আমোদ-ফুর্তি করতে আসিনি চলে যেতে প্রস্তুত : সিইসি

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২২, ০১:০৩

যে কোনো পরিস্থিতিতে বর্তমান নির্বাচন কমিশন পদত্যাগে প্রস্তত আছে উল্লেখ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আওয়াল বলেছেন, অনেকে হয়তো ভয় পাচ্ছে, নতুন করে সরকার হলে তার একটা শর্ত থাকবে। এজন্য আমি সবাইকে আশ্বস্ত করতে চাই—সামান্যতম কোনো ভয়ভীতি নেই, বলার আগেই পদ ছেড়ে দেব। আমি চাই সম্প্রীতি, আমি চাই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য, সমঝোতা। আমাকে দিয়ে না হোক যে কাউকে দিয়ে হতে পারে। নির্বাচনের স্বার্থে যদি আমাকে পথ থেকে সরে যেতে হয় তাহলে আমাকে রিকোয়েস্ট করতে হবে না। এই পদে কিন্তু আমরা আমোদ-ফুর্তি করতে আসিনি। কঠিন দায়িত্ব নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করতে এসেছি এবং কঠিন দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। গতকাল রবিবার (১৭ জুলাই) নির্বাচন ভবনে শুরু হওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপে একথা বলেন তিনি। 

এ দিন সকালে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) সঙ্গে সংলাপের শুরুতেই ভোটের মাঠে একপক্ষ তলোয়ার নিয়ে এলে প্রতিপক্ষকে রাইফেল নিয়ে দাঁড়ানোর পরামর্শ দেন সিইসি। ঐ বক্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় রাজনীতিবিদ ও সুশীলসমাজের মধ্যে। সিইসির ঐ বক্তব্যে দ্বিমত পোষণ করে সংলাপে অংশ নেওয়া এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘কেউ একজন পিস্তল নিয়ে মাঠে নামলেই আমি শটগান নিয়ে মাঠে নামতে পারি না। কারণ আইন আমাকে বাধা দেয়।’ দুপুরের পরে অবশ্য বাংলাদেশ কংগ্রেসের সঙ্গে সংলাপে সিইসি তার অবস্থান কিছুটা পরিবর্তন করে বলেন, ভোট মানে যুদ্ধ। তবে এই যুদ্ধে ঢাল-তলোয়ার নিয়ে নামার প্রয়োজন নেই। এই যুদ্ধে নামতে হবে জনসমর্থন নিয়ে।

ইসির নিবন্ধিত ৩৯টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপের অংশ হিসেবে রবিবার চারটি দলের সঙ্গে সংলাপে বসার কথা ছিল। তবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএল এই সংলাপ বর্জন করে। ফলে গতকাল বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফসহ তিনটি দলের সঙ্গে পৃথক সংলাপে অংশ নেয় ইসি।

এনডিএমের সঙ্গে সংলাপে রাজনৈতিক দলগুলোকে ভোটের মাঠে থাকার আহ্বান জানিয়ে সিইসি বলেন, সব দল সহযোগিতা না করলে ইসি ব্যর্থ হয়ে যাবে। কেউ যদি তলোয়ার নিয়ে দাঁড়ায়, আপনাকে রাইফেল বা আরেকটি তলোয়ার নিয়ে দাঁড়াতে হবে। আমরা সাহায্য করব। পুলিশের ওপর, সরকারের ওপর আমাদের কমান্ড থাকবে।’

সিইসি বলেন, ইসি সহিংসতা বন্ধ করতে পারবে না। দলগুলোকেও দায়িত্ব নিতে হবে। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা শতভাগ স্বচ্ছ আছি। ভবিষ্যতে চোর হব, না ডাকাত হব—এখনই সেটা বলা ঠিক হবে না। ২০১৪ সালের নির্বাচন বা ২০১৮ সালের নির্বাচনের দায় আমাদের ওপর চাপাবেন না। আমরা সরকারের সাহায্য চাইব। সরকার যদি সহায়তা না করে, তাহলে নির্বাচনের পরিণতি খুবই ভয়াবহ হতে পারে। তিনি আরো বলেন, ইভিএমের ত্রুটি কোনো রাজনৈতিক দল এবং তাদের বিশেষজ্ঞরা তুলে ধরতে পারেনি। এত কিছুর পরও অপপ্রচার সমানে চলছে উল্লেখ সিইসি বলেন, ‘ইভিএম সম্পর্কে বিভ্রান্তি, সংশয় থেকেই যাচ্ছে। আমরা সত্যি উদ্বিগ্ন হচ্ছি।’

সংলাপে অংশ নিয়ে এনডিএম ১৩টি প্রস্তাব তুলে ধরে। এর মধ্যে আছে, নির্বাচনের সময় সিইসি ‘সুপার প্রাইম মিনিস্টার’ এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন। জনপ্রশাসনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে ইসির হাতে। দলটি ভোটকেন্দ্রে এজেন্ট দেওয়ার পদ্ধতি বাতিল করা, একাধিক দিনে ভোট, ইভিএমে পেপার ট্রেইল যুক্ত করারও প্রস্তাব করেছে। বিএনএফের পক্ষ থেকে তেমন সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব ছিল না। অন্যদিকে জাতীয় বাজেটে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য বরাদ্দ রাখাসহ ১৬ দফা প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ কংগ্রেস।

আজ সোমবার সংলাপের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি জোট, খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। আগামী ৩১ জুলাই এই সংলাপ শেষ হবে।

ইত্তেফাক/ইআ