ইউরোজোনের দেশগুলোতে বাড়তে থাকা মূল্যস্ফীতির রাশ টেনে ধরতে এবার ১১ বছরের মধ্যে প্রথম সুদের হার বাড়িয়েছে ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংক (ইসিবি)। বৃহস্পতিবার ইসিবি তাদের মূল সুদের হার ০.৫ শতাংশ পয়েন্ট বাড়িয়েছে। এক দশকের মধ্যে প্রথম একলাফে সুদের হার এতটা বেড়ে যাওয়া অনেকটাই অপ্রত্যাশিত।
এ বছরের শেষ দিকে এই হার আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে জিনিসের দাম। এক বছর আগের তুলনায় এক বোতল দুধের দামও অনেক বেড়ে গেছে। ইউরোজোনে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬ শতাংশে। জিনিসের দাম বাড়তে থাকায় ব্যাংক অব ইংল্যান্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকসহ বিশ্বব্যাপী সেন্ট্রাল ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়াচ্ছে। ইউক্রেনে যুদ্ধ এবং কোভিড মহামারির কারণে জ্বালানি, খাবারের দাম বেড়ে গেছে। এতে মানুষের জীবনযাত্রার ওপর চাপ বেড়েছে এবং অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। কারণ, ইইউ দেশগুলো প্রচণ্ডভাবে রাশিয়ার তেল এবং গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল।
ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক অবনতির প্রেক্ষাপটে মস্কো জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে বলে দেশগুলো উদ্বিগ্ন। রাশিয়া সরবরাহ বন্ধ করে দিলে সেক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্হার জন্য প্রস্তুত থাকতে ইইউ এরই মধ্যে সদস্যদেশগুলোকে পরামর্শ দিয়েছে। ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংক (ইসিবি) ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক সংকটের পর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গতি সঞ্চার করতে সুদের হার কমাতে শুরু করেছিল। এভাবে কমতে কমতে কোভিডের সময় সুদের হার দাঁড়িয়েছিল মাইনাস ০ দশমিক ৫ শতাংশে।
কিন্তু এ বছরের শুরুর দিকে ইসিবি সুদের হার আবার বাড়ানোর আভাস দেয়। যদিও এই জুলাইয়ে সুদের হার কেবল শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ পয়েন্ট বাড়বে বলেই ধারণা করেছিলেন অর্থনীতিবিদরা। কিন্তু সুদের হার বেড়েছে তার চেয়ে বেশি। ইসিবি বলেছে, সুদের হার আরো বাড়ানোটা যথোপযুক্ত পদক্ষেপই হবে। ফলে সুদের হার বাড়াতে তারা একের পর এক বৈঠক করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় কাজ করবেন।
