ফুটবলের মাধ্যমে দারিদ্র্য মোচনের পথটা ব্রাজিলে অনেক পুরনো। পেলে থেকে শুরু করে কত কিংবদন্তিই না আছেন সেই তালিকায়। সাম্বা নৃত্যের মতো ফুটবলও দেশটির প্রতীক। তাই প্রতিভার কমতি নেই সেখানে। তেমনই এক প্রতিভার নাম জুয়েল এনড্রিক।
বয়স গত পরশু ১৬ এর কোটায় পা রাখল। ব্রাজিলের এই বিস্ময়বালককে কোনোভাবেই চোখের আড়াল করছে না দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা। নজর আছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ম্যানচেস্টার সিটি, লিভারপুলেরও। কেন?
কারণটা বলে নেওয়া যাক। পেশাদার ফুটবলে এখনো অভিষেক হয়নি। তবে যুব স্তরে যা করেছেন, তাতেই তাকে নিয়ে ভাবতে বাধ্য হয়ে গেছে সংবাদ মাধ্যমগুলো। ১৭২ ম্যাচে ১৭০ গোলের কথা শুনে চোখ কপালে উঠে যাওয়ার কথা। ব্রাজিলের যুবাদের বিখ্যাত টুর্নামেন্ট কোপিনিয়ার সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন এই বছর। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা তার ছবি এখন পর্যন্ত তিন বার ‘ফ্রন্ট পেজে’ ছাপিয়েছে। যা অনেক ফুটবলারদের কাছে এখনো স্বপ্ন। সেখানে এনড্রিকের এখনো পেশাদার ফুটবলে অভিষেকই হয়নি। ১৬তম জন্মদিনে চুক্তি করেছেন ব্রাজিলিয়ান ক্লাব পালমেইরাসের সঙ্গে। মিডিয়ার হাইপ খুব বেশি হলেও এখনই ইউরোপিয়ান ফুটবলে খেলার সুযোগ হচ্ছে না তার।
ব্রাজিলের নিয়ম অনুযায়ী কোনো ফুটবলারই ১৮ বছর বয়সের আগে ইউরোপিয়ান ফুটবলারে নাম লেখানোর সুযোগ নেই। কিন্তু এর আগেই তাকে নিয়ে মাতামাতি প্রায় আকাশচুম্বী। অনেকেই তাকে ভবিষ্যতের নেইমার হিসেবে মনে করছেন। কেউ কেউ আবার কাতার বিশ্বকাপের দলেই দেখতে চাইছেন এনড্রিককে। মিডিয়ার এই হাইপ নিয়ে অবশ্য খুব একটা মাথা ঘামাচ্ছেন না এই সেন্টার ফরোয়ার্ড, ‘হাইপের সঙ্গে কীভাবে মানিয়ে নেই? নিজেকে মনে করানো চেষ্টা করি যে আমি খুবই তরুণ, এখনো শিষ্য এবং এটা কেবল একটা ম্যাচই। আমি তা সিরিয়াসলি নিতে চাই না। হ্যাঁ অবশ্যই আমি আমার ক্যারিয়ারের ব্যাপারে সিরিয়াস হতে চাই তবে খেলার সময় আমি যতটা সম্ভব উপভোগ করতে চাই।’
এনড্রিকের জীবন এখন অনেকটাই গোছানো। কিন্তু শুরুটা এমন ছিল না। প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটাতে প্রচুর কঠিনতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। পরিবার আর্থিকভাবে সচ্ছল না হওয়া বেশির ভাগ সময়ই ভুগতে হয়েছে ক্ষুধার কষ্টে, ‘আমি কিছু অনুশীলন পর্বে উপস্থিত থাকতে পারিনি কারণ বাসভাড়া দেওয়ার জন্য আমাদের কাছে যথেষ্ট টাকা ছিল না। এটা একটা সমস্যা ছিল কিন্তু টাকা না থাকায় হাতে সমাধানও ছিল না। আমার জন্য দীর্ঘ এবং খুব কঠিন এক যাত্রা ছিল এবং আমি শুধুমাত্র কয়েক জন খেলোয়াড়দের জানি যারা যাত্রা শুরু করেছে এবং আমি এটি সম্পূর্ণ করেছি।’
সমবয়সিদের সঙ্গে খেলার সময় খুব একটা পরিশ্রম করা লাগতে না এনড্রিকের। তাই বয়সে বড়দের সঙ্গে খেলে নিজেকে আরো পোক্ত করেছেন এই সেন্টার ফরোয়ার্ড। বল পায়ে মুগ্ধতা ছড়িয়ে ১১ বছর বয়সে সুযোগ করে নেন পালমেইরাস একাডেমি দলে। কিছুদিন আগে তার বাইসাইকেল কিক গোল দেখে প্রশংসায় পঞ্চমুখ কিংবদন্তি ইংলিশ ফুটবলার গ্যারি নেভিল। তবে তাতে হাওয়ায় না ভেসে পা মাটিতেই রাখছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে আদর্শ মানা এনড্রিক, ‘আমি জানি আমি এখনো ঐ পর্যায়ে যাইনি, আমাক প্রচুর কাজ করতে হবে। আমি ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাই। আমাকে নম্র থাকতে হবে এবং যে কঠিনতার মধ্য দিয়ে গেছি তা মনে রাখতে হবে। এটাই আমাকে চালিয়ে যাওয়ার শক্তি দেয়।’
