ষোভে ছাগলের চামড়াগুলো ছোট যমুনা নদীতে ফেলে দিয়েছেন। 

উপজেলার দক্ষিণ সাহাবাজপুর গ্রামের মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদের দিনে বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে ৮০০ টাকায় ৬০ পিস ছাগলের চামড়া সংগ্রহ করি। চামড়াগুলো সন্ধ্যায় স্থানীয় আড়তে বিক্রি করতে আনলে আড়ৎ থেকে জানানো হয় ছাগলের চামড়া তারা কেউই কিনছেন না। ফলে মনের দুঃখে চামড়াগুলো নদীতে ফেলে বাড়ী ফিরে এসেছি।’ 

চামড়া ক্রয় সংক্রান্ত সরকারি নীতিমালার দাবিসহ ট্যানারি মালিকদের কাছে পাওনা টাকা আদায়ের বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ফুলবাড়ী চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাবির হোসেন। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ী ও ট্যানারি মালিকদের মধ্যে অর্থ লেনদেনের টানাপোড়নে এবারও নিষ্পেষিত হয়েছে মাঠ পর্যায়ের ক্ষুদ্র ও মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা। আর এসব কারণে ইতোমধ্যেই এ পেশা ছেড়েছেন অন্তত ১৫ জন প্রতিষ্ঠিত চামড়া ব্যবসায়ী।’

ফুলবাড়ী পৌরসভার মেয়র মাহমুদ আলম লিটন বলেন, ‘ন্যায্য দাম না পাওয়ায় তারা ছাগলের চামড়া নদীতে ফেলে দিচ্ছেন। এতে আর্থিকভাবে লোকসানের মুখে পড়ছেন তারা।’

ইত্তেফাক/মাহি