প্রবল বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে চট্টগ্রামের নিচু এলাকা

পাহাড়ধসের আশঙ্কা

আপডেট : ২১ জুলাই ২০২২, ০১:৪৭

প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে চট্টগ্রাম নগরীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত মঙ্গলবার রাত থেকে গতকাল বুধবার দুপুর পর্যন্ত একটানা বৃষ্টিতে নগরীর নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পাহাড়ধসের আশঙ্কাও রয়েছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে নগরীতে তাপমাত্রা ছিল খুব বেশি। তাই শ্রাবণের প্রথম বৃষ্টি নগরবাসীকে কিছুটা স্বস্তি দিলেও ভোগান্তিও কম ছিল না।

বৃষ্টিতে নগরীর চকবাজার, কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা, রাহাত্তারপুল, চাঁদগাঁও, বাকলিয়া, চাক্তাই, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, প্রবর্তক মোড়, আগ্রাবাদ এক্সেস রোড, মা-শিশু ও জেনারেল হাসপাতাল এবং হালিশহরের নিচু এলাকায় রাস্তায় পানি জমে যায়। ভারী বর্ষণের কারণে সকালের দিকে সড়কে যানবাহন ছিল কম। যানবাহন স্বল্পতার কারণে বৃষ্টি মাথায় নিয়ে কর্মস্হলে যেতে গিয়ে বিপাকে পড়েন সাধারণ মানুষ। রিকশা ও অটোরিকশাচালকরা বৃষ্টির অজুহাত দেখিয়ে ইচ্ছামতো ভাড়া দাবি করেন।

ফলে বৃষ্টি মাথায় নিয়েই লোকজনকে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। রাস্তায় পানি জমে থাকায় খানাখন্দে পড়ে পথচারীরা দুর্ঘটনায় পড়েন। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টি হচ্ছে যা আরো কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

প্রবল বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কিছুদিন আগে টানা বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন স্হানে পাহাড়ধসে বেশ কয়েক জন হতাহত হওয়ার পর পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ স্হাপনা উচ্ছেদ ও বাসিন্দাদের নিরাপদ স্হানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়। তবে বর্তমানে সেই উদ্যোগে ভাটা পড়েছে। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে পুরোনো বাসিন্দারা আবার পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ বাসস্হানে ফিরে যাচ্ছেন।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন ১৭টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে ৮৩৫টি পরিবার বসবাস করছে। অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণভাবে ব্যক্তিমালিকানাধীন ১০টি পাহাড়ে অবৈধভাবে বসবাসকারী পরিবারের সংখ্যা ৫৩১। সরকারি বিভিন্ন সংস্হার মালিকানাধীন সাতটি পাহাড়ে অবৈধ বসবাসকারী পরিবারের সংখ্যা ৩০৪। এসব পাহাড়ে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ৫ হাজারের অধিক। স্হানীয় প্রভাবশালীরা নির্বিচারে পাহাড় কাটছে। ফলে বৃষ্টি হলেই পাহাড়ের মাটি ধসে দুর্ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনার পর প্রশাসন কিছুটা তত্পরতা দেখালেও যতই দিন গড়ায় ততই তাদের তত্পরতা কমতে থাকে।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি