পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার আবাদ হলেও তীব্র তাপতাহ ও পানির অভাবে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষক। তাপদাহে জমিতেই মরে যাচ্ছে পাট। পাটের আঁশ শুকিয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টি না হলে ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, তাপদাহের সঙ্গে তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে উপজেলাব্যাপী। কোথাও কোনো পানি নেই পাট পচানোর জন্য। খাল বিল, নদী, নালা সবই যেন পানি মুক্ত শুকনো চক। চলছে ভরা পাট কাটা মৌসুম। পানির অভাবে কৃষকরা পাট কাটা বন্ধ করে দিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার ঘুঘুদহ, সোনাই বিল, ইছামতি নদী ও আত্রাই নদীতে যথেষ্ট পানি নেই। পানি না থাকায় কৃষকরা জমি থেকে পাট কাটতে পারছে না। যারা তাপদাহ থেকে পাটকে রক্ষা করতে কেটেছে, তারা পানির অভাবে জমিতে খর দিয়ে ঢেকে রেখেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবছর উপজেলার কৃষকরা রেকর্ড পরিমান জমিতে পাট বপন করেছে। এপ্রিলের শেষের দিক থেকে কয়েক দফায় বৃষ্টির দেখা দেওয়ায় চাষিরা পেঁয়াজ ঘরে তোলার সঙ্গে সঙ্গে জমিতে পাট বপন করেন। এসময় থেমে থেমে সপ্তাহব্যাপী বৃষ্টির দেখা পাওয়া যায়। কৃষকরাও পাট বোনার উত্তম সময় ভেবে সুযোগ কাজে লাগান। চলতি মৌসুমে ৭ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে ১ হাজার ৫০০ হেক্টর বেশি।
সরেজমিনে উপজেলার পাট উৎপাদিত এলাকা আতাইকুলা, গৌড়িগ্রাম, ক্ষেতুপাড়া, কাশিনাথপুর, করমজা, নাগডেমরা, ভুলবাড়িয়া, নন্দনপুর বিল ও মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, পাট জমিতে ১০/১২ ফুট লম্বা হয়েছে। পোকার আক্রামণ না হওয়ায় এখনও পাট বৃদ্ধির অপেক্ষায় রয়েছে। প্রচণ্ড তাপদাহে জমিতে পাটগাছের উপরের পাতা, কাণ্ড ও গোড়া মরতে শুরু করেছে।
ইতোমধ্যে ঈদের পরে ব্যাপক উৎসাহের মধ্যে দিয়ে পাট কাটার মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিল উপজেলার সোনালি আঁশ উৎপাদনকারী গোল্ডেন কৃষকরা। তবে পানির অভাবে পাট নিয়ে পড়েছে ব্যাপক সমস্যায়। রোদ থেকে পাট রক্ষা করতে অনেকেই জমিতে কেটে রেখে দিয়েছেন।
উপজেলার কৃষকরা বলেন, পাট নিয়ে আমরা মহা চিন্তায় রয়েছি। পাট জমিতে পুড়লেও পানির অভাবে তা পচাতে পারছি না। অন্য বছর নদী-নালায় পানি থাকলেও এ বছর আত্রাই, ইছামতি নদীতে পাট পচানোর মতো পানির চরম অভাব দেখা দিয়েছে।
সাঁথিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার বলেন, ‘এ বছর ৭ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। গত বছর দাম ভালো পেয়ে কৃষক পাট চাষে ঝুঁকছেন। পাট পচানোর জন্য পানি চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট স্লুইচগেট দিয়ে নদীতে পানি সরবরাহ চাওয়া হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে দ্রুত সময়ের মধ্যে নালা ও নদীতে পানি সরবরাহ করা হবে।’
