ব্যাংক, বীমাসহ সব অফিস-আদালত খুলে যাওয়ায় ঈদের ছুটি কাটিয়ে রাজধানীতে ফিরছেন কর্মজীবী মানুষ। কিন্তু রেলপথে কর্মস্থলে ফিরতে তাদের পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ থাকায় বুধবার (২১ জুলাই) রাতে অনেক যাত্রীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে অবস্থান নিতে দেখা যায়; কেউ কেউ দরজার লোহার রডে ঝুলে, আবার কেউ কেউ ইঞ্জিনের সামনে চেপে গন্তব্যে ফিরছেন। টিকিটের অভাবে স্ত্রী-সন্তানদের গ্রামের বাড়িতে রেখেই একাই ফিরেছেন কর্মস্থল ঢাকায়।
ভুক্তভোগীরা জানান, কেবল ট্রেনেই নয়, স্টেশনেও তারা ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেন থেকে নামার পর কর্মরত এক শ্রেণির আনসার ও রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নাজেহাল ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, টিকিট তল্লাশীর নামে যাত্রীদের কাছ থেকে তারা টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
বুধবার রাতে সরেজমিনে ফুলবাড়ী রেলস্টেশন ঘুরে কয়েকটি আন্ত:নগর ট্রেনের যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে নানা অভিযোগ পাওয়া যায়। নীলফামারী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্ত:নগর নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ফুলবাড়ী রেল স্টেশনে পৌঁছানোর পর টিকিট ধারী যাত্রীরা ট্রেনে ওঠা নিয়ে পড়তে হয় চরম বিড়ম্বনায়। কোন কামরারই দরজা ফাঁকা ছিল না। দরজার কাছেই অন্তত শতাধিক লোক জটলা করে দাঁড়িয়ে আছে। সেইসব দরজা দিয়ে যাত্রীদের ওঠা দুরহ ব্যাপার। ফলে অনেক যাত্রীই ট্রেনে উঠতে না পেরে বাড়ী ফিরে যান। আর সেইসব টিকিটধারী যাত্রীদের ফেলে রেখেই চলে যায় ট্রেনটিও।
ওই ট্রেনের যাত্রী আনছার আলীসহ একাধিক যাত্রী বলেন, ঈদের ছুটি শেষ হওয়ায় ঢাকায় কর্মস্থলে ফিরতে হচ্ছে। কিন্তু যাত্রীদের চাপে ট্রেনের ভেতরে ঢোকার কোনো সুযোগ ছিল না। চাকরি বাঁচাতে বাধ্য হয়ে ট্রেনের ছাদে কিংবা ইঞ্জিনে কর্মস্থলে ফিরতে হচ্ছে। যাত্রীদের অভিযোগ, ট্রেন আসা থেকে শুরু করে ট্রেন ছেড়ে যাওয়া পর্যন্ত স্টেশনে কর্মরত সংশ্লিষ্ট কেউই যাত্রীদের জন্য কোন কাজে আসেন না। এ কারণে টিকিটের যাত্রী ছেড়ে দিয়েই ট্রেন চলে গেলেও স্টেশন মাস্টারসহ কারই কোন মাথা ব্যথা নেই।
ফুলবাড়ী রেল স্টেশনের স্টেশন মাস্টার ইসরাফিল সরকার বলেন, স্টেশনে জনবল কম থাকায় ইচ্ছা থাকলেও যাত্রীদের চাহিদানুযায়ী সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। ট্রেনের ছাদে, বাম্পারে ও ইঞ্জিনের যাত্রী ওঠা নিঃশেষ থাকলেও অনেকে তা মানছেন না। ঈদ উপলক্ষে গন্তব্যে ফেরার চাপ বেশি থাকায় যাত্রীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়েই এভাবে গন্তব্যে ফিরছেন।
