রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনা কলেজ অধ্যক্ষকে পেটানোর অভিযোগ এবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) তদন্ত করছে। মাউশির কলেজ ও প্রশাসন উইংয়ের পরিচালক প্রফেসর মো. শাহেদুল চৌধুরী রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. কামাল হোসেনকে বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় মাউশির বেসরকারি কলেজ শাখার উপ-পরিচালক (কলেজ-২) মো. এনামুল হক হাওলাদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, পরিচালক বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। মাউশির রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. কামাল হোসেন তদন্ত করবেন। তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোন চিঠি পাননি বলে জানিয়েছেন কামাল হোসেন। এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি।
গত ৭ জুলাই এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী তার রাজনৈতিক অফিসে গোদাগাড়ীর রাজাবাড়ী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. সেলীম রেজাকে পিটিয়ে আহত করেন বলে অভিযোগ উঠে। এ খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সারাদেশে তোলপাড় শুরু হয়। তবে ১৪ জুলাই অধ্যক্ষ সেলীম রেজা সাংবাদিকদের সামনে এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর উপস্থিতিতে তাকে এমপি ফারুক চৌধুরী কর্তৃক মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেন।
আর অধ্যক্ষ দাবি করেন, এমপি মারেননি। এমপির কার্যালয়ে অধ্যক্ষদের নিজেদের মারামারিতে আহত হয়েছেন তিনি।
পরদিন একটি ফোনকল রেকর্ড সামনে আনেন, এমপি ফারিক চৌধুরীর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান আসাদ। সেখানে অধ্যক্ষ সেলীম রেজাকে এমপির মারধরের বর্ণনা দিতে শোনা যাচ্ছে। গোদাগাড়ীর দেওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান আক্তারের সঙ্গে তার ওই কথোপকথন। আখতারুজ্জামান ওই কথোপকথনের সত্যতা নিশ্চিত করলেও অধ্যক্ষ দাবি করেছেন, তার কণ্ঠ নকল করে অডিওটি তৈরি করা হয়েছে।
এদিকে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্তে গত ১২ জুলাই তদন্ত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এ কমিটি টানা কয়েকদিন রাজশাহীতে থেকে তদন্ত কাজ শেষ করেছে। ঘটনা নিশ্চিত হতে তদন্ত কমিটি এ বিষয়ে কথা বলেছে সংশ্লিষ্ট ৫০ জনেরও বেশি মানুষের সঙ্গে।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তদন্ত কমিটির প্রধান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেন বলেন, ‘আমরা মাঠপর্যায়ের তদন্ত কাজ শেষ করেছি। এখন প্রতিবেদন লেখার কাজ চলছে। এটা শেষ হলেই তদন্ত প্রতিবেদন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে জমা দেওয়া হবে।’ তদন্তে কী পাওয়া গেছে তা এখনই জানাতে চাননি তিনি।

মারপিটের শিকার হইনি: অধ্যক্ষ সেলিম রেজা