মানিকগঞ্জের ঘিওরে ধলেশ্বরী নদীর পানিতে ডুবে নিখোঁজের ৪১ ঘন্টা পর ভেসে উঠলো আদিয়া ইসলামের (১২) লাশ। সোমবার সকাল ৬টার সময় ঘিওর সরকারী কলেজের পিছনে ধলেশ্বরী নদীতে তার লাশের সন্ধান পাওয়া যায়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আদিয়ার বাবার নাম আমিরুল ইসলাম মিঠু। তিনি ঢাকা মিরপুর-১ এর শাহআলীবাগের ১১৩/এ এলাকার বাসিন্দা। তিনি পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঈদ করার জন্য ঘিওর থানার কুস্তা গ্রামে বেড়াতে আসেন। সেখানে আদিয়ার নানার বাড়ি। তার নানার নাম মোঃ বাবুল ভূঁইয়া।
ঈদের তৃতীয় দিন দুপুরে মা-বাবা, ছোট বোন ও একমাত্র ভাইয়ের সঙ্গে নানার বাড়ির পাশে ধলেশ্বরী নদীতে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে নিখোঁজ হয়। সে ঢাকার মিরপুর-১ ডেপস গার্লস স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী।
আদিয়ার বাবা আমিরুল ইসলাম মিঠু বলেন, ‘নদীর চরে স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে নিয়ে আনন্দ করে গোসল করছিলাম। ছোট মেয়েকে সাঁতার শিখানোর সময় পেছন থেকে মায়ের কোমর জড়িয়ে ধরে ছিলো আদিয়া। কখন যে নদীর স্রোতে মেয়েটি হারিয়ে গেছে টের পায়নি কেউ। কিছুক্ষণ পর মেয়েটিকে খুঁজে না পেয়ে চিৎকার শুরু করে সবাই। এ সময় স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পরিবারের সবাই খোঁজাখুজি শুরু করে। পরে ফায়ার সার্ভিস অফিসে ফোন করলে তারা এসে লাশ উদ্ধারে নামে।’
মানিকগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, লাশ উদ্ধারের জন্য ফায়ার সদস্য এবং ডুবুরি একযোগে কাজ করেছে। রবিবার রাত ১২টা পর্যন্ত লাশের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এদিকে সোমবার সকাল সাড়ে ৫টার সময় ৪১ ঘন্টা পর ঘিওর সরকারী কলেজের পিছনে ধলেশ্বরী নদীর কিনারায় বালুর চরে আদিয়ার লাশ ভেসে ওঠে।
আরও পড়ুন: সাতছড়িতে ১৪ হাজার কেজি ভারতীয় চা পাতা আটক
ঘিওর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ অহিদুল ইসলাম টুটুল নিখোঁজ আদিয়ার লাশ সনাক্ত করে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সোমবার সকাল ১০টার সময় কুস্তা কবরস্থানে আদিয়ার লাশ দাফন করা হয়।
ইত্তেফাক/নূহু
