জোয়ারে ২ শতাধিক মৎস্য ঘের পানির নিচে 

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২২, ১৩:৪২

পূর্ণিমার অতিরিক্ত জোয়ারের পানিতে দিনে দু’বার বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে পৌর শহরসহ ২০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। দুই শতাধিক মৎস্য ঘেরের বেড়িবাঁধ উপচে প্রবেশ করছে অতিরিক্ত পানি। ভেঙে গেছে কাঁচা-পাকা রাস্তা।    

সরেজমিনে দেখা গেছে, অতিরিক্ত জোয়ারের পানিতে পৌর শহরের প্রধান সড়ক, কাপুডিয়াপট্টি সড়ক, কেজি স্কুল সড়ক, ফেরীঘাট সংলগ্ন কালাচাদ মাজার এলাকা, সানকিভাঙ্গা, বারইখালীর পানগুছি নতীর তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়েছে। হাটু পানি ভেঙে পৌর শহরে নারী-পুরুষ ও শিশুদের চলাচল করতে হচ্ছে। প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, দোকানের সামনে হাটু পানি। কেনাবেচা বন্ধ হওয়ার উপক্রম। নব্বইরশি, বারইখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি ঢুকে জলাবন্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। 

এ ছাড়াও, ১৬টি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ২০ গ্রাম জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। নদীর তীরবর্তী বহরবুনিয়ার পশ্চিম বহরবুনিয়া, উত্তর ফুলহাতা, ঘষিয়াখালী, জিউধরার পালেরখন্ড, কাকরাতলী, শনিরজোড়, সোনাতলা, চন্দনতলা, জিউধরা, হোগলাবুনিয়ার বদনীভাঙ্গা, পাঠামারার ২ শতাধিক মৎস্য ঘের পানির নিচে। 

বহরবুনিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রিপন হোসেন তালুকদার ও জিউধরা ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বাদশা জানান, জোয়ারের পানি বাঁধ উপচে ঘের ডুবে যাওয়ায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘের মালিকরা। 

পঞ্চকরণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক মজুমদার জানান, সোনাখালী স্লুইচগেট হয়ে দেবরাজের ৭ কিলোমিটার মিনি বেড়িবাঁধ হুমকির মুখে রয়েছে। যেকোনো সময় পানির চাপে বিভিন্ন স্থান ভেঙে গিয়ে গ্রামজুড়ে প্রবেশ করতে পারে অতিরিক্ত পানি। 

ইউপি চেয়ারম্যান মো. আকরামুজ্জামান জানান, জোয়ারের পানির তোড়ে বদনীভাঙ্গার বিএস রতমতিয়া দাখিল মাদ্রাসা হয়ে সেকেন্দার আলী দোকান পর্যন্ত ১ কিলোমিটার ইট সোলিং রাস্তা ও মুসলিম ইটভাটা হয়ে পাঠামারার হাজীগঞ্জের ২ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তাটিও ভেঙে পড়েছে।  

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বিনয় কুমার রায় বলেন, ‘এ পর্যন্ত দুই শতাধিক মৎস্য ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।’ 

পৌর মেয়র এসএম মনিরুল হক তালুকদার বলেন, ‘মোরেলগঞ্জ পৌর শহর রক্ষা ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের প্রস্তাবনা রয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। অনুমোদন সাপেক্ষে কার্যক্রম শুরু হবে।’ 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘অতিরিক্ত জোয়ারের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা-ঘাটসহ মৎস্য ঘেরগুলোর খোঁজ খবর নিয়ে তালিকা করার জন্য মৎস্য কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

ইত্তেফাক/মাহি