বিশ্ব দক্ষতা দিবসের আলোচনা সভায় বক্তারা

প্রাতিষ্ঠানিক সনদের অভাবে বিদেশে সঠিক মূল্যায়ন পাচ্ছে না দেশের দক্ষ জনশক্তি

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২২, ২০:৩০

বিদেশে আমাদের অনেক লোক কাজ করে, কিন্তু তাদের একটা বিরাট অংশই অদক্ষ। সেকারণে আমাদের প্রতিযোগী দেশের চাইতে আমাদের দেশের কর্মীরা কম বেতন পায়। আবার অনেকেই দীর্ঘ কাজ করে দক্ষ হয়েছেন কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক কোনো সনদ না থাকার কারণে, তাদের সঠিক মূল্যায়ন করা হয় না। আর এদিকেই এখন নজর দিতে হবে।

রবিবার (১৭ জুলাই) বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস উপলক্ষে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ) আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দীপু মনি। সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া ও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প দক্ষতা পরিষদের সমন্বয়ক শফিকুর রহমান ভুঁইয়া। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এনএসডিএ এর নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) দুলাল কৃষ্ণ সাহা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা মন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অনার্স মাস্টার্স করে। পৃথিবীর অন্য কোথাও এত বেশি শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষায় অংশ নেয় না। উন্নত দেশগুলো অধিকাংশ শিক্ষার্থীই কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। ২০০৯ সাল পর্যন্ত আমাদের কারিগরি শিক্ষায় অংশগ্রহণ ছিল একভাগেরই কম। ২০২০ সাল নাগাদ প্রধানমন্ত্রী এটা ২০ ভাগ করতে চেয়েছিলেন। সেসময় অনেকেই এটাকে উচ্চাভিলাষী বলেছিলেন। কিন্তু আমরা ২০ ভাগ নিতে না পারলেও ১৭ ভাগে নিয়ে এসেছি। 

মন্ত্রী বলেন, কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ হয়ে আপনি চাকরি নিলেন, পরে আপনার ইচ্ছা হতে পারে ভিন্ন একটা শিক্ষায় শিক্ষা নিতে। কিন্তু আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় সেই সুযোগ খুব সীমিত। এরপরে অন্যকিছুতে পড়তে দেওয়া হয় না। আমরা সেই সব বাধাকে অপসারণ করতে চেয়েছি। আমাদের শিক্ষার্থীরা যখন যেখানে পড়তে চাইবে তারা যেন যেতে পারে। অবশ্যই সেখানে ঢোকার জন্য যে যোগ্যতা লাগে ,সেই যোগ্যতা তারা পরীক্ষা দিয়ে অর্জন করেই সেখানে ঢুকবেন। কিন্তু কোথাও যেন বয়সের বাধা, আগে কি পড়েছি এসবের জন্য যাতে কোন বাধা না থাকে। এই মানসিক পরিবর্তন আমাদের দরকার। 

শিক্ষা মন্ত্রী আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা পরবর্তীকালে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্যে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার উপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে কার্যক্রম গ্রহণ করেছিলেন। ৭৫ এ স্বাধীনতা বিরোধীদের দোসরদের আঘাতে আমাদের জাতির পিতাকে হারিয়েছিলাম। ৭৫ পরবর্তী ২১ বছরে আমরা অতল গহ্বরে চলে গিয়েছিলাম। ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি কর্মক্ষম জনগণের কর্মে প্রবেশের যোগ্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের উপর গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। একই সাথে ভবিষ্যৎের দিকে লক্ষ্য রেখে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ ও বিকাশের উপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন। 

তিনি আরও বলেন, এখন আমরা উন্নয়নশীল দেশ হচ্ছি এতে পণ্য রপ্তানিতে আমরা স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে যেসব সুবিধা পাচ্ছিলাম তার অনেকগুলোই ২০২৬ সালের পরে আমরা আর পাব না। তবে অনেক নতুন সম্ভাবনার দ্বারও আমাদের জন্যে খুলে যাবে। অনেক সুযোগ আসবে সেগুলো কাজে লাগানোর জন্য আমাদের প্রয়োজন হবে শিল্প ও সেবাখাতে অনেক দক্ষ জনবল। এই দক্ষ জনবল যদি আমরা দেশে তৈরি না করতে পারি তাহলে বিনিয়োগ ব্যাহত হবে। এতে দেশের জনগণের কর্মসংস্থানও হ্রাস পাবে।

স্বাগত বক্তব্যে এনএসডিএ এর নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) দুলাল কৃষ্ণ সাহা বলেন, আমরা এ এনএসডিএ ফ্রীল্যান্সারদের সনদায়ন করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। আমরা ১৩টি পেশায় সনদ দিব কিন্তু লক্ষণীয় বিষয় হলো আমরা তিনটি অকুপেশনের জন্য বেশি সনদের জন্য দরখাস্ত হচ্ছে। সেগুলো হলো, ওয়েব ডিজাইন অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট, ডিজিটাল মার্কেটিং এবং ও গ্রাফিক ডিজাইন। কিন্তু অন্যান্য পেশায় আমরা ছেলে মেয়ে পাচ্ছি না। এজন্য আমাদের কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বাড়াতে হবে। সোশ্যাল স্টিগমা রয়েছে এসব কাজের ক্ষেত্রে, এজন্য আমরা ২টা টেলিভিশন বিজ্ঞাপন ইতোমধ্যে নির্মাণ করেছি। দুই এক দিনের মধ্যে আরও একটি প্রচার শুরু হবে। 

সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া বলেন, চাকরিদাতারা যে ধরনের লোক চায় তারা সে ধরনের লোক পাচ্ছে না। ২৭ টি মন্ত্রণালয় বিভিন্ন প্রকার প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরও এরকম হচ্ছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী মনে করছেন সমন্বয় দরকার। তাই তিনি এনএসডিএ তৈরি করেছেন।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি