শ্যামনগরে বেড়িবাঁধ ভেঙে ৯ গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দি ২৫ হাজার মানুষ

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২২, ১৮:২২

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে পূর্ব দুর্গাবাটি এলাকায় পাউবো’র বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকছে। খোলপেটুয়া নদীর জোয়ারের পানির ধাক্কায় গত বৃহস্পতিবার (১৪ জুলাই) রাত ১০টার দিকে উপজেলার দুর্গাবাটি সাইক্লোন শেল্টারের পূর্ব পাশের পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধটি হঠাৎ ভেঙে যায়। এর ফলে গত দুই দিনে আশেপাশের ৯টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অন্তত ২৫ হাজার মানুষ।

বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের পশ্চিম দুর্গাবাটি গ্রামের সাবেক নীল কান্ত রপ্তান বলেন, গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে পূর্ব দুর্গাবাটি গ্রামে পাউবোর বেড়িবাঁধে ধস দেখা দেয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়ায়  গ্রামবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। ওই রাতে স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউল হক ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে স্থানীয় লোকজন বাঁধটি রক্ষার জন্য কাজ শুরু করেন।

তবে গনমুখ থাকায় খোলপেটুয়া নদীতে সাহাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩-৪ ফুট পানির বৃদ্ধি পাওয়ায় জোয়ারের তোড়ে বাঁধটি ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকতে শুরু করে। দুই দিনে বেড়িবাঁধ ভেঙে নদীর পানি ভিতরে ঢোকায় পূর্ব দুর্গাবাটি, পশ্চিম দুর্গাবাটি, পূর্ব পুড়াকাঠলা, পশ্চিম পুড়াকাঠলা, আড়ঙ্গাশিয়া, করবাড়ি, দাতিনাখালি, ভামিয়া, মাদিয়া ও নীল ডুমুর গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া ১০নং আটুলিয়া ইউনিয়নে ও পানি ঢুকতে শুরু করেছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জানান, গত বৃহস্পতিবার সকালেও বেড়িবাঁধটি ভালো ছিল। কিন্তু হঠাৎ বিকেল থেকে বাঁধে ধস নামতে শুরু করে। সন্ধ্যার পর থেকে স্থানীয়দের নিয়ে বাঁধে মাটি ফেলতে শুরু করি। তবে নদীর জোয়ারের পানি তোড়ে রাত ১০টার দিকে বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে পড়লে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়ে। সেই সঙ্গে দুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে খাবার পানির সংকট।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা (এসও) মাসুদ রানা বলেন, বাঁধ সংস্কারের জন্য বাঁশ ও বস্তা নিয়ে পাউবোর লোকজন প্রস্তুত আছে। তবে নদীতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ও প্রবল স্রোতের কারণে বাঁধ সংস্কারের কাজ করা যাচ্ছে না।



ইত্তেফাক/জেডএইচডি