পশ্চিম ইউরোপের তীব্র দাবদাহ উত্তরের দিকে এগোচ্ছে

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২২, ০৬:৪০

ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চল জুড়ে বয়ে যাওয়া তীব্র দাবদাহ এখন মহাদেশটির উত্তরাঞ্চলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন। সোমবার ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য অতি উষ্ণতাজনিত সতর্কতা জারি করে এবং স্পেনের উত্তরাঞ্চলে ৪৩ সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। মঙ্গলবার পশ্চিম ইউরোপের তাপমাত্রা আরো বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়। তীব্র তাপদাহের কারণে যুক্তরাজ্য রেকর্ডকৃত ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণতম দিন দেখার অপেক্ষায় আছে আর ফ্রান্সের কিছু অংশ ‘বিপর্যয়মূলক উষ্ণতার’ মুখোমুখি বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

ফ্রান্সের জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, দেশটির বেশ কয়েকটি অংশ তাদের সবচেয়ে উষ্ণতম দিনগুলো পার করছে এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর নঁতে ৪২ সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে।

দেশটিতে দাবানলের কারণে গত কয়েক দিনে ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে এবং তাদের জন্য জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার থেকে ফ্রান্সের দক্ষিণপশ্চিমের পর্যটন অঞ্চল জিঁহন্দের প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর এলাকা দাবানলে পুড়ে গেছে, দমকল কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

জিঁহন্দ অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট জ্যঁ লুক গ্লেজ এ সম্পর্কে বলেছেন, আমার কাছে এটিকে দানব মনে হচ্ছে, যেন একটি অক্টোপাস। এটি সামনে, পেছন উভয় দিক থেকে কেবল বাড়ছে আর বাড়ছে। তাপমাত্রা, বাতাস ও বায়ুমণ্ডলে জলীয়বাষ্প না থাকায় এমনটি হচ্ছে। এই দানবের বিরুদ্ধে লড়াই করা অত্যন্ত কঠিন।

সোমবার যুক্তরাজ্য অন্যতম একটি উষ্ণ দিন দেখেছে। এদিন ইংল্যান্ডের সাফেকে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ দশমিক ১ সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। মঙ্গলবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ সেলসিয়াস ছাড়াতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়।

প্রচণ্ড উত্তাপে লন্ডনের লুটন বিমানবন্দরের রানওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর বেশ কয়েকটি ফ্লাইট স্থগিত করতে হয়। এর পাশাপাশি বেশ কয়েকটি ট্রেন সূচি বাতিল হওয়ায় যাতায়াতে গুরুতর ব্যাঘাত ঘটে।

সোমবার নেদারল্যান্ডসে বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। দেশটির দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ওয়েস্তদোর্পে তাপমাত্রা ৩৩ দশমিক ৬ সেলসিয়াসে উঠে। মঙ্গলবার তাপমাত্রা আরো বেড়ে দেশটির দক্ষিণাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে সর্বোচ্চ ৩৯ সেলসিয়াস পর্যন্ত হতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।

এ দাবদাহের মধ্যে স্পেন ও পর্তুগালে এ পর্যন্ত ১ হাজার জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার পর্তুগালে তাপমাত্রা ৪৭ সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়, যা জুলাইয়ের সর্বোচ্চ।

দেশটির জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর আইপিএমএ দেশের অধিকাংশ এলাকাজুড়ে সর্বোচ্চ অগ্নি সতর্কতা জারি করেছে। দাবানলের বিপদ থেকে বাঁচাতে উত্তরাঞ্চলীয় মুর্সা শহর থেকে ৩০০ বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দাবদাহ উত্তর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, সামনের দিনগুলোতে বেলজিয়াম ও জার্মানি ৪০ সেলসিয়াস তাপমাত্রা দেখতে পারে। স্পেনে অন্তত ২০টি দাবানল নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় আছে। উত্তর দিকে পর্তুগাল সীমান্তের কাছাকাছি পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থায় আছে।

বিশ্বব্যাপী সরকারগুলো ক্ষতিকর গ্যাস নির্গমণ হ্রাসের উদ্যোগ না নেওয়া পর্যন্ত তাপমাত্রা বাড়তেই থাকবে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

ইত্তেফাক/ইআ