রংপুর বিভাগের আট জেলায় বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ প্রায় অর্ধেক থাকায় ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে, রংপুর নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো)। নেসকোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, তালিকা অনুযায়ী কোনো এলাকায় ১ ঘণ্টা লোডশেডিং হলে তারপর সেখানে ২ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকবে। এলাকাভেদে লোডশেডিংয়ের পর ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকবে। বাস্তবে এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে না।
জানা গেছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিংয়ের সময়সূচি করা হলেও সেটি মানা সম্ভব হচ্ছে না। রংপুর বিভাগের জেলা শহরগুলোর তুলনায় উপজেলা ও পল্লী অঞ্চলের অবস্থা বেহাল। এতে লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদনশীল ও গুদামজাত কারখানাগুলো চালাতে বিপাকে পড়ছে মালিকপক্ষ। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব জেনারেটর দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে।
রংপুর নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) সূত্র জানায়, রংপুর বিভাগে পল্লী বিদ্যুৎসহ রাতে বিদ্যুতের চাহিদা ৯৫০ থেকে ১ হাজার মেগাওয়াট। দিনের চাহিদা ৭৬০ থেকে ৭৮০ মেগাওয়াট। বুধবার দিনে বিদ্যুতের সরবরাহ ৫০০ মেগাওয়াট। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাতে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৯০০ মেগাওয়াট। সেখানে সরবরাহ ছিল ৪৫০।
রংপুর নেসকো রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী শাহাদত হোসেন বলেছেন, রংপুর বিভাগের আট জেলায় চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে হাসপাতালসহ জরুরি আরও কিছু জায়গায় সবসময় বিদ্যুৎ-সরবরাহ রাখতে হচ্ছে। লোডশেডিংয়ের সময়সূচি করা হলেও কিছু কিছু সময় সেটি রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, আমরা তো বিদ্যুৎ ধরে রাখতে পারছি না, যা পাচ্ছি, তা-ই কোটা করে বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করছি। নিয়ম করা হলেও এমন অবস্থার মধ্যে আগে কখনো পড়তে হয়নি। তাই সবকিছু মেইনটেন করা সম্ভব হয়ে উঠছে না।
পঞ্চগড় জেলায় গতকাল রাতে বিদ্যুৎতের চাহিদা ছিল ৭৪ মেগাওয়াট। বরাদ্দ ছিল ৪২ মেগাওয়াট। আজ দিনে জেলায় বিদ্যুৎতের চাহিদা ৫৩ মেগাওয়াট। সরবরাহ হয়েছে ২৯ মেগাওয়াট। গাইবান্ধা জেলায় বিদ্যুৎতের চাহিদা ২৪ মেগাওয়াটের মিলেছে ১৩ মেগাওয়াট। গাইবান্ধা জেলায় প্রতিটি ফিডারের অধীন এলাকায় প্রতিদিন একঘণ্টা করে তিনবার লোডশেডিং হওয়ার কথা। তবে দিনে ও রাতে গাইবান্ধা শহরের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক দফায় একঘণ্টার বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না।
রংপুর বিভাগীয় জেলায় রাতে বিদ্যুৎতের চাহিদা ১৫০-১৫৫ মেগাওয়াট। সেখানে গতকাল রাতে বিদ্যুৎ-সরবরাহ ছিল ৭৫ মেগাওয়াট। রংপুরে গতকাল দিবাগত রাতে একাধিকবার ও আজ ভোরে অধিকাংশ স্থানে বিদ্যুৎ-সরবরাহ ছিল না বলে জানা গেছে।
বুধবার সকাল আটায় নগরীর ধাপ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে বিদ্যুৎ নেই। বিদ্যুৎ বিভাগের তালিকা অনুযায়ী এ এলাকায় বেলা ২টা থেকে ৩টা ও বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা লোডশেডিং হওয়ার কথা।
রংপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক সৈয়দ মামুনুর রহমান বলেন, দিনে ও রাতে অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। তাই জেনারেটর দিয়ে হাসপাতালের কার্যক্রম চালু রাখতে হচ্ছে।
রংপুর নগরীর ব্যবসা প্রধান এলাকা বেতপট্টিতে দুপুর ১২টার দিকে ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি দোকানে জেনারেটর চলছে। এই এলাকায় বিকেল ৫টা থেকে ৬টা পর্যন্ত লোডশেডিং হওয়ার কথা।
রংপুর জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী মনোয়ার রহমান বলেন, এমনিতেই রাত ৮টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যে দিনের অর্ধেকেরই বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। ফলে ব্যবসা হচ্ছে না। ক্রেতাদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে।
রংপুর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মোস্তফা সোহরাব চৌধুরী বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে জেনারেটর দিয়ে হিমাগার চালানো হচ্ছে। এতে করে হিমাগারের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। এ কারণে মজুদকৃত পণ্যের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। আলু বীজের সমস্যা আরও বেশি দেখা দিতে পারে।
রংপুর আঞ্চলিক নেসকোর কার্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী শাহাদত হোসেন বলেছেন, রংপুর বিভাগের আট জেলায় দিন-রাতে বিদ্যুৎ‘র চাহিদা ৯০০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে ৪৫০ মেগাওয়াট। এলাকা ভেদে লোডশেডিংয়ের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। নানা কারণে সেটিও রক্ষা করা সম্ভব হয়ে উঠছে না।
