‘মোবাইল ফোন অপারেটররা শুধু গ্রাহক বাড়াতে চায়, সেবার দিকে তাদের আগ্রহ কম। ফলে দিন দিন সেবার মান খারাপ হচ্ছে।’ বৃহস্পতিবার টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক, বাংলাদেশ-টিআরএনবি আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেছেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, সেবার মান উন্নত করতে সব অংশিজনকে তাদের অবকাঠামো ভাগাভাগি করতে হবে। এতে টেলিযোগাযোগ খাতে বিদ্যুৎ ব্যবহারও কমে আসবে। ব্যয়ও সাশ্রয় হবে।
মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে আয়োজিত এই আলোচনায় বক্তব্য রাখেন বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান শ্যামসুন্দর সিকদার, বিটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. রফিকুল মতিন, টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাহাব উদ্দিন, ফাইবার অ্যাট হোমের চেয়ারম্যান মঈনুল হক সিদ্দিকী, ইডটকো’র কান্ট্রি ম্যানেজিং ডিরেক্টর রিকি স্টেইন, ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবি’র সভাপতি এমদাদুল হক, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম ভূঞাঁ, গ্রামীণফোনের হেড অব রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স হোসেন সাদাত, বাংলালিংকের চিফ রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তৈমুর রহমান, রবি’র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট অনামিকা ভক্ত।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টেলিযোগাযোগ খাত বিশ্লেষক টি আই এম নুরুল কবীর। বিশেষজ্ঞ হিসেবে আলোচনা করেন বিআইডিএস-এর গবেষণা পরিচালক মনজুর হোসেন।
টিআরএনবি সভাপতি রাশেদ মেহেদীর সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাসুদুজ্জামান রবিন। অনুষ্ঠানে মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটবের মহাসচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এস এম ফরহাদও উপস্থিত ছিলেন।
মূল প্রবন্ধে টি আই এম নুরুল কবীর বর্তমানে প্রতিবেশী ভারতসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘টেলিযোগাযোগ খাতে অবকাঠামো ভাগাভাগির মাধ্যমে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ব্যয় সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশেও অবকাঠমো ভাগাভাগি বাধ্যতামূলক করা হলে একইভাবে ব্যয় সাশ্রয় করা সম্ভব।’ তিনি এ বিষয়ে সরকারের নীতি নির্ধারক মহলকে ‘অ্যক্টিভ শেয়ারিং’ বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেন।
টেলিকম বিশেষজ্ঞ মনজুর হোসেন বলেন, ‘উইন উইন সিচ্যুয়েশনে একই টাওয়ার শেয়ার করে অনেকে ব্যবহার করলে সেখানে বিনিয়োগের অর্থ অন্য খাতে ব্যবহার করা যাবে। এতে সেবার মান বাড়বে। তাদের খরচও কমবে।’
টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘মোবাইল ফোন অপারেটরদের যে টাওয়ার আছে তা টাওয়ার কোম্পানিকে ছেড়ে দেন। এতে বড় ধরনের ইনভেস্টমেন্ট কমে যাবে। সেই অর্থ সেবার গুণগতমান উন্নত করতে ব্যবহার করতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, আমরা চেষ্টা করছি এই নীতিমালা দ্রুত করবো।’ যতদিন নীতিমালা চূড়ান্ত না হবে ততদিন সেবাদাতাদের বিটিআরসির অনুমতি নিয়ে শেয়ারিং করার পরামর্শ দেন তিনি।
বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান শ্যামসুন্দর সিকদার বলেন, ‘মোবাইল ফোন অপারেটররা সেবার চেয়ে গ্রাহক বাড়াতেই বেশি মনোযোগী। এখানে সমন্বয়হীনতা আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, খরচ সাশ্রয় করতে গেলে অবকাঠামো শেয়ারিং করতেই হবে।’
বিটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল মতিন বলেন, ‘পৃথকভাবে বিনিয়োগ না করে অবাকাঠামো ভাগাভাগির মাধ্যমে মাধ্যমে কীভাবে সাশ্রয়ী মূল্যে জনগণকে সেবা দেওয়া যায়, তা নীতি নির্ধারকদের দেখতে হবে।’
